Headlines
Loading...
২৯ এপ্রিল পর্যন্ত সমস্ত মদের দোকান ও মদ বিক্রি বন্ধ করার নির্দেশিকা জারী

২৯ এপ্রিল পর্যন্ত সমস্ত মদের দোকান ও মদ বিক্রি বন্ধ করার নির্দেশিকা জারী



ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ দেশ জুড়ে লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হবার পর অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়েও ব্যাপকভাবেই চোলাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। শনিবারই লোকসভা নির্বাচন সংক্রান্ত সাংবাদিক বৈঠকে জেলাশাসক জানিয়েছেন, সোমবার বর্ধমান জেলায় লোকসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাই শনিবার বিকাল ৬ টা থেকেই গোটা জেলা জুড়ে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত সমস্ত মদ বিক্রি বন্ধ করার নির্দেশিকা জারী করা হয়েছে। 

অন্যদিকে,জেলা আবগারী দপ্তরের আধিকারিক শশীভূষণ তেওয়ারী জানিয়েছেন, গত ১০ মার্চ নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হবার পর থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত গোটা জেলা জুড়ে চোলাইয়ের বিরুদ্ধে যে বিশেষ হানাদারি চালানো হয়েছে তাতে মোট ৮৩৬টি জায়গায় তাঁরা হানাদারি চালিয়েছেন। তার মধ্যে ২৫৯টি কেস রুজু হয়েছে। ১জন মহিলা সহ ৭৭জন পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৪৪৮০ লিটার চোলাই মদ এবং ৩২ হাজার ৫৩৫ লিটার চোলাই তৈরীর উপকরণ। এছাড়াও ২০ লিটার বিদেশী মদ এবং ১৭০ লিটার দেশী মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, তিনি জানিয়েছেন, পূর্ব বর্ধমান জেলায় মোট ৩২৬টি লাইসেন্স প্রাপ্ত মদের দোকান রয়েছে। নির্বাচনের জন্য এই দোকানগুলিকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে, জেলা আবগারী দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব বর্ধমান জেলায় যখনই কোনো হানাদারি হয়েছে এবং চোলাই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে আদালতের নির্দেশানুসারে সেই সমস্ত চোলাইয়ের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য কলকাতায় পাঠানো হয়েছে। আর কার্যত প্রতিটি ক্ষেত্রেই ল্যাবরেটরী থেকে যে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে তাতে পরিষ্কারভাবেই উল্লেখ করা হয়েছে, এই চোলাই মদ মানব শরীরের জন্য নয় এবং তা চরম মাত্রাতেই ক্ষতিকর। বস্তুত, কলকাতার সরকারী পরীক্ষাগার থেকে বারবার এই রিপোর্ট আসলেও চোলাইয়ের কারবার অনেকাংশে কমলেও তা বন্ধ না হওয়ায় জনসচেতনতার অভাবকেই দায়ী করছেন আবগারী দপ্তরের কর্তারা।

কলকাতার কেমিক্যাল এক্সামিনেশন ল্যাবরেটরী বারবার জানাচ্ছেন পূর্ব বর্ধমান জেলায় যে চোলাইয়ের কারবার চলছে সেই চোলাই মদ মানব শরীরের পক্ষে মোটেও উপযুক্ত নয়। অথচ তা সত্ত্বেও চলছেই চোলাই মদের কারবার। এই ঘটনায় রীতিমত উদ্বিগ্ন জেলা আবগারী দপ্তরও। বস্তুত, গোটা রাজ্য জুড়েই চোলাইয়ের রমরমা থেকে মাঝে মাঝেই বিষমদে মৃত্যুর জের – অনেকাংশে চোলাইয়ের কারবার কমলেও এখনও নির্মূল হয়নি। অথচ খোদ সরকারী পরীক্ষাগার বারবার জানাচ্ছে এই চোলাই মানুষের মোটেও খাদ‌্য নয়। তাঁরা জানিয়েছেন,গোটা বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষ যদি এগিয়ে আসে তাহলেই এই বিষাক্ত পানীয়ের কারবার বন্ধ করা সম্ভব। 

শশীভূষণবাবু জানিয়েছেন, লাগাতার অভিযান চালানোর ফলে পূর্ব বর্ধমান জেলায় চোলাইয়ের কারবার অনেকাংশেই তাঁরা বন্ধ করতে পেরেছেন। তা সত্ত্বেও এখনও চোরাগোপ্তা কারবার চলছেই। আর জেলা থেকে এই কারবার নির্মূল করতে হলে প্রয়োজন জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসা। তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনিক স্তরে এব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

0 Comments: