728x90 AdSpace

Latest News

Wednesday, 24 April 2019

২০১৬ কে ছাপিয়ে বর্ধমানে মমতার পদযাত্রায় জনজোয়ার,,পালে হাওয়া তৃনমূলের!


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ চলতি সপ্তাহের প্রথম দিন অর্থাৎ সোমবারই তিন তিনটি নির্বাচনী জনসভা করে গেছেন। তবু ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফের বুধবার বিকেলে খোদ বর্ধমান শহরে প্রচার পদযাত্রা করে রীতিমত ঝড় তুলে দিয়ে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কার্যত বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা আসনটিকে যে তিনি পাখির চোখ করেছেন এদিনের পদযাত্রায় সেটাই জানিয়ে দিয়ে গেলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়,বুধবার বিকাল প্রায় ৪টে নাগাদ বর্ধমান শহরের স্পন্দন মাঠে হেলিকপ্টার থেকে নেমে তিনি প্রায় ৪ কিমি হাঁটলেন বর্ধমান শহরের লাইফ লাইন ধরে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের পর ২০১৯ সাল - ঠিক ৩ বছর আগে বিধানসভা নির্বাচনের সময় গোটা শহর কাঁপিয়ে মমতা বন্দোপাধ্যায় যে রোড শো করেছিলেন এদিনের রোড শোয়ে জনতার ভীড় তাকেও ছাপিয়ে গেল। দ্রুত পায়ে তিনি যতই এগিয়েছেন ততই রাস্তার দুধার থেকে শংখধ্বনি, উলুধ্বনি দিয়েছেন মহিলারা। কেউ কেউ ছুঁড়েছেন ফুলও। মাঝে মাঝেই তিনিও ছুটে গেছেন রাস্তার দুপাশে দুহাত বাড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর সঙ্গে হাত মেলাতে। এমনকি সদা সতর্ক নজর ছিল তাঁর রাস্তার দুপাশের বাড়ির ছাদে, জানালায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর দিকেও। তাঁদের উদ্দেশ্যে দুহাত দিয়ে নমষ্কার জানিয়েছেন ক্রাউড পুলার মমতা বন্দোপাধ্যায়। কার্যত পদযাত্রা যতই এগিয়েছে ততই বেড়েছে পিছনে মানুষের সারি।

 
উল্লেখ্য, বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা আসনে চলতি মুহূর্তে তৃণমূলের সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ বিজেপি। আর তাই সোমবার বর্ধমানের দেওয়ানদিঘীতে নির্বাচনী প্রচার সভায় এসে কংগ্রেস এবং সিপিএম সম্পর্কে একটিও বাক্য খরচ না করেই তিনি কঠোর সমালোচনা করেছিলেন বিজেপির বিরুদ্ধেই। আর সোমবারের পর বুধবার কার্যত বর্ধমান শহরে পদযাত্রা করে বিরোধীদের রীতিমত জানান দিয়ে গেলেন তিনিই এখনও এই রাজ্যের একমাত্র রাজনৈতিক মুখ। 

এদিন জনাকীর্ণ বর্ধমান শহরের লাইফ লাইন জিটিরোডের দুধারে ছিল কেবলই কালো মাথার সারি। কার্যত মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমোর এই পদযাত্রাকে ঘিরে এদিন দুপুর প্রায় আড়াইটে থেকেই ষ্টেশন মোড় থেকে উল্লাস পর্যন্ত সমস্ত যানবাহনকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে চুড়ান্ত দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন অসংখ্য যাত্রী। বিকাল প্রায় ৩টে বেজে ৫৫ মিনিট নাগাদ বর্ধমানের স্পন্দন মাঠে তাঁর হেলিকপ্টার নামে। এরপর সেখান থেকে বেড়িয়ে তিনি রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে থাকা কাতারে কাতারে মানুষকে নমষ্কার, প্রতি নমষ্কার করে এগোতে থাকেন। এই সময় মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা কর্তব্যরত সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকদের রীতিমত ঘুষি মেরে রাস্তা থেকে হঠিয়ে দেবার চেষ্টাও করেন। চূড়ান্ত দুর্ব্যবহারের শিকার হন সংবাদ মাধ্যম। ভেঙ্গে যায় এক সাংবাদিকদের ক্যামেরাও। তা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রতিবাদ করলে বিষয়টি বুঝতে পেরে মমতা বন্দোপাধ্যায় চলা থামিয়ে দেন। সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাংবাদিকদের কাছে ছুটে আসেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বর্ধমান জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক অরুপ বিশ্বাস। নিরাপত্তার নামে সাংবাদিকদের ওপর এভাবে পুলিশের চড়াও হবার বিষয়টি নিয়ে চুড়ান্ত নিন্দা করেছেন সাংবাদিক সংগঠনগুলিও। 

এদিকে, এই ঘটনার পর ফের পদযাত্রা শুরু করেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে পা মেলান মন্ত্রী তথা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি স্বপন দেবনাথ, বর্ধমান দুর্গাপুর আসনের প্রার্থী ডা. মমতাজ সংঘমিতাও। পদযাত্রা গিয়ে শেষ হয়েছে পুলিশ লাইনে। আর সেখান থেকেই তিনি রওনা হয়ে যান কলকাতার উদ্দেশ্যে।
২০১৬ কে ছাপিয়ে বর্ধমানে মমতার পদযাত্রায় জনজোয়ার,,পালে হাওয়া তৃনমূলের!
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top