728x90 AdSpace

Latest News

Saturday, 30 March 2019

বর্ধমানে শনিবারসীয় প্রচারে জমে উঠল ভোটের ময়দান, খুলে গেল সিপিএমের পার্টি অফিস


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ শিয়রে ভোট। আর তাই স্বাভাবিকভাবেই জোর কদমে মাঠে নেমে পরেছে সমস্ত রাজনৈতিক দল। ফেস্টুন, ব্যানার, দেওয়াল লিখন থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারে ঝড় তুলেছে শাসক থেকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়েও শুরু হয়ে গেছে প্রার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন দলের ভোট প্রচার। এরই মধ্যে সমানে চলছে এক দল থেকে আরেক দলে যোগদানের হিড়িক।


শনিবার পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না ১ নম্বর ব্লকের নতু অঞ্চলে বিজেপির আদিবাসী যুব মোর্চার বর্ধমান জেলার সভাপতি দীনবন্ধু বাস্কে ও ঝাড়খণ্ড দিশম পার্টির সভাপতি শ্রীকান্ত মুরমু যৌথভাবে প্রায় ২৫০ জন আদিবাসী পুরুষ ও মহিলাদের নিয়ে বিধায়ক নেপাল ঘোড়ূই এর হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করলেন। এদিন বিধায়কের উদ্যোগে তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ধমান পূর্বের প্রার্থী সুনিল মন্ডলের সমর্থনে একটি বিশাল মিছিলও এলাকায় বের করা হয়। দীনবন্ধু বাস্কে এদিন জানিয়েছেন, '১২ বছর ধরে আমি এই বিজেপি পার্টি করছি, তবু আদিবাসীদের কোন উন্নয়ন করেনি এরা। তাই বিতৃষ্ণা থেকে আজ রায়নার বিধায়কের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলাম এবং আমার সঙ্গে প্রায় আড়াইশো জন মহিলা ও পুরুষ তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করল।'


অন্যদিকে বর্ধমান দুর্গাপুর কেন্দ্রের দ্বিতীয় বারের তৃনমূল এর প্রার্থী ৭৩ বছর বয়সী মমতাজ সংঘমিতা ফের একবার আগামী ৫ বছরের জন্য ফসল তুলতে দিন রাত এক করে দিয়েছেন। রীতিমত ভোটের একমাস আগেই সিংহভাগ ঘর গুছিয়ে নিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, নিজের নির্বাচন কেন্দ্রের অধীন অলিগলি, গ্রাম গ্রামান্তরে সকাল থেকেই চষে বেড়াচ্ছেন জনসংযোগের কাজে। শনিবার বর্ধমান শহরে উৎসব ময়দান থেকে দলের কয়েক হাজার মহিলা কর্মীদের নিয়ে এক বিশাল মিছিলে হাঁটলেন প্রার্থী মমতাজ  সংঘমিতা। তিনি একা নন, সঙ্গে পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর তথা দলনেত্রি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ কর্মী জেলা সভাপতি ৬৭ বছরের তরুণ স্বপন দেবনাথ কে। দুজনেই সমান তালে সবাইকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে চলেছেন চুড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতিতে। কখনও তিনি বর্ধমান পূর্ব লোকসভার প্রার্থী সুনীল মণ্ডলের জন্য আবার পরক্ষণেই তিনি মমতাজ সংঘমিতার জন্য কখনও পদযাত্রায়, কখনও দলীয় কর্মীসভায় আবার কখনও নির্বাচনী প্রচারে। তবে রীতিমত তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মমতাজ সংঘমিতা। তাঁর বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত যাঁরা প্রতিপক্ষ হিসাবে খাড়া হয়েছেন তাঁরা প্রায় সকলেই পুত্রসম। বয়সে তাঁরা অনেকটাই ছোট। কিন্তু তাই বলে থেমে থাকার পাত্রী তিনি নন। এবারের ভোটে রীতিমত তিনি জোর দিয়েছেন ছোট ছোট কর্মীসভার ওপর। এলাকায় এলাকায় গিয়ে তিনি কর্মীদের সঙ্গে মিলিত হচ্ছেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলছেন। চাওয়া পাওয়ার হিসাব নিচ্ছেন। 


এদিকে, বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা আসনে যখন তৃণমূল প্রার্থী রীতিমত চড়কির মত ঘুরছেন তখনও রাজ্যের প্রধান বিরোধী মুখ হিসাবে উঠে আসা বিজেপি এখনও বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা আসনে প্রার্থীই ঘোষণা করতে পারেনি। আর এতে সক্রিয় কর্মীরা যে কিছুটা হলেও ঝিমিয়ে পড়ছে সেকথা স্বীকার করে নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ। যদিও তাতে থেমে নেই বর্ধমানের গেরুয়া শিবির। কর্মী - নেতৃত্বকে অক্সিজেন যোগাতে তাঁরাও প্রতিদিনই মণ্ডলে মণ্ডলে কর্মীসভা করে কর্মীদের চাঙ্গা্ রাখছেন। খোদ দলের জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দী জানিয়েছেন, তাঁরা তৈরী রয়েছেন। কর্মীরাও তৈরী রয়েছেন। যে মূহূর্তে প্রার্থীর নাম ঘোষণা হবে তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়বেন।



অন্যদিকে, বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা আসনের কংগ্রেস প্রার্থী তথা রাহুল বিগ্রেডের অন্যতম সদস্য রণজিত মুখোপাধ্যায়ও বাইরের প্রচারের আগে ঘর গোছানোর কাজে কোমড় বেঁধে নেমে পড়েছেন। বর্ধমান শহর সহ নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রগুলিতে বিধানসভা ভিত্তিক কংগ্রেস কর্মীদের নিয়ে বৈঠক শুরু করে করে দিয়েছেন। আপাতত সমস্ত কংগ্রেস কর্মীকে অক্সিজেন জুগিয়ে মাঠে নামানোই তাঁরা ইতি কর্তব্য বলে মনে করছেন। বাদ নেই বর্ধমান পূর্বের কংগ্রেস প্রার্থী সিদ্ধার্থ মজুমদারও। তিনিও তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রে কর্মী বৈঠকে জোড় দিয়েছেন। পাশাপাশি জনসংযোগে চলছে মিছিলও।



এরই মধ্যে শনিবার বর্ধমানের দেওয়ানদীঘিতে দীর্ঘ প্রায় সারে তিন বছর বন্ধ থাকার পর নতুন করে খোলা হল সিপিএম এর পার্টি অফিস। কয়েকশ কর্মী সমর্থকের উপস্থিতিতে এদিন এই দলীয় কার্যালয়ের দারদ্ঘাটন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলা নেতা গনেশ চৌধুরী। উল্লেখ্য, ২০১২ সালে সিপিএম নেতা প্রদীপ তা খুন হয়ে যাবার পর থেকে এই দলীয় কার্যালয় বন্ধ ছিল। মাঝে কয়েকমাস এটি খুললেও শাসক দলের দাদাগিরিতে পরবর্তীতে আবার সেটি বন্ধ করে দিতে হয়েছিল বলে জেলা সিপিএম সুত্রে খবর।

    
বর্ধমানে শনিবারসীয় প্রচারে জমে উঠল ভোটের ময়দান, খুলে গেল সিপিএমের পার্টি অফিস
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top