728x90 AdSpace

Latest News

Sunday, 31 March 2019

লোকসভা ভোটের মুখে সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদের ফেসবুক পোস্ট কে ঘিরে বিতর্ক


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ লোকসভার নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে ততই তেড়েফুঁড়ে উঠছে যুযুধান রাজনৈতিক দলগুলি। কিভাবে ভোটারদের কাছে টানা যায় তার নানান কৌশলও বের করে প্রচারাভিযান চালাচ্ছে শাসক ও বিরোধী দলগুলি। আকর্ষণীও দেওয়াল লিখন, রোড শো, কর্মী বৈঠক থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়াতেও ঝড় তুলছে প্রচারের। উল্লেখযোগ্য ভাবে এবারে প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক দলই বিশেষভাবে জোড় দিয়েছে কর্মীদের নিয়ে বৈঠকে। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস রীতিমত জোড় দিয়েছে এই কর্মী বৈঠকে। কারণ দলের ভেতরের চোরাস্রোত যাতে দলীয় প্রার্থীকে কোনোভাবেই বিপদে ফেলতে না পারে সেজন্যই প্রতিটি বুথে চলছে কর্মী বৈঠক। 


সাম্প্রতিককালে তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি স্বপন দেবনাথ বারবার কর্মীদের উদ্দেশ্যে গ্রামের বাউড়ি পাড়ায়, দাসপাড়ায় গিয়ে চাটাই পেতে বৈঠক করা, গ্রামবাসীদের অভাব অভিযোগ শোনার পাশাপাশি মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি নিয়ে প্রচার করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর এব্যাপারে বলতে গিয়েই স্বপনবাবু মনে করিয়ে দিয়েছেন সিপিএমের নেতাদের আচরণের কথা। তাঁরা কিভাবে জনসংযোগ করতেন তাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

আর স্বপনবাবু যখন সিপিএমের ফর্মূলাকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন, সেই সময় সিপিএম নেতৃত্ব নিরবে পুরনো পদ্ধতিতেই চালিয়ে যাচ্ছেন ভোটের প্রচারে। চলছে পাড়ায় পাড়ায় বাড়ির ছাদে কিংবা উঠান বৈঠক। সেখানে হাজির হচ্ছেন দলের নেতা থেকে দলের প্রার্থীরা। কেন সিপিএমকে ভোট, কেন অন্যদের নয় তা বাড়ির উঠানে বসে কর্মীদের বোঝানো হচ্ছে ভোটারদের। কখনও কখনও এই বৈঠক হচ্ছে বাড়ির ছাদেও। একদা বামপন্থী ভোটারদের মন পেতে কোথাও কোথাও দলীয় নেতৃত্বরা তাঁদের ঘরেই খাওয়া দাওয়া সেরে নিচ্ছেন। 

এদিকে, এবারের লোকসভা নির্বাচনে সিপিএম যখন ঘরে বাইরে নিশ্ছিদ্র প্রচারাভিযান চালাচ্ছে সেই সময় প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ সাইদুল হকের একটি ফেসবুকে একটি পোষ্টকে ঘিরে শুরু হয়েছে আলোড়ন। তিনি লিখেছেন, পার্টির জেলা নেতৃত্ব তাঁকে গলসী ১ ব্লকের ৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় নির্বাচনী কাজে যুক্ত থাকতে বলেছে। আগামী একসপ্তাহ সকালে অর্থসংগ্রহ, দুপুরে কোন গ্রামে খাওয়া এবং বিকালে কর্মীসভার কর্মসুচি সবই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি লিখেছেন, সেইমত মিল ও ব্যবসা কেন্দ্রে কিভাবে অর্থ সংগ্রহ হল। তিনি তার লেখায় এই পর্বের অভিজ্ঞতার কথাও লিখেছেন। 


তিনি লিখেছেন, ১) কেউ অর্থ দেব না বলেন নি। সর্বনিম্ন দিয়েছে ৫০০ টাকা (ছোট লেদ মালিক), সর্বোচ্চ১০ হাজার টাকা (চালকল মালিক)। ২) আলোচনায় উঠে এসেছে ব্যবসার বাজার খুবই খারাপ, মিল ব্যবসা লাঠে উঠবে, চাষীদের অবস্থা সঙ্গীন, তৃনমুলের একাধিক গ্রুপের চাঁদার জুলুম ও তাদের মারামারিতে অশান্তি। ৩) সিপিএমের সময় মাঝে মাঝেই চাঁদা দিতে হত, তবে জুলুম ছিল না। ৪) তখন আইনের শাসন ছিল ৫)পুলিশের নামেও এখন ব্যবসায়ীদের কাছ হতে ও হাইওয়েতে গাড়ী ধরে টাকা তোলা হচ্ছে। ৬) সিপিএমের লোকজন কমে গেছে। ৭) সিপিএমের কেবল মিটিং আর মিটিং,আর ভাষণ। গরীবের আপদে বিপদে কম যান। ৮) তৃনমূলদের হাত হতে বাঁচতে বিজেপির দিকে ঝোঁক বাড়ছে। ৯) সিপিএম দলের কিছু মুখকে সামনে না আনাই ভাল। এই ধরনের অভিজ্ঞতা আমাদের অনেকের প্রায় একই। আশার কথা মানুষ আমাদের কথা শুনছে ও ভরসা করে মুখ খুলছে - লিখেছেন সাইদুল হক। কার্যত, লোকসভা নির্বাচনের মুখে একদিকে যেমন সিপিএমের নীবির প্রচার চলছে উঠানে, বাড়ির ছাদে, সেইসময় প্রাক্তন সিপিএম সাংসদের এই ফেসবুক পোষ্টকে ঘিরে দলের অন্দরে বিভ্রন্তি চরমে উঠেছে। 
লোকসভা ভোটের মুখে সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদের ফেসবুক পোস্ট কে ঘিরে বিতর্ক
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top