Headlines
Loading...
মাধ্যমিকের প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় মেমারী থেকে সিআইডি গ্রেপ্তার করল ৪ ছাত্রকে, তীব্র চাঞ্চল্য

মাধ্যমিকের প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় মেমারী থেকে সিআইডি গ্রেপ্তার করল ৪ ছাত্রকে, তীব্র চাঞ্চল্য


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ মাধ্যমিকের প্রশ্নপত্র ফাঁসে গঠিত বিশেষ সিআইডির তদন্তকারী দল বর্ধমানের মেমারী থেকে আটক করল দুই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সহ মোট ৪জনকে। বাজেয়াপ্ত করা হল প্রশ্নফাঁসে ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোনও। এদের মধ্যে ২জন মেমারীর হাটপুকুর এলাকার মামুন ন্যাশনাল স্কুলের এবছরের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র। ধৃতদের নাম সাহাবুল আমীন এবং সাহাবাজ আলি মণ্ডল। এঁরা এবছরের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র। এদের মধ্যে সাহাবুলের বাড়ি মালদার কালিয়াচকে এবং সাহাবাজের বাড়ি কাটোয়ার কৈথনের নীলেরপাড় এলাকায়। এছাড়াও সিআইডি আটক করেছে এবছরের মাধ্যমিকের দুই ছাত্র মালদার কালিয়াচকের বাসিন্দা সেলিম আখতার এবং পাণ্ডুয়ার বাসিন্দা সাজেদুর রহমানকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত্রি প্রায় সাড়ে নটা নাগাদ সিআইডির দলটি আচমকাই হানা দেন মেমারীর হাটপুকুর এলাকার মামুন ন্যাশনাল স্কুলে। সেখানে দুই উচ্চ মাধ্যমিক ছাত্রকে টানা কয়েকঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন তাঁরা। এরপর সোমবার সকালে এই দুই ছাত্র এবং তাদের ব্যবহৃত ২টি মোবাইল নিয়ে তদন্তকারী দল মেমারী কৃষ্ণপুর বাজার এলাকায় একটি লজে হানা দেন। সেখানে দুই মাধ্যমিক ছাত্রকে তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বাজেয়াপ্ত করা হয় তাদের দুটি ফোনও। এরপরই সকাল ১০টা নাগাদ ৪জনকে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় সিআইডি।

জানা গেছে, এই দুই মাধ্যমিক ছাত্র এবছর বাগিলা হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছেন। মোবাইল নিয়ে আপত্তিকর কিছু করার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের প্রায় মাস সাতেক আগে হোষ্টেল থেকে তাড়িয়ে দেয়। তারপর থেকেই তারা ওই লজে থেকেই পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। জানা গেছে, তদন্তকারী দল জানতে পারেন, সেলিম আখতার একটি হোয়াটস্ অ্যাপ গ্রুপ তৈরী করেন – খোকাবাবু ৪২০ নামে। গ্রুপের এডমিন সেই। যেখানে অধিকাংশ সদস্যই রয়েছেন মালদা এলাকার। মোট ৫০জন সদস্য রয়েছেন ওই গ্রুপে। ওই হোয়াট্স গ্রুপের মাধ্যমেই এবছর মাধ্যমিকের প্রথম দিন থেকে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটছে। সূত্রের খবর, অভিযুক্তরা মাধ্যমিকের প্রশ্নপত্র ফাঁস ও এবং তার উত্তর শেয়ার করার জন্য খোকাবাবু ৪২০ নামে এই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছিল। প্রশ্নপত্র দেওয়ামাত্রই দুই পরীক্ষার্থী প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে এই গ্রুপে পোস্ট করে দিত। তারপর পরীক্ষা হলের বাইরে বসে সেই প্রশ্নের উত্তর লিখে পালটা পোস্ট করা হত গ্রুপে।

এদিকে, এই ঘটনায় মামুন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মহম্মদ সানাউল্লা মণ্ডল জানিয়েছেন, মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ওই দুই ছাত্র মোবাইল ব্যবহার করায় তাদের স্কুল থেকে বার করে দেওয়া হয়। কিন্তু ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তাদের মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া হয়। প্রশ্নফাঁসের এই ঘটনা সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন,যদি তাঁরা দোষী হয় তাহলে তাদের শাস্তি হওয়া দরকার। কিন্তু যদি তারা দোষী না হয় তাহলে তারা যেন শাস্তি না পায় সেটাও দেখা দরকার।

0 Comments: