728x90 AdSpace

Latest News

Tuesday, 1 January 2019

ভিড় রেকর্ড ছাড়ালেও, নতুন বছরে দর্শকদের চূড়ান্ত হতাশ করল বর্ধমানের রমনাবাগান চিড়িয়াখানা


সৌরীশ দে, বর্ধমানঃ নতুন বছরের শুরুতেই প্রত্যাশার পারদ চড়িয়েও ভ্রমনার্থীদের চুড়ান্ত হতাশ করল বর্ধমানের রমনাবাগান অভয়ারণ্য চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। বছরের প্রথম দিনেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঘুরতে আসা পশুপ্রেমী ভ্রমনার্থীরা ফিরে গেলেন একারাশ হতাশা বুকে নিয়েই। অন্যান্যবারের মতই এবারও ভিড় উপচে পড়ছিল বর্ধমানের রমনাবাগান জু-তেও। সুত্রের খবর, এদিন সারা বছরের টিকিট বিক্রির রেকর্ড ভেঙ্গে প্রায় ৪ হাজার দর্শক এসেছিলেন জু'কর্তৃপক্ষ-এর পূর্ব ঘোষণা মোতাবেক নতুন নানান পশুপক্ষী দেখতে। কিন্তু নতুন বছরে কনকনে ঠাণ্ডায় আনন্দে একরাশ ঠাণ্ডা জল লাগার মতই হতাশার চাদরে মুড়ল দর্শকদের মন।


প্রসঙ্গত উল্লেক্ষ্য, প্রায় মাস ছয়েক আগেই চিড়িয়াখানা তথা বনদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল নতুন ইংরাজী বছরের শুরু থেকেই রমনাবাগান জু-কে নতুন আঙ্গিকে সাজিয়ে তোলা হবে। নিয়ে আসার কথা ছিল চিতা বাঘ,ঘরিয়াল,বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ সহ নানান ধরণের পাখিকেও। সেইমত গত প্রায় বছরখানেক ধরেই রমনাবাগানকে ঢেলে সাজানোর কাজ চলছিল। তৈরী হয় পশুপক্ষীদের জন্য আলাদা খাঁচাও। স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ দর্শকদের প্রত্যাশার পারদ চড়েছিল ১ জানুয়ারী নতুন কিছু অতিথিদের দেখার আশায়। কিন্তু এদিন যাঁরা এই চিড়িয়াখানায় এলেন তাঁরা রীতিমত হতাশায় ডুবলেন। খাঁচা থাকলেও সেখানে প্রত্যাশামত পেলেন না পাখি কিংবা অন্যান্য জীব জন্তুদের। তারই মাঝে এদিনই বিকালে মারা গেল একটি শকুন। প্রাথমিকভাবে বনকর্মীদের অভিমত নিঃসঙ্গতার জেরেই তার মৃত্যু হয়েছে।


এদিন বর্ধমান শহরের বেচারহাটের বাসিন্দা পবিত্র মণ্ডল তাঁর স্ত্রী পিউ মণ্ডল এবং ১বছর ৩ মাসের শিশু কন্যাকে নিয়ে এসেছিলেন এখানে। জানিয়েছেন, তাঁরা হতাশ। সেভাবে তাঁদের মন ভরল না। বর্ধমান পুলিশ লাইন এলাকার বাসিন্দা অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী শ্রেয়সী মণ্ডল জানিয়েছে, আশা ছিল বাঘ, পাখি সহ অন্যান্য জীবজন্তু দেখতে পাবে। কিন্তু না পাওয়য় সে হতাশ। বড়নীলপুর এলাকার বাসিন্দা দেবাশীষ সোম এদিন অভিযোগ করেছেন জু-এর পরিচালন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেই।

তিনি জানিয়েছেন, প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ বছর আগের একটি গাছের জীবাশ্মকে সংরক্ষন করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে এব্যাপারে যে বিবরণ সমৃদ্ধ প্রস্তর ফলক রয়েছে তার অক্ষর মুছে গেলেও উদাসীন কর্তৃপক্ষ। ফলে কার্যত আকর্ষণীয় এই নিদর্শনের সম্বন্ধে সঠিক তথ্যই মানুষ জানতে পারছেন না। তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী বর্ধমান শহরের বিবেকানন্দ কলেজ মোড়ের বাসিন্দা ঐন্দ্রিলা চ্যাটার্জ্জী জানিয়েছে,তাদের মন ভরল না। কোনো খাবার পাওয়া গেল না। একই কথা বলেছে বর্ধমানের একটি ইংরাজী মাধ্যম স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী শ্রাবস্তী পুততুণ্ড। জানিয়েছেন, সকালেই বাবা পিণ্টু পুততুণ্ডের সঙ্গে শহরের বিভিন্ন দ্রষ্টব্য স্থান ঘুরে বেড়িয়েছে সে। ভেবেছিল চিড়িয়াখানা দেখে সেখানেই দুপুরে ভাত খাবে। কিন্তু কোথাও কোনো খাবার পাওয়া গেল না। এব্যাপারে কর্তৃপক্ষের ভাবা উচিত। তার দাবী, দেশের অন্যান্য জায়গায় চিড়িয়াখানার পাশেই বিভিন্ন খাবারের স্টল থাকে। কিন্তু এখানে নেই। 

এদিকে, এদিন বনদপ্তর সূত্রে জানা গেছে,অন্যান্যবারের তুলনায় এবছর চিড়িয়াখানায় ভিড় হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ। বনদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত ঈদের দিন চিড়িয়াখানায় ভিড় বেশি হয়। গত ঈদেও প্রায় ৩৫ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হয়। গত ২৫ ডিসেম্বর বিক্রি হয় প্রায় ২৫ হাজার টাকার টিকিট। কিন্তু ১ জানুয়ারীতে সব রেকর্ড ছাপিয়ে টিকিট বিক্রি হল প্রায় ৬০হাজার টাকার। বনদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এদিন প্রায় ৪ হাজার দর্শক চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখেছেন। যদিও দর্শকদের হতাশার প্রশ্নে এদিন জেলা বনাধিকারিকের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বনাধিকারিক দেবাশীষ মিশ্র প্রায় মাস চারেক ছিলেন না। তার জায়গায় দায়িত্বে ছিলেন মিলন মণ্ডল। তাই গত ৪ মাসে চিড়িয়াখানার কাজের গতি মন্থর হয়ে পড়ে। আগামী মার্চ মাসের মধ্যে প্রস্তাবিত বকেয়া কাজ শেষ হতে পারে বলে বিশেষ সুত্রে জানতে পারা গেছে।

ভিড় রেকর্ড ছাড়ালেও, নতুন বছরে দর্শকদের চূড়ান্ত হতাশ করল বর্ধমানের রমনাবাগান চিড়িয়াখানা
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top