Headlines
Loading...
বর্ধমানে চাষিদের জমির উপর দিয়ে রাস্তা তৈরীর চেষ্টা, প্রতিবাদে জোড়ালো আন্দোলনে চাষীরা

বর্ধমানে চাষিদের জমির উপর দিয়ে রাস্তা তৈরীর চেষ্টা, প্রতিবাদে জোড়ালো আন্দোলনে চাষীরা



ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ চাষিদের সম্মতি না নিয়েই বাংলা সড়ক যোজনা প্রকল্পে চাষের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা তৈরি করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করলো বর্ধমান ১নং ব্লকের কলিগ্রাম এলাকায়। জমি কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তাই এবার জোড়ালো আন্দোলনের পথে নামার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন গ্রামবাসী তথা ক্ষতিগ্রস্থ চাষীরা। চাষীরা ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। কিন্তু তাদের অভিযোগ, প্রশাসন একতরফা ভাবে কোন আলোচনা ছাড়াই জোর করে রাস্তা তৈরি করছে। 

এলাকার চাষী দীনবন্ধু ঘোষ, বংশী ঘোষ, গণেশ ঘোষ, মিহির ঘোষ প্রমুখরা অভিযোগ করেছেন,কলিগ্রাম হাটতলা থেকে টুবগ্রাম যাবার জন্য এলাকার চাষীদের স্বার্থেই ১৯৭৪ সালে তাঁদের পূর্ব পুরুষরা স্বেচ্ছায় জমি দিয়ে একটি রাস্তা তৈরী করা দেন।এলাকার চাষী ও গ্রামবাসীদের স্বার্থেই এই সহজ রাস্তা তৈরী করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি সেই রাস্তাকেই বাংলা সড়ক যোজনায় আরও চওড়া করা হচ্ছে। আর এই চওড়া করতে গিয়ে কলিগ্রাম হাটতলার প্রায় ৩০জন চাষীর কাছ থেকে গড়ে রাস্তার দুপাশে দোফসলি আবাদি জমি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এব্যাপারে চাষীদের কোনো সম্মতিই নেওয়া হয়নি বলে তাঁরা অভিযোগ করেছেন।

চাষীরা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের সম্মতি ছাড়াই রাস্তার দুপাশে ৪ থেকে ৫ ফুট করে চাষজমিকে নেওয়া হয়েছে। এমনকি চলতি সময়ে ধান ওঠার পর ওই সমস্ত জমিতে সরষে চাষ করা হয়েছে। রাস্তা চওড়া করার সময় সেই সরষে জমির ক্ষতি করেই কাঁচা ফসল তুলে ফেলে দিয়ে মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। এমনকি কয়েকজন চাষীর অজান্তেই তাঁদের জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। এমনকি রাস্তা তৈরী করতে গিয়ে প্রায় ১ কিমি লম্বা রাস্তার দুপাশের জমির সেচনালাও ভেঙ্গে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সাবমার্শিবলের মাধ্যমে চাষের এই জমিতে জল যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। 

চাষিরা জানিয়েছেন, তাঁদের এই সমস্ত অভিযোগ লিখিতি ভাবে জেলাশাসক কে জানান হয়েছে। কিন্তু তার পরও গত তিনদিনেই দ্রুততার সঙ্গে রাস্তা তৈরির কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এদিন এলাকার চাষি প্রবীণ গণেশ ঘোষ জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগে এব্যাপারে তিনি প্রতিবাদ করায় টুবগ্রামের এক বাসিন্দা তাঁকে মারধোর করারও চেষ্টা করে। ফলে গোটা ঘটনায় ক্রমশই উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে এই এলাকায়। চাষিরা দাবি করেছেন, তাঁদের জমি ফিরিয়ে দিতে হবে, তা নাহলে এলাকায় উত্তেজনা আরও বাড়বে। 

অন্যদিকে,এব্যাপারে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, তাঁর কাছে অভিযোগ এসেছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশ জোর করে জমি নেওয়া হবে না। এব্যাপারে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট আসার পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

0 Comments: