Headlines
Loading...
আলুর দাম না পাওয়ায় আত্মঘাতি আলু চাষী

আলুর দাম না পাওয়ায় আত্মঘাতি আলু চাষী


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ কয়েক লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে আলু চাষ করেও আলুর দাম না পাওয়ায় আত্মঘাতি হলেন এক আলু চাষী। মৃতের নাম গোলাম আম্বিয়া মল্লিক (৪০)। বাড়ি জামালপুর থানার পাঁচড়া সরকারডাঙা এলাকায়। 

মৃতের স্ত্রী কলিমা বেগম মল্লিক জানিয়েছেন, গোলাম আম্বিয়া গত মরশুমে নিজের ৭ বিঘা এবং লিজ নিয়ে ৮ বিঘা মোট ১৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। চাষ করতে গিয়ে ৩ লক্ষ টাকা কেসিসি এবং মহাজনী ঋণ করতে হয় তাঁকে। এই চাষ করে প্রায় ১২০০ বস্তা আলু উৎপাদন হয়েছিল। মাঠ থেকেই ২০০ বস্তা আলু বিক্রি করে দিয়েছিলেন। বাকি আলু হিমঘরে রেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে ২০০ বস্তা আলু বিক্রি করেছিলেন। বাকি আলু হিমঘর থেকে বের করতে পারেননি। সম্প্রতি মাঠ থেকে নতুন আলু ওঠায় হিমঘর খালি করার জন্য হিমঘরে থাকা পুরনো আলু নিলাম করা হচ্ছে। বস্তা পিছু দাম উঠছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। দাম কম হওয়ায় গোলাম আম্বিয়া আলু বের করেননি। 

মৃতের স্ত্রী জানিয়েছেন, এবছরও গোলাম আম্বিয়া ১০-১২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের স্থানীয় শাখা থেকে ১০ ভরি সোনা বন্ধক রেখে চাষের জন্য টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। শুক্রবার সকাল ১০ টার সময় গোলাম আম্বিয়া বাড়ি থেকে বের হন। তারপর থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রাত ১০ টার কাছাকাছি সময়ে বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত ঘরে গলায় দড়ির ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায় গোলাম আম্বিয়াকে দেখতে পান বাড়ির লোকজনই। জামালপুর থানার পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করেন। গোলাম আম্বিয়ার দুই পুত্র সন্তান। একজন এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। ওপর জনের বয়স ৬ বছর। 

উল্লেখ্য, চলতি সময়ে খুচরো বাজারে ৫-৬ টাকা কেজি দরে পুরনো আলু বিক্রি হচ্ছে। খুচরো বাজারে নতুন আলু ১০-১১ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এই ঘটনায় পাঁচড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান লালু হেমব্রম জানিয়েছেন, তিনি খবর পেয়েছেন আলুর দাম না পাওয়ার কারণেই গোলাম আম্বিয়া আত্মহত্যা করেছে্ন। অন্যদিকে, জামালপুরের বিডিও সুব্রত মল্লিক জানিয়েছেন, এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। কিন্তু কি কারণে এই আত্মহত্যা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরদিকে, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দেবু টুডু জানিয়েছেন, আলুর দাম না পাওয়ার জন্য আত্মহত্যার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে কি কারণে ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

0 Comments: