728x90 AdSpace

Latest News

Wednesday, 9 January 2019

বর্ধমানে জেলাশাসকের সম্মতি ছাড়াই অর্থের বিনিময়ে বাড়ি বাড়ি সার্ভের ঘটনায় আলোড়ন

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ খোদ জেলাশাসকের সম্মতি ছাড়াই অর্থের বিনিময়ে একটি সংস্থা বাড়ি বাড়ি সার্ভে করার ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হল পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসী এলাকায়। জানা গেছে,সম্প্রতি গলসী ২নং ব্লকের কুরকুবা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়ি বাড়ি সার্ভে করতে শুরু করে সেন্ট্রাল কর্মাশিয়াল ইন্ড্রাষ্ট্রি অফ ইণ্ডিয়া নামে একটি সংস্থা। ওই সংস্থা নিযুক্ত যুবকেরা সার্ভে করার পর প্রতিটি বাড়িতেই একটি নাম্বারও দিতে থাকেন। এজন্য বাড়ি পিছু ২০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছিল। আর এই ঘটনার পরই গোটা বিষয়টি নিয়ে রীতিমত সন্দেহ সৃষ্টি হয় গ্রামবাসীদের। এরপর গোটা বিষয়টি কানে আসে পূর্ব বর্ধমান জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তবের। তিনি ওই সার্ভের কাজ বন্ধ করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

কুরকুবা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাহিরঘন্যা এলাকার বাসিন্দা সামিউল মল্লিক, রবিউল মল্লিকরা জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগে কয়েকজন যুবক এই গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪, ৫, ৭, ৯ এবং ১৩ সংসদ এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সার্ভে করতে শুরু করেন। বাড়ির সদস্য কতজন, পেশা কি প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ক্লিন ইণ্ডিয়া ও ডিজিটাল ইণ্ডিয়া লেখা একটি পার্মানেণ্ট হাউস নাম্বার প্লেট দিতে শুরু করেন।

এজন্য বাড়ি পিছু ২০ টাকা করে নিতে শুরু করেন তাঁরা। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৫০০ বাড়ি থেকে তাঁরা সাকুল্যে প্রায় ৫০ হাজার টাকা তুলেছেন। গলসীতে একটি বাড়ি ভাড়া করে ৯জন যুবকের দল এই কাজ করছেন। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, তাঁরা গোটা বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় গ্রাম পঞ্চায়েত এবং বিডিওকেও জানিয়েছেন। কিন্তু লাভ হয়নি।

এদিকে, এব্যাপারে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, ২০১২ সালে রাজ্য ব্যাপী যে সার্ভের কাজ হয়েছিল সেই সময় এই সংস্থাও কাজের বরাত পায়। সেই ২০১২ সালের অর্ডারকে সামনে রেখেই তারা এই কাজ করছিল। তাই ওই সার্ভের কাজ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর এই সার্ভের দায়িত্বে থাকা দলপ্রধান মনোরঞ্জন মাইতি জানিয়েছেন, তাঁরা ৯জন যুবক গলসীর কুরকুবা গ্রাম পঞ্চায়েতে এই সার্ভের কাজ করছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, যেহেতু প্রত্যেকেই বেকার তাই বাড়ি পিছু ২০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছিল তাদের পারিশ্রমিক হিসাবে। তিনি এও স্বীকার করেছেন, জেলাশাসকের নির্দেশে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়েছেন। যদিও মনোরঞ্জন মাইতির দাবী, এব্যাপারে তাঁদের কাছে নবান্ন থেকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা রয়েছে।
বর্ধমানে জেলাশাসকের সম্মতি ছাড়াই অর্থের বিনিময়ে বাড়ি বাড়ি সার্ভের ঘটনায় আলোড়ন
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top