Headlines
Loading...
বর্ধমান ষ্টেশন এলাকায় শিশুদের সুরক্ষার স্বার্থে খুলতে চলেছে শিশু সাহায্য কেন্দ্র

বর্ধমান ষ্টেশন এলাকায় শিশুদের সুরক্ষার স্বার্থে খুলতে চলেছে শিশু সাহায্য কেন্দ্র


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া এবং সাহায্য করার লক্ষ্যে এবার বর্ধমান ষ্টেশন এলাকায়  শিশু সাহায্য কেন্দ্র খোলার উদ্যোগ নিতে চলেছে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। এব্যাপারে খুব শীঘ্রই পূর্ব রেল দপ্তরের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনায় বসতে চলেছে প্রশাসন। জানা গেছে, ইতিমধ্যেই পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়ে শিশুদের ওপর অত্যাচার ও যৌন নিগ্রহের ঘটনা, শিশুদের ফেলে চলে যাওয়া প্রভৃতি ঠেকাতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা সমাজ কল্যাণ আধিকারিক প্রশান্ত রায় জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই শিশুদের ওপর এই অত্যাচার বন্ধের জন্য বর্ধমান ষ্টেশনে বিভিন্ন ট্রেনের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়েও ঘোষণা শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে ষ্টেশন এলাকায় বিভিন্ন পোষ্টারের মাধ্যমে এব্যাপারে সাধারণ মানুষকে শিশুদের ওপর নির্যাতন করলে কি কি আইন রয়েছে সে বিষয়ে সতর্ক করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। 

তিনি জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন ধরেই বিশেষ করে বর্ধমান ষ্টেশন এলাকায় থাকা পথশিশুদের সম্পর্কে একটি তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা চালাচ্ছে জেলা সমাজকল্যাণ দপ্তর। প্রশান্তবাবু জানিয়েছেন, তাঁরা চাইছেন বর্ধমান ষ্টেশন এলাকায় একটি কাউণ্টার করতে যেখানে শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রের একজন কর্মী ২৪ ঘণ্টার জন্য হাজির থাকবেন। ট্রেনযাত্রীদের শিশুদের যে কোনো সমস্যা দেখা দিলে এই কেন্দ্র তাকে যাতে দ্রুত সাহায্য করতে পারে সেই কাজ করবে। তিনি জানিয়েছেন, এব্যাপারে প্রাথমিকভাবে বর্ধমান ষ্টেশনের রেল পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে তাঁদের আলোচনা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, অধিকাংশ ষ্টেশনে মে আই হেল্প ইউ বলে যে ডেস্ক থাকে তা সর্বসাধারণ যাত্রীদের জন্য। কেবলমাত্র শিশুদের জন্য কোনো হেল্প ডেস্ক সাধারণত থাকে না। সেক্ষেত্রে পূর্ব বর্ধমান জেলা এই কাজ করতে পারলে তা শিশুদের ক্ষেত্রে অনেক উপকারে লাগবে। 

প্রশান্তবাবু জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই এব্যাপারে রেল দপ্তরের সঙ্গে তারা আলোচনায় বসতে চলেছেন। এদিকে, এরই পাশাপাশি বিশেষ করে বর্ধমান ষ্টেশন এলাকায় ক্রমশই বাড়ছে পথশিশুদের সংখ্যা। যা নিয়ে রীতিমত উদ্বিগ্ন জেলা প্রশাসনও। প্রাথমিক হিসাবে অনুসারে প্রায় ১২০জন পথশিশু রয়েছে এই ষ্টেশন এলাকায় যাদের মধ্যে সিংহভাগই অনাথ নয়। তাদের বাবা-মাও রয়েছে। অনেক সময় এই শিশুদের দিয়ে রোজগার করিয়ে নেন বাবা-মারা। শিশু বয়সেই হাতে এই টাকা পাওয়ায় বেশিরভাগ শিশুই ডেনড্রাইট সহ একাধিক নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে - যা নিয়ে রীতিমত চিন্তায় পড়েছে প্রশাসন। এই সমস্ত পথ শিশুদের সম্পর্কে একটি ডাটাও তৈরী করতে চাইছেন জেলা প্রশাসন।

0 Comments: