Headlines
Loading...
কালনায় মিড ডে মিল খেয়ে ৬৪ জন শিশু অসুস্থ! চাঞ্চল্য

কালনায় মিড ডে মিল খেয়ে ৬৪ জন শিশু অসুস্থ! চাঞ্চল্য


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,কালনাঃ কালনা থানা এলাকার বাঘনাপাড়ার বগলাদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৪ জন শিশু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনায় রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়ালো। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বাঘনাপাড়ার বগলাদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত ১৩৪ পড়ুয়া মিড ডে মিলের খাবার খায়। মেনুতে ছিলে ভাত ও পাঁচমিশালী তরকারী। ২০১৮ সাল থেকে নিয়মিত চলা সাপ্তাহিক আয়রন ট্যাবলেটও মঙ্গলবার পড়ুয়াদের খাওয়ান হয়। পরের দিন অর্থাৎ বুধবার দুপুরের পর থেকেই মিড ডে মিল খাওয়া বিভিন্ন শ্রেণীর পড়ুয়াদের নানা ধরণের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। সমস্যা ক্রমশ বাড়তে থাকায় আক্রান্তদের বুধবার সন্ধ্যা থেকেই কালনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়।

বুধাবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পেটেব্যথা, জ্বর, বমি উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়েই বুধবার রাতেই হাসপাতালে পৌঁছান মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, কালনার পুরসভার পুরপতি দেবপ্রসাদ বাগ, বিধায়ক বিশ্বজিৎ কুন্ডু,কালনা থানার ওসি, বিডিও দেবলীনা সর্দার প্রমুখরা। বৃহস্পতিবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান অচিন্ত্য চক্রবর্তী স্কুলে ও হাসপাতালে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেন। বিডিও দেবলীনা সর্দার এবং স্কুল পরিদর্শক প্রিয়ব্রত রায় এদিন স্কুলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। যদিও মিড ডে মিল খাওয়ার কারণেই পড়ুয়ারা অসুস্থ হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করে এমন কিছু জানানো হয়নি। কারণ সন্ধানে স্কুলের আয়রন ট্যাবলেট, স্কুলের পানীয় জল এবং চালের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। রক্ত ও বমির নমুনাও সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রীতীশ চৌধুরী জানিয়েছেন, মিড ডে মিল খাওয়ার কারণেই ঘটনাটি ঘটেছে এখনই এমন বলা যাচ্ছে না। আয়রণ ট্যাবলেট নিয়ে একটা গুজব রটেছে সেটাও ঠিক নয়। কারণ ২০১৮ সাল থেকে ৪৫-৪৬ সপ্তাহ হয়ে গেলো এই ওষুধ নিয়মিত খাওয়ান হয়, আগে কোনদিন অসুবিধা হয়নি। ওষুধগুলির মেয়াদও রয়েছে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। তিনি জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যা থেকে সমস্যা বাড়তে থাকায় রাতেই ৫৭ জনকে কালনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিন আরও ৭ জনকে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ৬৪ জনের মধ্যে অনেকের অবস্থারই উন্নতি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। পড়ুয়ারা অসুস্থ  থাকায় এবং অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার মোট ৪-৫ জন পড়ুয়া স্কুলে এসেছিল। যদিও বুধবার উপস্থিতি স্বাভাবিক ছিল বলে প্রীতীশবাবু জানিয়েছেন। বিডিও দেবলীনা সর্দার জানিয়েছেন,অসুস্থদের চিকিৎসা চলছে। পাশাপাশি কারণ অনুসন্ধানে মেডিক্যাল টিম ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে।

0 Comments: