728x90 AdSpace

Latest News

Thursday, 20 December 2018

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই সরকারী সহায়ক মূল্যে ধান কেনার কাজে উঠেপড়ে লাগল পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ বুধবার রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের নিয়ে বৈঠক করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। আর বুধবারের মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার সকালে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব নিজে পর্যবেক্ষণে বেরিয়ে কিভাবে ধান কেনা হচ্ছে, সরকারী ব্যবস্থায় কোনো ফাঁকফোকর রয়েছে কিনা কিংবা চাষীদের মধ্যে সরকারী সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করতে গিয়ে কোনো অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে না কিনা সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

প্রথমেই তিনি ১নং ব্লকের কিষাণমাণ্ডিতে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। কথাও বলেন চাষীদের সঙ্গে। চাষীরা জেলাশাসকের কাছে ধানের বস্তা না পাওয়ার অভিযোগ করেন। এছাড়াও ধান মাপার যন্ত্র মাঝেমাঝেই বিকল থাকার অভিযোগ করেন। পাশাপাশি রাইস মিলের বিরুদ্ধে বস্তা পিছু ৪ থেকে ৮ কেজি ধান বাদ দেওয়ারও অভিযোগ করেন। এদিন বর্ধমান ১নং ব্লকের জেলা কৃষি খামারের মধ্যে থাকায় কিষাণ মাণ্ডির পাশাপাশি তিনি নান্দড়া এলাকায় একটি রাইসমিলেও যান। সেখানেও খতিয়ে দেখেন ধান কেনার কাজ।

এদিন জেলাশাসকের সংগে ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক ( সাধারণ) অরিন্দম নিয়োগী, জেলা খাদ্য নিয়ামক দেবমাল্য বসু প্রমুখরাও। এদিন সকালে জেলাশাসকের এই অভিযানের পরই বিকালে গোটা জেলার সমস্ত জনপ্রতিনিধি, রাইসমিল এ্যাসোসিয়েশন এবং প্রশাসনের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে হাজির ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া, সহকারী সভাধিপতি দেবু টুডু, জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব সহ প্রশাসনের আধিকারিকরাও।

বৈঠক শেষে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানিয়েছেন,এদিন বৈঠকে সরকারী সহায়ক মূল্যে ধান কেনার বিষয়ে কিছু কিছু যে অভিযোগ পাওয়া গেছে সেগুলি দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের ধান সবার আগে কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে ধান বিক্রি করতে গিয়ে ৪ থেকে ৮ কেজি বস্তা পিছু বাদ দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন, বস্তা পিছু ৩ কেজির বেশি বাদ দেওয়া যাবে না - এব্যাপারে এদিন বৈঠকেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চাষীদের বস্তা নিয়ে যে সমস্যা রয়েছে তাও দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বপনবাবু জানিয়েছেন,মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোনোভাবেই চাষীদের হয়রানি করা যাবে না। ধান বিক্রি করেই যাতে চাষী হাতে টাকা পান সে ব্যাপারে বুধবারই মুখ্যমন্ত্রী ধানের মূল্য চেকে দেবার কথা ঘোষণা করেছেন।

এদিন স্বপনবাবু জানিয়েছেন, এখনও সেই নির্দেশ আসেনি। তাই পুরনো আরটিজিএস পদ্ধতিতেই ধান দেবার পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চাষীকে টাকা দেবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, এই বৈঠক শেষে রাইস মিল ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সহ সম্পাদক সুব্রত মণ্ডল জানিয়েছেন, রাইস মিল কোথাও সরাসরি ধান কিনছে না। সরকার এবং সরকার নির্ধারিত সংস্থাগুলি ধান কিনে তা রাইসমিলকে দেন। তাই এই ধান কেনার ক্ষেত্রে সরাসরি রাইস মিলের কোনো ভূমিকা নেই। তিনি জানিয়েছেন, তাঁরা রাজ্য সরকারকে আগেও যেভাবে সহায়তা করেছেন এবারেও তাই করছেন।
                                                                                                                           ছবি - ফাইল
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই সরকারী সহায়ক মূল্যে ধান কেনার কাজে উঠেপড়ে লাগল পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top