728x90 AdSpace

Latest News

Sunday, 2 December 2018

বাবার পাশবিক অত্যাচারের বলি ৬ মাসের শিশু কন্যা



ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ পরপর কন্যাসন্তান হওয়ায় স্ত্রীর উপর অত্যাচার লেগেই ছিল। এবার কোপ গিয়ে পড়ল কন্যাসন্তানের উপর। মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে কন্যাসন্তানকে তুলে আছাড় মারল বাবা। একরত্তি শিশু সেই যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে শেষমেশ মারা গেল হাসপাতালে মায়ের চোখের সামনেই। বাবার পাশবিক আচরণের শিকার হল মাত্র ৬ মাসের শিশু কন্যা। পৈশাচিক এই ঘটনা ঘটেছে মুর্শিদাবাদের সালারের সরমস্তিপুরে। মৃত শিশুটির নাম ফারহা সুলতানা। 

শিশুটির দিদিমা জেলেহার বিবি অভিযোগ করেছেন, শুক্রবার সকাল ৭টা নাগাদ ফারহার শরীর খারাপ থাকায় তার চিকিৎসার জন্য তার বাবা আব্বাস আলিকে বলেন ফারহার মা সেলিনা খাতুন। কিন্তু আব্বাস আলি চিকিৎসার জন্য টাকা খরচ করতে রাজী ছিলেন না। তা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ বাধে। ওই সময় শিশুটি তার মায়ের কোলেই ছিল। এই সময় আব্বাস আলি সেলিনাকে গলা টিপে ধরে মারতে থাকেন। ভয়ে শিশুটি চিৎকার করতে শুরু করলে সেলিনার কোল থেকে শিশুটিকে তুলে ছুঁড়ে ফেলেন আব্বাস আলি। এরপর আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই শিশুটিকে প্রথমে সালার হাসপাতাল এবং পরে কাটোয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে শনিবার রাতে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে রাতেই মৃত্যু হয় তাঁর। স্বামী আব্বাস আলির নামে সালার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মূক ও বধির স্ত্রী সেলিনা খাতুন।


জেলেহার বিবি অভিযোগ করেছেন, প্রায় ৩ বছর বিয়ে হয়েছিল সেলিনার। ২ বছর আগে একটি কন্যা সন্তান হয়। কিন্তু কন্যা সন্তান জন্ম দেবার পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। তাকে প্রায়শই মারধর করা হয়। এমনকি বাপের বাড়ি থেকে তাকে নানাসময় টাকা পয়সা আনার জন্যও চাপ দেওয়া হত। এরপর দ্বিতীয়বারও কন্যা সন্তান হওয়ায় সেলিনার ওপর অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যায়। গত কয়েকদিন ধরেই ৬ মাসের ফারহা জ্বরে ভুগছিল। সেজন্যই তার চিকিৎসার জন্য স্বামীর কাছে টাকা চান সেলিনা। এই নিয়ে অশান্তি শুরু করে আব্বাস। অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠে সে। তবে এই ঘটনার পর থেকেই আব্বাস বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। মেয়ের মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর তিনি বলছেন 'আমি মারতে চাইনি। রাগের মাথায় এমন ঘটে গিয়েছে। আমাকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।'
বাবার পাশবিক অত্যাচারের বলি ৬ মাসের শিশু কন্যা
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top