728x90 AdSpace

Latest News

Friday, 9 November 2018

মাও হামলায় নিহত বর্ধমানের ছেলে দীনঙ্কর মুখার্জীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভেঙ্গে পড়ল মানুষ



ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ শুক্রবার দুপুরে কলকাতার গার্ডেনরিচ হয়ে কফিন বন্দি সিআইএসএফের হেড কনষ্টেবল দীনঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের (৫২) মৃতদেহ বর্ধমান শহরের ৩নং ইছলাবাদের ঘোষপাড়ার মুখার্জ্জী বাড়িতে এল যখন তখন গোটা এলাকায় থিকথিকে শোকাতুর মানুষের ভিড় উপচে পড়ছে। এয়ারকণ্ডিশন গাড়ি থেকে কফিন বন্দী দেহ বার করে নিয়ে যাওয়া হল বাড়িতে। সিআইএসএফের জওয়ানরা কফিনের ঢাকনা খুললেন। কান্নায় ভেঙে পড়লেন দীনঙ্করবাবুর স্ত্রী মিতা মুখোপাধ্যায়, ছেলে দেবজিত মুখোপাধ্যায় সহ আত্মীয় স্বজনরা। তাঁদের রতনকে (দীনঙ্করবাবুর ডাক নাম) শেষবারের মত দেখতে বাড়ির বাইরে তখন অপেক্ষমান কাতারে কাতারে মানুষ। কিন্তু সিআইএসএফের জওয়ানদের নিষেধে তাঁরা বাড়িতে ঢুকতে পারলেন না। বাড়িতে কফিন খুলে শেষবারের মত মৃত জওয়ানের মুখের একাংশ দেখানো হল। কারণ মাওবাদীদের আইইডি বিস্ফোরণে তাঁর দেহের উপর অংশই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। স্ত্রী মিতা মুখোপাধ্যায় মৃতদেহকে ঢেকে দিলেন হরিনাম লেখা নামাবলী দিয়ে। দেওয়া হল ফুলের মালা। শেষবারের মত স্বামীর পায়ে সিঁদুর ছুঁয়ে দিলেন। প্রিয় রতনকে হারিয়ে বাড়ির এক প্রবীণা জ্ঞানও হারালেন।

 
পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এবার মৃতদেহকে নিয়ে যাওয়া হল স্থানীয় ইয়ুথ ক্লাবের মাঠে। কাতারে কাতারে মানুষ। একে একে মৃতদেহে মালা দিলেন সিআইএসএফের এ্যাসিস্ট্যাণ্ট কমাণ্ডাণ্ট এ কে ঝা, সিনিয়র কমাণ্ডাণ্ট শারদ রায়, বর্ধমানের অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) অরিন্দম নিয়োগী,জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া, সহকারী সভাধিপতি দেবু টুডু, জেলা পরিষদের সদস্য গার্গী নাহা, প্রাক্তন কাউন্সিলার খোকন দাস, পরেশ সরকার প্রমুখরাও। এখানেও মৃতদেহে মালা দিতে গিয়ে রীতিমত চোখের জলে ভাসলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া। কারণ তাঁর দাদাও সেনাবাহিনীতে দার্জিলিং-এ কর্মরত রয়েছেন। চোখের সামনে একজন জওয়ানের এই অকাল প্রয়াণে তার বুকও কেঁপে উঠেছে এদিন।

 
বাড়ির পর এখানেও শেষবারের মত স্বামীকে বিদায় জানাতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্ত্রী মিতা দেবী, ছেলে দেবজিত। এখানে সিআইএসএফের পক্ষ থেকে মৃত জওয়ানকে দেওয়া হয় গার্ড অব অনার। এরপর মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বর্ধমানের নির্মল ঝিল শ্মশানে। সেখানে বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে জুনিয়র ওয়ারেণ্ট অফিসার এম পি বিজুরাজ এবং সার্জেণ্ট এস কে দত্তের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের প্রতিনিধিদল জানালেন শেষ শ্রদ্ধা। পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকেও তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সিআইএসএফের পক্ষ থেকে গ্যান স্যালুটের মাধ্যমে তাঁকে বিদায় জানানো হয়। এদিন সিআইএসএফের পক্ষ থেকে ভারতের জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয় মৃত জওয়ানের ছেলে দেবজিতের হাতে। 

যদিও এদিন দেবজিত জানিয়েছে, সে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চায় না। চোখ দিয়ে ঝরে পড়েছে জলের ধারা। মহালয়ার দুদিন আগেই বাড়ি এসেছিলেন দীনঙ্করবাবু। জানিয়ে গেছিলেন ২০ নভেম্বর ফের বাড়ি আসবেন। এলেন তার ১১দিন আগেই কফিন বন্দী হয়ে। আর স্ত্রী মিতা মুখার্জী চোখের অবিরত ধারার মাঝেই কখনও তাঁর মা-কে বলে চলেছেন, ''দেখছো তো মা, আমি কতবড় মানুষের বউ ছিলাম!'' আবার কখনও ছেলেকে বুকে টেনে নিয়ে বলছিলেন, '' দেখ্ বাবা, তুই কতবড় মানুষের ছেলে''। মৃত জওয়ানের স্ত্রী মিতা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, " সরকার সব পারে। বন্ধ করতে পারে এই সমস্যা। কিন্তু এগুলোকে জিইয়ে রাখা হয়েছে।"
মাও হামলায় নিহত বর্ধমানের ছেলে দীনঙ্কর মুখার্জীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভেঙ্গে পড়ল মানুষ
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top