728x90 AdSpace

Latest News

Tuesday, 6 November 2018

বর্ধমানের খণ্ডঘোষের ওঁয়াড়ি গ্রামে বড়মা পুজিতা হন পুরো পরিবার নিয়েই


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,খণ্ডঘোষঃ প্রায় ৫০০ বছর আগে বাংলার বুকে ঘটেছিল বর্গী হানা। আর সেই বর্গী হানার হাত থেকে রেহাই মেলেনি পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের ওঁয়াড়ি গ্রামের দুর্গাকালী বড়মারও। বর্গীরা এই ওঁয়াড়ি গ্রামের অধিষ্ঠাত্রী দেবী বড়মাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল ওঁয়াড়ি গ্রামের শ্মশানের কাছে। লুঠপাট চালিয়ে বর্গীরা চলে যাবার পর দেবী স্বপ্ন দেন ওঁয়াড়ি গ্রামের বুদ্ধদেব সরকারকে। শ্মশানের কাছে পরিত্যক্ত অবস্থায় অবহেলায় দেবীর পড়ে থাকার স্বপ্ন দেখে চমকে উঠেছিলেন বুদ্ধদেব সরকার। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বড়মাকে সেখান থেকে নিয়ে এসে নিজের বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেন।
দেবীর স্বপ্নাদেশ অনুসারে ওঁয়াড়ি গ্রামের বড়মা গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী ও সরস্বতীকে সঙ্গে নিয়ে পূজিতা হন। আস্তে আস্তে তৈরী হয় বড়মার মন্দির। এরপর থেকেই ওঁয়াড়ি গ্রামে কার্তিকেয় অমাবস্যায় মহা ধূমধাম করে পুজো হয়ে আসছে বড়মার। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, একসময় বর্গীদের অসুরবংশীয় হিসাবে মনে করে মোষ বলি দেবার রেওয়াজ ছিল। আর এই মহিষাসুর বধকে স্মরণে রেখেই গ্রামের হিন্দু ও মুসলিম যুবকরা লাঠি খেলা শুরু করেন। আজও সেই ধারা চলে আসছে। তবে এখন আর মোষ বলি হয়না। দুর্গা কালী রূপী বড়মার সঙ্গে গনেশ , কার্তিক ,লক্ষী ও সরস্বতীর ছাড়াও রয়েছেন দুই পরী জয়া ও বিজয়াও।

গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, বড়মার কাছে কেউ কিছু চাইলে বড়মা তাকে নিরাশ করেন না। তাই শ্রদ্ধায় গ্রামের সকলেই তার কাছে মাথানত করেন। একদা সরকারবাড়িতে পূজিতা হলেও বড়মা এখন ওঁয়াড়ি গ্রামের সকল মানুষেরই বড়মা রূপে পূজিতা হয়ে আসছেন। বড়মার সেবার জন্য রয়েছে বেশ কয়েক বিঘে জমিও। সেখান থেকেই বড়মার নিত্যসেবা হয়ে আসছে। দেবীর সম্পত্তি আগে অনেক ছিল বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। ওঁয়াড়ি গ্রামে বড়মার পুজো চলে ৭দিন ধরে।

গ্রামের বাসিন্দা তথা মন্দিরের পুরোহিত তুষার বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তন্ত্র মতেই হয় বড়মায়ের পুজো। মায়ের পুজোর ভোগের বিশেষত্বের মধ্যে রয়েছে চালকলাই ভাজা ও চিনি। ছাগ, আখ ও ছাঁচি কুমড়ো বলিদান হয়। ওঁয়াড়ি গ্রামের বড়মার পুজোকে ঘিরে বসেছে বিশাল মেলাও। আয়োজন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও যাত্রা পালারও। গ্রামবাসী মধুসূদন চন্দ জানিয়েছেন, বুদ্ধদেব সরকার কালীভক্ত ছিলেন। কিন্তু তাঁর আর্থিক অবস্থা ছিল অতীব করুণ। তাই যখন বড়মা তাঁকে স্বপ্নাদেশে প্রতিষ্ঠা করার আদেশ দেন, তখন বিচলিত হয়ে পড়েন বুদ্ধদেব সরকার। সেই সময় মা-ই তাঁকে তাঁর ভোগে কলাইভাজা ও চিনি দেবার নির্দেশ দেন। তাতেই তিনি তুষ্ট হবেন বলে জানান। সেই থেকেই মায়ের ভোগে এই দুটি বিষয় থাকেই।
বর্ধমানের খণ্ডঘোষের ওঁয়াড়ি গ্রামে বড়মা পুজিতা হন পুরো পরিবার নিয়েই
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top