728x90 AdSpace

Latest News

Monday, 20 August 2018

বিনা টেন্ডারে অবাধে চলছে বালি লুঠ, নির্বিকার প্রশাসন



ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বীরভূমঃ অবাধে রাতের অন্ধকারে চলছে বালি চুরি,কখনো বা আবার চালান ছাড়াই পাচার হয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার বালি। এমনকি টেন্ডার ছাড়াই নদীতে নতুন করে ঘাট বানিয়ে নিচ্ছে বালি মাফিয়ারা। এই সমস্ত ঘটনার অভিযোগও জমা পড়ছে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কাছে।মাঝেমধ্যে যে প্রশাসনিক অভিযান হচ্ছে না তা নয়, বরং দফায় দফায় অভিযানে ধরা পড়ছে অবৈধ ভাবে বালি বোঝাই গাড়ি। সরকারি কোষাগারে আসছে জরিমানার টাকাও। তবু হেলদোল নেই বালির অবৈধ কারবারিদের। নেই চালানের ব্যাবহার কিম্বা প্রশাসনের ভয়। এই অবৈধ বালির কারবারিরা নিজেরাই মালিক, নিজেরাই শ্রমিক।  

বীরভূমে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৪০ টি নদী আছে। বিনা টেন্ডারে সেই সব নদী থেকে রমরমিয়ে চলছে বালি চুরি। এই ছোট নদী গুলোতে বালির পরিমাণ কম হওয়ায় কোন ঘাট মালিক অকশন করতে চায় না, সে কারণেই বিনা অকশনেই পড়ে থাকে নদী। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও ট্রাক্টার মালিক ঝোপ বুঝে কোপ মারছে এই নদীগুলোতেই। চন্দ্রভাগা, বক্রেশ্বর, কুষ্করনী এই ধরনের ছোট নদী গুলো থেকেই রাতের অন্ধকারে, এমনকি দিনের আলোতেই পাচার হয়ে যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার বালি। দিনভর উঠছে ট্রাক্টর ভর্তি বালি। নদী গুলির নদী গর্ভের উপর পার্শ্ববর্তী প্রতিটা গ্রামেই তৈরি হয়েছে ছোট ছোট বালির ঘাট। এক একটা গ্রামের সেই ঘাটগুলি থেকে প্রায় চল্লিশ- পঞ্চাশ ট্রাক্টর বালি তোলা হচ্ছে প্রত্যেক দিন। সেই বালি খোলা বাজারে বিক্রিও করা হচ্ছে চড়া দামে।বর্ষা থেকে গ্রীষ্ম বন্ধ হয় না এই ঘাট। পুলিশের ভয় নেই, কারণ সমস্ত ঘাটই গ্রামের ভেতর। ফলে প্রশাসনের নজরে আসেনা বালির এই চোরা কারবারীদের কাজকর্ম। অনায়াসে পাচার হয়ে যাচ্ছে বালি।বিষয়টি নিয়ে বীরভূৃম জেলা ভূমি দফতরের আধিকারিক পূর্নেন্দু মাজি জানান, বিষয়টি তাদের নজরে আছে, দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করা হবে। 


সূত্রের খবর, এই ধরনের ছোট ছোট ঘাটগুলিকে নিয়ন্ত্রন করে গ্রামেরই কোন ক্লাব বা মোড়ল গোষ্ঠীর লোকেরা । তারাই ট্রাকটার পিছু কখনো একশো বা দুশো টাকা করে নেয়। নিচুতলার রাজনৈতিক কর্মীরাই অধিকাংশ সময়ে এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকে বলে অভিযোগ। যারা এই কারবার করছেন তারাও জানেন এটা বেআইনি, কিন্তু তাদের সাফ কথা, কেউ বাধা দিলে তবেই তো বন্ধ হবে এই কারবার। কিছু মানুষ করে খাচ্ছে। প্রশাসন বাধা দিলে তখন ভাবনা চিন্তা করা যাবে।
বিনা টেন্ডারে অবাধে চলছে বালি লুঠ, নির্বিকার প্রশাসন
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top