728x90 AdSpace

Latest News

Tuesday, 3 July 2018

অবশেষে বর্ধমানের কিষাণ মাণ্ডিতে চালু হয়ে গেল গ্রামীণ হাট, খুশির হাওয়া এলাকায়


সৌরীশ দে,পূর্ব বর্ধমানঃ অবশেষে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান সদর উত্তর মহকুমার কিষাণ মাণ্ডিতে মঙ্গলবার থেকে চালু হল গ্রামীণ হাট। আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘটা করে উদ্বোধন না হলেও হাট শুরুর প্রথম দিনেই প্রায় ৬৫ জন বিক্রেতা তাদের বিভিন্ন দ্রব্যের পসরা সাজিয়ে বসলেন সরকার নির্ধারিত জায়গায়। এমনকি প্রথম দিনের হাটে ক্রেতাদের ভিড়ও ছিল চোখে পরার মত। প্রায় সমস্ত ধরনের কাঁচা সব্জি,মাছ থেকে শুরু করে শাড়ি,জামা,জুতো,গামছা,মেয়েদের প্রসাধনী সামগ্রী এমনকি মুদিখানার মাল প্রায় সব কিছু নিয়েই হাজির ছিলেন বিক্রেতারা। স্বাভাবিকভাবেই সরকারীভাবে হাট চালুর অনুমোদন দেওয়ায় রীতিমত খুশী এলাকার বাসিন্দারা। 

এদিন হাট পরিদর্বশনে এসে র্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক নিশীথ মালিক জানালেন, রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এবং পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের তৎপরতায় অবশেষে বর্ধমানের কৃষি খামারে চালু করা হল গ্রামীণ হাট। এই হাট চালু হওয়ায় আগামিদিনে এই এলাকার আর্থ সামাজিক পরিস্থিতির আরও উন্নতি ঘটবে। তিনি জানান, ক্রেতারা এই হাটে এসে তাঁদের প্রয়োজনের সমস্ত ধরনের জিনিস যাতে কেনাকাটা করতে পারেন তার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। এখানেই কিছুদেনের মধ্যে চালু হয়ে যাবে  এটিএম কাউন্টার। সেক্ষেত্রে বাজার করতে আসা নাগরিক এবং ব্যাবসায়িদেরও সুবিধা হবে।ইতিমধ্যেই এই হাট চালুর বিষয়ে ব্যাপকভাবে প্রচার শুরু হয়েছে বলেও জানালেন বিধায়ক। 

   
উল্লেখ্য, দীর্ঘ কয়েকবছর আগে বর্ধমান সদরের জেলা কৃষিখামারে তৈরী হয়েছিল রাজ্য সরকারের উদ্যোগে কিষাণ মাণ্ডি। বারবার কিষাণ মাণ্ডিকে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এমনকি খোদ মুখ্যমন্ত্রী বর্ধমানের প্রশাসনিক বৈঠকে এসেও কিষাণ মাণ্ডিগুলিকে চালু করতে না পারায় জেলা প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। দাওয়াই দিয়েছেন যেকোনোভাবে চালু করতে হবে কিষাণ মাণ্ডিকে। প্রয়োজনে কিষাণ মাণ্ডি লাগোয়া এলাকায় তৈরী করতে হবে ছোট হিমঘর, ছোট ছোট শিল্প কারখানা। কিন্তু তাতেও এগোয়নি কিছুই। পরবর্তীকালে বর্ধমানের এই কিষাণ মাণ্ডিতে ধান কেনা-বেচা শুরু হলেও সামগ্রিকভাবে সারাবছর ধরে মাণ্ডিকে চালু করতে না পারায় অস্বস্তির মধ্যে পড়ে জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যে বর্ধমান শহরের বুকে থাকা তেঁতুলতলা বাজার এবং রাণীগঞ্জ বাজারের পাইকারী মার্কেটকে এই কিষাণ মাণ্ডিতে তুলে আনার প্রশাসনিক ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীদের  অনাগ্রহে তাও বেশিদূর এগোয়নি। শেষমেশ বর্ধমান উত্তর বিধানসভা এলাকার হাটগবিন্দপুর,আটাগড়,রায়পুর, কাশিয়ারা, জামার, নাদরা সহ বর্ধমান শহরের কালনাগেট, নাড়ি প্রভৃতি জায়গার ব্যাবসায়িদের আবেদনের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট জায়গা বিতরন করা হয়। আর তারপর মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়ে গেল এই গ্রামীণ হাট।


বর্ধমান ১ ব্লকের কৃষি, সেচ ও সমবায় কর্মাধ্যক্ষ আনুপ কুমার মণ্ডল জানালেন, প্রাথমিক ভাবে সপ্তাহে দুদিন এই হাট বসবে। মঙ্গল ও শনিবার দুপুর ১২ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত ক্রেতারা এই হাট থেকে কেনাকাটা করতে পারবেন। তিনি জানান, এই হাট চালু হওয়ায় এই অঞ্চলের মানুষ দারুন খুশি। এখন ৫৫ জন বিক্রেতা আসলেও খুব শীঘ্রই এই সংখ্যা ১০০ পেরিয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই স্থায়ী ভাবে ব্যাবসা করার জন্য প্রায় ৩৬ টি ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি চালু হলেও বাকিগুলি কিছুদিনের মধ্যেই চালু হয়ে যাবে। আগামিদিনে এই হাট যাতে এই এলাকার মানুষের সব রকম চাহিদা পূরণ করতে পারে তার জন্য পরিকল্পনা গ্রহন করা হচ্ছে।  
অবশেষে বর্ধমানের কিষাণ মাণ্ডিতে চালু হয়ে গেল গ্রামীণ হাট, খুশির হাওয়া এলাকায়
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top