728x90 AdSpace

Latest News

Wednesday, 18 July 2018

ফের মেমারী কলেজের অধ্যাপককে মারধোর করার অভিযোগ তৃতীয় শ্রেণীর কর্মীর বিরুদ্ধে


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,মেমারীঃ ফের মেমারী কলেজের এক অধ্যাপককে মারধোর করার অভিযোগ উঠল বিতর্কিত কলেজের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মী মুকেশ শর্মার বিরুদ্ধে। বুধবার বিকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আতংক সৃষ্টি হয়েছে কলেজ চত্বরে। কলেজের অধ্যাপকরা ফের নতুন করে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেছেন। আক্রান্ত অধ্যাপকের নাম কস্তুর আমেদ মোল্লা। তিনি বাংলা বিভাগের অধ্যাপক। বুধবার কলেজের প্রশাসক তথা বর্ধমান সদর দক্ষিণ মহকুমা শাসক অনির্বাণ কোলের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন তিনি। 

আক্রান্ত অধ্যাপক এদিন জানিয়েছেন, এদিন ছুটির দরখাস্ত দিতে কলেজে গেছিলেন। কলেজের করিডর দিয়ে যাবার সময় মুকেশ শর্মার সঙ্গে তাঁর কাঁধে স্পর্শ হয়। এরপর তাঁকে কলেজের দোতলা থেকে ধাক্কা মারতে মারতে কলেজের নিচের তলায় নিয়ে আসা হয়। তাঁর বুকে জোড়ালো পরপর আঘাত করা হয়। তিনি অসুস্থতা বোধ করেন। এরপর কলেজ ছেড়ে বিকালে অন্য অধ্যাপকদের সঙ্গে বেড়িয়ে আসছিলেন সেই সময় মুকেশ শর্মা তাঁর পথ আটকায়। তাঁকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় তাঁকে। তাঁকে হাতে চুড়ি আর কাপড় পড়িয়ে ঘোরানোর হুমকিও দেওয়া হয়। অন্যান্য অধ্যাপকদের সামনে এভাবে অপমানিত করায় তাঁরা প্রতিবাদ করতে গেলে অভিযোগ, তাঁদেরও দেখে নেওয়ার হুমকি দেন মুকেশ শর্মা।এরপরই কলেজের অধ্যক্ষ দেবাশীষ চক্রবর্তী সহ কলেজের কয়েকজন অধ্যাপক আক্রান্ত অধ্যাপককে নিয়ে হাজির হন কলেজের প্রশাসক অনির্বাণ কোলের কাছে। তাঁকে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। 

মহকুমা শাসক জানিয়েছেন, তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। এব্যাপারে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে প্রশাসনিকভাবে ওই কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, বিগত কিছুদিন ধরেই এই মুকেশ শর্মার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠেছে। কলেজের অধ্যাপকদের আটকে রাখা, মহিলা অধ্যাপকদের নিগৃহিত করার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ গিয়ে পৌঁছেছে খোদ রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছেও। এরপরই কলেজের পরিচালন সমিতি ভেঙে দিয়ে মহকুমাশাসককে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। একইসঙ্গে উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশে মুকেশ শর্মার বিরুদ্ধে মেমারী থানায় এফআইআর করার পর সম্প্রতি বর্ধমান আদালত থেকে সে জামিন নিয়ে ফের কলেজে কাজে যোগ দেয়। 

এদিন কলেজের অধ্যক্ষ দেবাশীষ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, মুকেশ শর্মা দুর্নিবার হয়ে উঠেছে। তাঁকে আটকাতে না পারলে এবং তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করা হলে এই কলেজে তাঁদের পক্ষে চাকরি করাই অসম্ভব। তিনি জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই তাঁরা গোটা বিষয়টি নিয়ে ফের নবান্নে যাচ্ছেন। প্রয়োজনে কলেজের সমস্ত অধ্যাপকরা সেখানে গিয়ে ধর্ণাতেও বসবেন।
ফের মেমারী কলেজের অধ্যাপককে মারধোর করার অভিযোগ তৃতীয় শ্রেণীর কর্মীর বিরুদ্ধে
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top