728x90 AdSpace

Latest News

Sunday, 3 June 2018

নিপা-কে থোরাই কেয়ার আউশগ্রামের এই গ্রামে।বাদুরে খাওয়া ফলই এখানে প্রসাদ


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,আউশগ্রামঃ বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহু দূর - আপাত এই প্রবাদ বাক্য দিব্যি কার্যকর পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রামের সরগ্রামে। নিপা ভাইরাস নিয়ে যখন গোটা দেশ উত্তাল, তখন কার্যত নিপা আতঙ্ককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যথারীতি বাদুড়কে দেবতাজ্ঞানে পুজো চলছে বর্ধমানের এই গ্রামে। এমনকি যখন সরকারীভাবে বাদুড়ের খাওয়া ফল খেতে চরম নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছে চিড়িয়াখানা থেকে সর্বত্র, সেখানে সরগ্রামের ওই পীড়স্থানের বাদুড়ের খাওয়া পেঁপে, পেয়ারা, আমকে পীড়ের প্রসাদ হিসাবেই গ্রহণ করছেন গ্রামের মানুষ। এই গ্রামে গেলেই চোখে পরবে একটি পীড়স্থান লাগোয়া গাছে ঝুলছে শয়ে শয়ে বাদুড়। কার্যত কোন আতঙ্কই নেই বাদুর নিয়ে এই গ্রামের মানুষের।
এই পীড়স্থানের একদা প্রায় ১০বছর ধরে দায়িত্বে থাকা মৌলানা মহম্মদ সামসাদ জানিয়েছেন, প্রায় ১০০ বছর ধরে এই পীড়স্থানকে ঘিরে বাদুড়রা রয়েছে। এই বাদুড়দের নিয়ে কোথাও কোনো কখনও সমস্যাও দেখা দেয়নি। এমনকি তিনি জানিয়েছেন, বাদুড়ের খাওয়া ফল এলাকার মানুষ নির্ভয়েই খান। কিন্তু কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। এলাকার বাসিন্দা সাহাদাত সেখ জানিয়েছেন, তাঁরা শুনেছেন এই সা ফরিদ পীড় তিনি নিজে প্রায় ৩৫ বছর পা দুটিকে গাছে রেখে ঝুলে থাকতেন। সারাদিনের পর সন্ধ্যেবেলায় তিনি খাবার খেতেন। সারাদিনে আর তিনি কিছু খেতেন না। যেহেতু বাদুড়রাও সারাদিন একইভাবে গাছে ঝুলে থাকে এবং সন্ধ্যের পর তারা খাবার খায় তাই বাদুড়কেও এখানে পীড়বাবার বাহন হিসাবেই গ্রামের মানুষ মান্যতা দেয়। সাহাদাত সেখও জানিয়েছেন, বাদুড়ের এঁটো ফলকে প্রসাদ হিসাবেই গ্রহণ করে এলাকার মানুষ।

চলতি সময়ে গোটা দেশ জুড়ে যখন বাদুড় থেকে নিপা ভাইরাস ছড়ানোর আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। সেই সময় আউশগ্রামের এই সরগ্রামে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। সরগ্রাম হাইস্কুলের ছাত্র তাজিব সেখ জানিয়েছেন, তারা তো কতই বাদুড়ে খাওয়া ফল খেয়েছে কিন্তু কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, সম্প্রতি ঝড়ে একটি বটগাছের বড় ডাল ভেঙে পড়ায় কিছু বাদুড় মারা যায়। এলাকায় প্রচলিতও আছে এই বাদুড়ের নখ ও হাড়কে শরীরে ধারণ করলে অনেক রোগও নাকি সেরে যায়। ফলে সব মিলিয়ে নিপা ভাইরাসের কোনো প্রভাবই নেই আউশগ্রামের এই বাদুড় এলাকায়।

ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির বর্ধমান জেলা সম্পাদক অনাবিল সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, আউশগ্রামের বাদুড় নিপা ভাইরাস বহন করছে কিনা তা পরীক্ষার বিষয়। তবে কুসংস্কার আর বিজ্ঞান মনস্কতা আলাদা বিষয়। বাদুর বাহিত রোগের প্রভাব এখানে সত্যি রয়েছে কিনা তা প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত। যদি অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটে তার জন্য আগাম সতর্ক থাকা দরকার।
নিপা-কে থোরাই কেয়ার আউশগ্রামের এই গ্রামে।বাদুরে খাওয়া ফলই এখানে প্রসাদ
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top