728x90 AdSpace

Latest News

Saturday, 23 June 2018

প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে তিনদিনেই জট কাটল বীরভূমের পাথর খাদান সমসসার



পিয়ালী দাস, বীরভূমঃ প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে তিনদিনের মধ্যেই জট কাটল ধর্মঘট হওয়া পাথর শিল্পের। গত ২০ তারিখ থেকে বীরভূম জেলার সমস্ত পাথর খাদান এবং পাথর ক্রাশারে ধর্মঘট শুরু করেছিল ব্যবসায়ীরা'। ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল,আইনি জটিলতায় তাদের ব্যবসা করতে সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চল এলাকায় বিভিন্ন স্থানে বেআইনি তোলাবাজির ঘটনায় তারা আতঙ্কিত। জেলাশাসকের কার্যালয়ে শুক্রবার পাথর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন জেলাশাসক । মূলত জেলাশাসকের হস্তক্ষেপেই আপাতত ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেন ব্যবসায়ীরা । এদিকে আগামী দু'মাসের মধ্যে তাদের স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান না হলে ফের তারা ধর্মঘটে যাবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মঘটী পাথর ব্যবসায়ীরা। 

পাথর মালিক পক্ষ থেকে কমল খান, নাজির হোসেন মল্লি্‌ আসগর আলী রা জানিয়েছেন, জেলাশাসক তাদের আশ্বাস দিয়েছেন সমস্যার ব্যাপারে তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষেের সঙ্গে আলোচনা করবেন । পাশাপাশি শিল্পাঞ্চল এলাকার বিভিন্ন স্থানে যে তোলাবাজির অভিযোগ উঠছে তা বন্ধ করতে জেলা পুলিশ সুপারকে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। 

জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু বলেন, আলোচনা সাপেক্ষে ধর্মঘটী পাথর ব্যবসায়ীরা তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন। এই বিষয়ে আমি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাা করবো।

প্রসঙ্গত ২০১৬ সালের ২৯ জুলাই পাথর শিল্পাঞ্চলে খাদান গুলিতে ক্লোজার নোটিশ ধরানো হয়েছিল মালিকদেরকে। তাঁদেরকে খাদানের দীর্ঘ মেয়াদি লিজ করে নিতে বলে প্রশাসন। কিন্তু নানা জটিলতায় সে অনুমোদন নিতে পারেনি অধিকাংশ পাথর খাদান মালিকেরা। ২১৭ টি পাথর খাদানের মধ্যে ২১১ টি খাদান সরকারীভাবে বন্ধ, মাত্র ৬ টি পাথর খাদান খোলা বর্তমানে। বীরভূম জেলার পাচামী, তালবাঁধ, শালবাধরা, বড়পাহাড়ী, নলহাটি, রাজগ্রাম এলাকায় এই সময়ে বহু পাথর ভাঙ্গার মেশিন বন্ধ হয়ে পরে আছে। বেকার হয়ে পরেছে লক্ষাধিক মানুষ। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের পাথর খাদান থেকে প্রাপ্ত রয়ালিটি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে বহু কোটি টাকার। 

এই জেলার খাদান এলাকায় মুলত জমির মালিকানা নিয়ে সমস্যা। বেশী ভাগ আদিবাসীদের জমিতে পাথর খাদান হয়েছে,যেগুলি হস্তান্তর হয়না। পাশাপশি অনেকে জমি আছে সরকারের। আদিবাদিসের জমি সাময়িক লিজ নিয়ে বা তাঁদেরকে পাথর খাদানের যৌথ মালিকানা দিয়ে ব্যবসা চলে এসেছে। কিন্তু জমি জটের জন্য এখন কেউ দীর্ঘ মেয়াদী লিজ করতে পারছে না। গত ২০ জুন জেলার সমস্ত পাথর ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট শুরু করেন। শুক্রবার জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসুর সঙ্গে পাথর ব্যবসায়ী বৈঠক করেন এবং জেলাশাসকের আশ্বাসে তারা সাময়িক ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয়।
প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে তিনদিনেই জট কাটল বীরভূমের পাথর খাদান সমসসার
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top