728x90 AdSpace

Latest News

Tuesday, 5 June 2018

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য্যের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ, চাঞ্চল্য


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে স্মৃতিকুমার সরকার চলে গেছেন প্রায় একবছর হতে চলল। তাঁর পরিবর্তে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন অধ্যাপক নিমাই সাহা। কিন্তু অতি সম্প্রতি স্মৃতি কুমার সরকারের আমলে নেওয়া তিনটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে তুমুল আলোড়ন পরে গেল। একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল টাটা কনসালটেন্সির সঙ্গে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তি। যাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিশেষত চুক্তিপত্রে কিছু ত্রুটি খুঁজে পাওয়া গেছে। যা নিয়ে সম্প্রতি রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বৈঠক করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। দ্বিতীয় যে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল স্মৃতি কুমার সরকারের আমলের একেবারে শেষের দিকে - ইউজিসির গাইড লাইন বিরোধী বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষা দপ্তরের এমবিএ কোর্সকে কলকাতার একটি বেসরকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া। ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী কর্মচারী ইউনিয়ন এবং এসএফআই এব্যাপারে আন্দোলনেও নেমেছে। তৃতীয় সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল এই দূরশিক্ষা বিভাগের দুই সহকারী অধিকর্তাকে নিয়ম বর্হিভূতভাবে পদোন্নতি তথা নিয়োগ করার ঘটনায়। এখনও পর্যন্ত এই তিনটি ঘটনাকে ঘিরেই শুরু হয়েছে ময়না তদন্ত। 

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বুদ্ধদেব চক্রবর্তী মঙ্গলবার জানিয়েছেন, এদিনই তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এমবিএ কোর্সকে বেসরকারী হাতে তুলে দেওয়া এবং নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির বিষয় দুটি নিয়ে এদিন স্মারকলিপি দিয়েছেন।
বুদ্ধদেববাবু অভিযোগ করেছেন, প্রাক্তন উপাচার্য স্মৃতি কুমার সরকারের আমলেই কলকাতার একটি বেসরকারী সংস্থার হাতে সম্পূর্ণ নিয়ম বর্হিভূতভাবে দূরশিক্ষার এমবিএ কোর্সকে তুলে দেবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক সমিতির বৈঠকে। এই ঘটনায় ছাত্রছাত্রীরা যেখানে কোর্স ফি বাবদ ৬৮ হাজার টাকায় পড়তে পারতেন, সেখানে বেসরকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ায় প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে কোর্স ফি বাবদ দিতে হবে প্রায় ২ লক্ষ টাকা। এই টাকার মধ্যে মাত্র ৬০ হাজার টাকা ছাত্র পিছু পাবে বিশ্ববিদ্যালয়। বাকি টাকা নেবে ওই সংস্থা। বুদ্ধদেববাবু জানিয়েছেন, অথচ ওই সংস্থার কাজকর্মকে ইতিমধ্যেই সিকিম সরকার কালো তালিকা ভুক্ত করেছে। এমনকি ওই সংস্থার বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে ডিগ্রী দেবার অভিযোগও রয়েছে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্কালীন রেজিষ্টার দেবকুমার পাঁজা ওই সংস্থার কাছে কাছে ৭ দফা প্রশ্নও রাখেন। কিন্তু সেই উত্তর আসার আগেই ওই সংস্থাকে
অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তাই নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।  

বুদ্ধদেববাবু জানিয়েছেন, সর্বোপরি ইউজিসি-র নির্দেশিকা অনুসারে কোনো বেসরকারী সংস্থার হাতে বিশ্ববিদ্যালয় কোন কোর্সকে তুলে দিতে পারে না। সেই নিয়মকেও বুড়ো আঙুল দেখানো হয়েছে। এব্যাপারেই তাঁরা ছাত্রছাত্রী স্বার্থে ওই চুক্তি বাতিলের দাবী জানিয়েছেন। এদিকে, এরই পাশাপাশি স্মৃতিকুমার সরকারের আমলে নিয়ম বর্হিভূতভাবে নিয়োগ ও পদোন্নতি হওয়া ৪ কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালন সমিতি। 

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষা বিভাগের দুই সহকারী অধিকর্তা অংশুমান গোস্বামী ও ননীগোপাল সেনকে অবিলম্বে তাদের অফিস অ্যাসিস্ট্যান্টের পদে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবারই তাদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, তাঁরা যদি নিজেদের জায়গায় ফিরে না যান সেক্ষেত্রে তাঁদের চাকরী নিয়েও সমস্যা দেখা দিতে পারে। সোমবারই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসি বৈঠকে এই ৪জন কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার বিষয়টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

উল্লেখ্য, দূরশিক্ষা বিভাগের সহ অধিকর্তা পদের নিয়োগের জন্য তত্কালীন রেজিষ্ট্রার দেবকুমার পাঁজা ২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর ৮/২০১৫-১৬ মেমো নম্বরের বিজ্ঞপ্তি জারি করেন ৷ কিন্তু এই বিজ্ঞপ্তি কোন প্রকাশ্য জায়গায় বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেও দেওয়া হয়নি। এই পদোন্নতি বিষয়ে ইতিমধ্যেই উচ্চশিক্ষা দপ্তরের তদন্তকারী দল কিছু অনিয়মও খুঁজে পান। একেবারেই জলের মত পরিষ্কার হয়ে যায় বিশ্ববিদ‌্যালয়ের তৃণমূল সমর্থিত একটি ইউনিয়নের নেতার মদতেই ওই দুজনকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ওই দুজনকে জানিয়ে দেওয়া হয়। যদিও এব্যাপারে উভয়েই জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন। তাই এব্যাপারে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এদিকে, এই দুই কর্মী ছাড়াও সোমবারের ইসি মিটিংয়ে পাবলিকেশন অফিসার সন্তু ঘোষ ও লাইব্রেরিয়ান মোনালি পালধিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির কাছে তাঁদের নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও এব্যাপারে উপাচার্য নিমাইচন্দ্র সাহা কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। এমবিএ কোর্সকে হস্তান্তরের বিষয়ে রেজিষ্টার রমেন সর জানিয়েছেন, এব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। গোটা বিষয়টি দেখেন দূরশিক্ষা বিভাগের অধিকর্তা আবসোস আলি সেখ। যদিও এদিন তাকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য্যের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ, চাঞ্চল্য
  • Title : বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য্যের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ, চাঞ্চল্য
  • Posted by :
  • Date : June 05, 2018
  • Labels :
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top