728x90 AdSpace

Latest News

Thursday, 12 April 2018

মহাদেবকে তুষ্ট করতে বাংলা বছরের শেষ উৎসব শিবের গাজন


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,কাটোয়া: বাংলা বছরের শেষ উৎসব হল শিবের গাজন। পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে এই গাজন উৎসব। মুলত মহাদেবকে তুষ্ট করতেই এই গাজন উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে। কাটোয়া ২নংব্লকের জগদানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আমডাঙ্গা গ্রামে চলছে বুড়োশিবের গাজন। প্রচলিত আছে বুড়োশিব প্রাচীন ও জাগ্রত। প্রায় ৫০০বছরের প্রাচীন এই বুড়োশিব। চিরাচরিত প্রথা মেনে এবারও শুরু হয়েছে গাজন উৎসব। আমডাঙ্গা গ্রামের রায় পরিবারের ৮৫ বছর বয়স্ক তথা ঘোড়ানাশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক দক্ষিণারঞ্জন রায় জানালেন,তাঁর বংশরধর তারাপদ রায় স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। ঠাকুর নাকি স্বপ্নাদেশে জানিয়েছিলেন ঘোড়ানাশের রায় পরিবারে তিনি আছেন,কিন্তু সেখানে তিনি সন্তুুষ্ট নন। রায় পরিবারে ঠাকুরকে নিয়ে এসে পুজো দিতে বলেন। তারপর থেকেই ঠাকুর এখানে চলে আসেন। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ধুমধাম করে শুরু হয়েছে গাজন উৎসব।

 গাজন উৎসবের মুলত তিনটি অংশ। ঘাট সন্ন্যাস,নীলব্রত ও চড়ক। বৃহস্পতিবার ছিল গঙ্গাস্নান। ঠাকুরকে আজ গঙ্গাস্নানে নিয়ে যাওয়া হয়। তাই আজ রায় পরিবারের কোনো উনান জ্বলে না। রান্নাও হয় না। এই শিব ঠাকুরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল,গ্রামের কারো বাড়িতে ঠাকুর যান না। বাড়ির দুয়ারে  দুয়ারে গিয়ে পুজো নেন। গ্রামের ছোট-বড় সকলেই আনন্দে মেতে ওঠেন শিবের গাজনকে কেন্দ্র করে। 

বাংলা মহাভারতের রচয়িতা কাশীরাম দাসের জন্মভিটা কাটোয়ার সিঙ্গি গ্রাম। সেখানে রয়েছে দক্ষিণেশ্বরের আদলে বুড়োশিবের মন্দির। সেখানেও চলছে গাজন উৎসব। এছাড়াও কাটোয়ার চাণ্ডুলী গ্রামে রয়েছে বাবুদের বুড়োশিব ও হরগৌরি পার্বতী। এখানেও দুই জায়গায় গাজন হচ্ছে। প্রথা মেনে গঙ্গাস্নানে  যাওয়ার সময় আগে থাকেন পার্বতী, পিছনে থাকেন বুড়ো শিব।

কাটোয়ার করুই গ্রামেও বুড়োশিব ও পার্বতীর গাজন বিখ্যাত। বুড়োশিব সারাবছরই পুকুরে জলের তলায় থাকেন।গাজন উপলক্ষ্যে বড় মেলাও বসে। আতসবাজি প্রর্দশনী হয়। কলকাতার বিখ্যাত যাত্রাদল গুলির যাত্রাপালা অনুষ্ঠিত হয় তিনরাত্রি ধরে। দর্শকদের কোনো টিকিট লাগে না।

এছাড়াও মুলগ্রাম,বাকসা,শ্রীবাটী সহ বিভিন্ন জায়গায় গাজন উৎসব চলছে। বর্ধমান রাজা জগৎরায়ের পুত্র কীর্তিচাঁদ রায় দাঁইহাটে অনেকগুলি শিবমন্দির ও একটি আবাস গৃহ নির্মাণ করেছিলেন।বিকিহাটে হরগৌরি মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমানে বিকিহাট দাঁইহাট পৌরসভার ১৪নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। এখানেও হরগৌরী ঘিরে শুরু হয়েছে গাজন উৎসব।


পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার ২ ব্লকের নন্দীগ্রামে নান্দেশ্বর শিবের গাজন ঘিরে গ্রামবাসীদের মধ্যে এখন ব্যাপক উন্মাদনা।  শতাব্দী  প্রাচীন এই শিব কে নিয়ে পৌরাণিক অনেক গল্প প্রচলিত রয়েছে। শোনা যায়, শিব ঠাকুর  নাকি পাতাল ফুঁড়ে উঠেছিলেন।

গ্রামবাসীদের ধারণা বহু বছর ধরে তাদের মনস্কামনা পূরণ করছেন নান্দেশ্বর। গাজন উপলক্ষে রাত্রিবেলায় সন্ন্যাসীরা গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্যে বোলান গানের অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। গ্রামবাসীরা ভীড় করেন সেই অনুষ্ঠানে। শিবের গাজনটি চলে ৫দিন ধরে। আগামী শুক্রুবার সন্ন্যাসীরা পালন করবেন নীল পূজা। শনিবার শিবকে নিয়ে তাঁরা আসবেন গ্রামের চড়ক তলায়। এই গাজনকে ঘিরে এইকদিন এলাকায় জমে উঠেছে ছোট বড় নানান মেলা।  

মহাদেবকে তুষ্ট করতে বাংলা বছরের শেষ উৎসব শিবের গাজন
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top