728x90 AdSpace

Latest News

Saturday, 14 April 2018

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের মুক্তির জন্য বোর্ড তৈরির দাবি তুললো ভারতীয় মানব অধিকার সংরক্ষণ সংঘ


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: 'জেল'এর নাম পরিবর্তন করে 'সংশোধনাগার' হওয়ার পরেও পশ্চিমবাংলার বেশির ভাগ সংশোধনাগারেই সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের একাংশ ১৪ বছর সাজা খাটার পরেও মুক্তি না পাওয়ায় সংশোধনাগার নামের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুললো ভারতীয় মানব অধিকার সংরক্ষণ সংঘ। শনিবার বর্ধমান শহরের একটি অনুষ্ঠান বাড়িতে মানব অধিকার সংগঠনটি এই বিষয় নিয়ে একটি আলোচনা চক্রের আয়োজন করে। সেখানেই সংগঠনের রাজ্য সভাপতি সংগীতা চক্রবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের সংশোধিত করে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে 'জেল' নামকরণ পরিবর্তন করে সংশোধনাগার করা হয়েছিল। কিন্তু শুধু এই রাজ্যেই চারশোরও বেশি সাজাপ্রাপ্ত বন্দী ২০ বছরের বেশি সময় ধরে বন্দী রয়েছেন বিভিন্ন সংশোধনাগারে। এঁরা সবাই যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী। 

সংগীতা দেবী জানান,আইনের ভাষায়  'যাবজ্জীবন' মানেই ১৪ বছর নয়। কিন্তু যেহেতু তাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে বন্দী থাকেন, তাই ১৪ বছরের পর ওই বন্দীর সমাজে ফিরে যাওয়ার বিষয়টা বিবেচনা করে দেখা উচিত। তিনি জানান, উপযুক্ত বোর্ডের অভাবে 'সংশোধিত' হয়েও অনেক সাজাপ্রাপ্ত বন্দি বছরের পর বছর ধরে আটকে থাকছে রাজ্যের সংশোধনারগুলিতে। এই সমস্ত বন্দিরা যাতে তাদের মুক্তির জন্য নির্দিষ্ট বোর্ডে আপিল করতে পারে সেই ধরণের কোনো বোর্ড এই রাজ্যে গঠিত হয়নি। ফলে বন্দিদশায় সংশোধনাগার থেকে 'গুড' শংসাপত্রও পেয়েও আইনের বেড়াজালে কাটতে হচ্ছে বাড়তি বেশ কয়েকটা বছর। 

সংগীতা দেবী জানান,বন্দীদের অতীত জীবন, অপরাধের প্রকার এবং বন্দী থাকা অবস্থায় তাঁর আচার-আচারণের সমস্ত বিষয় বিচার বিবেচনা করে বন্দীকে মুক্ত করা হবে কিনা তার জন্য একটি বোর্ড তৈরী হওয়া উচিত। এই বোর্ডই  সিদ্ধান্ত নেবে এই সংক্রান্ত বিষয়ে। তিনি জনিয়েছেন, এরাজ্যের বন্দিদের  মুক্তি চেয়ে বহু আবেদন পরে রয়েছে সরকারের কাছে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের মুক্তির বিষয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশিকা আছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। 
এরাজ্যে এই ধরণের বন্দিদের উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, মোহম্মদ ইয়াসিন ৩১ বছর, সেখ নাসিফ ওরফে সানু ৩২ বছর, সুব্রত সরকার ও রসিদ খান ২৬ বছর, খোকন দে ২৫ বছর ধরে বিভিন্ন সংশোধনাগারে রয়েছেন।

সংগীতা চক্রবর্তী জনিয়েছেন, তাঁরা ইতিমধ্যেই লিখিতভাবে বিষয়টা নিয়ে রাষ্ট্রপতি, গৃহমন্ত্রী, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, এরাজ্যের রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী এবং কারামন্ত্রীকে জানিয়েছেন। দ্রুত এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত না হলে সংগঠন মামলার পথে যাবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক আইনজীবী রাজর্ষি চ্যাটার্জী। 
এদিনের আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, ডক্টর প্রবীর ঘোষ, রাজ্য সহ সভাপতি অঞ্জন মুখার্জী, অমিত রায় প্রমুখ।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের মুক্তির জন্য বোর্ড তৈরির দাবি তুললো ভারতীয় মানব অধিকার সংরক্ষণ সংঘ
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top