728x90 AdSpace

Latest News

Thursday, 22 March 2018

বর্ধমানে জামাকাপড়ের বাগানে সেলের মধুতে মৌমাছির মত ক্রেতাদের ভিড়


মালা ঘোষ: শহর বর্ধমানে চৈত্রের বিসি রোড যেন বসন্তের বাগান। যেদিকেই তাকাও, নানা রঙের ফুলের মত চারিদিকে রঙীন জামাকাপড়ের মেলা বসেছে সেখানে। প্রতি বছরই অবশ্য বসে। এটা আসলে সেলের বাজার। মনের সুখে শপিং করতে দলে দলে শহরবাসী ভিড় করছে এখানে।
শুধু শহরের মানুষের কথা বললে ভুল হবে, বর্ধমানের আশেপাশের গ্রামগুলো থেকেও মানুষ আসছেন , বাজার করে নিয়ে যাচ্ছেন। কি নেই তাদের থলিতে! ছেলের জামা, মেয়ের নাইটি ,বউয়ের ছাপা শাড়ি, বরের পাজামা-পাঞ্জাবী ,শাশুড়ির তাঁতের শাড়ি ,শ্বশুরের ফতুয়া থেকে বিছানার চাদর ,পায়ের জুতো, দরজার পা-পোশ, চায়ের কাপ,প্লাস্টিকের বালতি, এমনকি ভ্যানিটি ব্যাগও। এত কিছু একসঙ্গে কেনার কারণই হল-এটা সেলের বাজার। অর্থাৎ ছোট দোকান থেকে বড় বড় শোরুম, সর্বত্রই সব কিছু এখন সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে। ১০%-৫০% অবধি ছাড় তো আর সারা বছরে পাওয়া যাবেনা। তাই এসময় যতটা পারা যায় ব্যাগ ভর্তি করে নেওয়া আর কি।

চৈত্র মাসের প্রথম দিন থেকেই বর্ধমানে সেলের বাজার শুরু হয়। তবে সেলের বাজারে বিক্রিবাটা দিন দিন যেভাবে বাড়ছে তাতে এখন আর ফাল্গুন শেষ হওয়া অবধি অপেক্ষা করছেন না দোকানিরা। চৈত্র পড়ার আগেই হয়ে শুরু যাচ্ছে তাদের স্টক ক্লিয়ারেন্সের অফার। আর কম দামে ভালোটা জোগাড় করে নিতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে ক্রেতা। জামাকাপড়ের বাগানে সেলের মধুতে মৌমাছির মত ভিড় !
সুতরাং বর্ধমানের বিসি রোড আপাতত ফুটপাতের ক্রেতা -বিক্রেতার দখলে। রাস্তা দিয়ে চলা দায়। একদিকে সাইকেলের ধাক্কা ,অন্যদিকে টোটোর দাপাদাপি, তার ওপর রাস্তায় হকারের মালপত্র। তবে যাই হোক আর যেভাবেই হোক, নতুন জামাকাপড় না কিনলেই নয়।


আসলে সেলের বাজার থাকুক আর নাই থাকুক ,বছরশেষে নতুন জামা-কাপড় কেনার রেওয়াজটা বহু পুরোন এ বাংলায়। কারণ চৈত্র হল বাংলা বছরের শেষ মাস। অর্থাৎ এই মাসের শেষেই আরম্ভ হবে নতুন বাংলা বছর। নতুন জামাকাপড় পড়ে নববর্ষকে বরণ করার চল রয়েছে বাংলায়। এই রীতি প্রচলনেরও একটা ইতিহাস আছে। চৈত্রের শেষে রাজার সেরেস্তায় সারা বছরের বকেয়া খাজনা বুঝিয়ে দিতেন প্রজারা। সেরেস্তায় সেদিন পুরোন হিসাবের খাতা সেরে নতুন হিসাবের খাতা শুরু করা হত। খাজনা মেটানো ও নতুন হালখাতা শুরুর কারণে রাজার তরফে সেদিন প্রজাদের জন্য মিষ্টিমুখের ব্যবস্থা করা হত। নগরবাসীর কাছে সেটা ছিল আনন্দ ও সম্মানের দিন। তাই তারা নতুন জামা কাপড় পরেই রাজবাড়ি যেতেন।

বছরের শুরুতে নতুন হালখাতা আর নতুন জামাকাপড় পরার রেওয়াজ বাংলায় আজও বজায় রয়েছে। তবে তার রূপ কিছুটা বদলেছে। কারণ আজ হিসাব মেটাতে রাজবাড়ী নয়, দোকানে যেতে হয় ক্রেতাদের। মিষ্টি মুখের ব্যবস্থা সেখানেও থাকে। সঙ্গে বাড়তি পাওনা একটা বাংলা ক্যালেন্ডার।
এবারও সেই ক্যালেন্ডারে চোখ রেখেই বাঙালি শুরু করতে চলেছে ১৪২৫ বঙ্গাব্দ।
                                                                                                             ছবি - সুরজ প্রসাদ 
বর্ধমানে জামাকাপড়ের বাগানে সেলের মধুতে মৌমাছির মত ক্রেতাদের ভিড়
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top