728x90 AdSpace

Latest News

Sunday, 25 March 2018

বর্ধমানে ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই চলছে শতাধিক ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান,হেলদোল নেই পুরসভার


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান:বর্ধমান শহরে ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই রমরমিয়ে চলছে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। যদিও ভোজন রসিক মানুষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হোর্ডিং,ফ্লেক্স করে শহরময় বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি সেই রেস্তোরাঁর। শহরের বড়নীলপুর মোড়ে পারবিরহাটায় জিটি রোডের উপর গত ৭মাস ধরে সাজিয়ে গুছিয়ে বিনা অনুমতিতে এই রেস্টুরেন্ট চলতে থাকলেও বর্ধমান পুরসভার এব্যাপারে কোন হেলদোল নেই। যদিও পুরসভার চেয়ারম্যান স্বরূপ দত্তকে এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান,খুব শীঘ্রই শহরে বেআইনি ভাবে ব্যবসা করছে এই ধরণের প্রতিষ্ঠান গুলিকে চিহ্নিত করার জন্য অভিযান শুরু করা হবে।


বর্ধমান পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলার সেলিম খান এবং মমতা রায় জানিয়েছেন, শহরের ব্যাবসায়ীদের সুবিদার্থে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়ার পদ্ধতিকে আগের থেকে অনেক সরলীকরণ করা হয়েছে। এরপরও যদি কেউ বিনা ট্রেড লাইসেন্সে ব্যবসা শুরু করেন বা চালিয়ে যান সেক্ষেত্রে পুরসভা খতিয়ে দেখে সেই সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

উল্লেখ্য,যেকোন ব্যবসা শুরু করার জন্য পুরসভার কাছে সেই ব্যাবসার ধরণ সহ অন্যান্য তথ্য জানিয়ে বৈধ অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু বড়নীলপুর মোড়ে পারবিরহাটায় জিটি রোডের উপর ওই রেস্টুরেন্টটি পুরসভার কাছে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন জানালেও বিশেষ কারণে সেই অনুমোদন আজও পায়নি। যদিও এই রেস্তোরাঁর অন্যতম কর্ণধার মিষ্টি রায় চৌধুরী জানিয়েছেন,তার কাছে নাকি বৈধ ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে।কিন্তু বর্ধমান পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এই রেস্তোরাঁর কোন ট্রেড লাইসেন্স এখনো হয়নি। ফলে  রেস্টুরেন্ট ব্যাবসা চালানোর  জন্য জরুরি ফুড,ফায়ার এবং পলিউশন দপ্তরে লাইসেন্স আদৌ রয়েছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কারণ এই সমস্ত দপ্তরের ছাড়পত্র পেতে গেলে নূন্যতম ট্রেড লাইসেন্সের কপি জমা করতে হয় বলে সূত্র মারফত জানা গেছে। 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,গোটা বর্ধমান শহর জুড়েই বিনা ট্রেড লাইসেন্সে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এমন ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা শতাধিক। এই তথ্য স্বীকার করে নিয়েছেন খোদ পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলার সেলিম খান এবং মমতা রায়। তাঁরা জানিয়েছেন,পুরসভার কাছে আবেদন না করেই  ব্যবসা করছে এই ধরণের প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি বাড়ানোর জন্য ইতিমধ্যেই পুরসভায় আলোচনা হয়েছে। পুরসভার রাজস্ব বাড়ানোর জন্য খুব শীঘ্রই পদক্ষেপ করা হবে। যদিও সেলিম খান জানিয়েছেন,শহরের বহু পুরোনো বিল্ডিংয়ে ব্যাবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স রিনিউ করার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে সেই বিল্ডিংএর মালিক। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে বাবসাদারের সদিচ্ছা থাকলেও বাড়ির মালিকের ট্যাক্স বাকি থাকার কারণে ওই বাড়িতে ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স রিনিউ আটকে যাচ্ছে। তিনি বলেন খুব শীঘ্রই ব্যাবসায়িক সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা করে এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বর্ধমান ব্যাবসায়ী সুরক্ষা সমিতির সম্পাদক গোপাল দাস জানান,তারা এর আগেও পুরসভার সঙ্গে আলোচনা করে ব্যাবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স করে নেবার জন্য আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু মুষ্টিমেয় কয়েকজন ছাড়া এব্যাপারে সকলকে এগিয়ে আস্তে দেখা যায়নি। তবে পুরসভা কোন উদ্যোগ নিলে ব্যাবসায়ীদের স্বার্থে সংগঠন সহযোগিতা করবে।

অন্যদিকে পূর্ব বর্ধমান চেম্বার অফ ট্রেডার্স এর সম্পাদক চন্দ্রবিজয় যাদব জানান, তাদের সংগঠনের সদস্য হতে গেলে ট্রেড লাইসেন্স জরুরি। সেক্ষেত্রে যদি কারোর ট্রেড লাইসেন্স না থাকে,বা কোন অসুবিধা থাকে সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এদিকে বর্ধমান শহরের ব্যাবসায়ীদের একাংশের দাবি,বর্ধমান পুরসভার গড়িমসি এবং গাফিলতিতেই লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে পুরসভা।এব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ করা উচিত।  
বর্ধমানে ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই চলছে শতাধিক ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান,হেলদোল নেই পুরসভার
  • Title : বর্ধমানে ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই চলছে শতাধিক ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান,হেলদোল নেই পুরসভার
  • Posted by :
  • Date : March 25, 2018
  • Labels :
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top