728x90 AdSpace

Latest News

Friday, 9 February 2018

শিবরাত্রির সঙ্গে জড়িয়ে আছে পৌরাণিক এক ব্যাধের কাহিনী


ফোকাস বেঙ্গল ওয়েব ডেস্কঃ'শিবরাত্রি' শব্দটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দুটি শব্দ- 'শিব' এবং 'রাত্রি'। অর্থাৎ শিবকে কেন্দ্র করে একটি রাত। ফাল্গুন মাসের শিব চতুর্দশীতে রাত জেগে মহাদেবের আরাধনা করে তাঁকে সন্তুষ্ট করার এই প্রক্রিয়া ভারতে চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। 

কিন্তু কেন আরাধনার এই ধরণ ?
পুরাণে এনিয়ে নানা কাহিনী থাকলেও প্রাচীন কাল থেকে মানুষের মুখে মুখে ফেরে এক গরীব ব্যাধের কাহিনী। চতুর্দশীর সারাদিনটা জঙ্গলে শিকারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায় এক ব্যাধ। কিন্তু শিকার মেলেনা। অবশেষে সন্ধ্যের অন্ধকারে ঘন জঙ্গলে রাস্তা হারিয়ে ফেলে সে। একদিকে সারা দিনের শ্রম, অন্যদিকে ক্ষুধায়-তৃষ্ণায় কাতর ব্যাধের করুণ অবস্থা। তার ওপর অন্ধকার জঙ্গলে হিংস্র জন্তুর আক্রমণের ভয়। কি ভাবে বাঁচাবে নিজেকে এই চিন্তায় অনেক ভেবে একটা উঁচু গাছে রাত কাটাবার সিদ্ধান্ত নিল সে। কিন্তু গাছে ওঠার সময় শিশিরে বারবার পা পিছলে যাচ্ছিল তার। কোনোমতে গাছে উঠতে পারলেও তার গায়ে লেগে শিশির-সিক্ত পাতা খসে পড়তে থাকে গাছের নীচে। ব্যাধ জানত না কি আছে সেই গাছের তলায়। কিন্তু সকালের আলো ফুটতেই তার চোখে পড়ে সে রয়েছে একটি বেল গাছের ওপর, আর গাছের থেকে খসে পড়া বেলপাতা সমূহ গিয়ে পড়েছে তলায় প্রতিষ্ঠিত একটি শিবলিঙ্গের ওপর। অল্পে সন্তুষ্ট মহাদেব ভেজা বেলপাতা পেয়ে তুষ্ট হলেন ব্যাধের ওপর। আবির্ভূত হলেন তার সামনে। ব্যাধ তখন বিস্ময়ে বাক্যহারা। দেবাদিদেব তাঁকে বর দিলেন -"তোমার দু:খ ঘুচবে। আর এই ফাল্গুন মাসের চতুর্দশীর সারাটা রাত এমনি করে অনাহারে থেকে শিবের ব্রত যে পালন করবে, সেই আমার কৃপা পাবে"।
কথিত আছে, সেই থেকেই শুরু 'শিবরাত্রি'। রাত জেগে অনাহারে থেকে সকালে শিবলিঙ্গে জল ঢেলে মহাদেবকে সন্তুষ্ট করে তার বরপ্রাপ্তির আশায় তাই আজও ভারতবাসী নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে চলেছে এই ব্রত। তবে পূরণের সেই সময়ের পালনীয় রীতির সঙ্গে আজ পূজা-অর্চনার রূপেরও কিছুটা বদল হয়েছে। পার্বতীর ন্যায় হিন্দু কুমারীরা অনেকেই শিবের মত স্বামীর কামনা করে পালন করে শিবরাত্রি। শিবলিঙ্গে জল ঢেলে তাদের কতজনের সেই মনষ্কামনা পূর্ণ হয়েছে জানা যায় না। তবে ব্রতপালনের স্পৃহায় যুগের পর যুগ ধরে বজায় রয়েছে শিবরাত্রির মহিমা, বেঁচে রয়েছে অনাহারক্লিষ্ট এক ব্যাধের কাহিনী। 
শিবরাত্রির সঙ্গে জড়িয়ে আছে পৌরাণিক এক ব্যাধের কাহিনী
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a comment

Top