728x90 AdSpace

Latest News

Sunday, 8 September 2019

বর্ধমানে এবারের পুজোয় বিজেপি নেতৃত্ব, শহর জুড়ে চর্চা


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: কলকাতার ছায়া এবার বর্ধমান শহরের দুর্গাপুজোতেও। দুর্গাপুজোয় বিজেপি নেতৃত্ব। আর এই ঘটনায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়ে গেছে শহর জুড়ে। রবিবার বর্ধমান শহরের ঘোড়দৌড় চটি সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি এব্যাপারে সাংবাদিক বৈঠকও করলেন। বর্ধমান শহরে যে কয়েকটি বড় পূজো অনুষ্ঠিত হয় তার মধ্যে অন্যতম ঘোড়দৌড় চটি এলাকার সর্বমিলন সংঘের পুজো। জিটিরোডের ধারে ঘোড়দৌড় চটি মোড়ে বিগ বাজেটের এই পুজোকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহও চরমে ওঠে। এবার সেই পুজো কমিটির দায়িত্বে এলেন বিজেপির প্রাক্তন যুবমোর্চার জেলা সভাপতি শ্যামল রায়। 

শ্যামলবাবু জানিয়েছেন, এলাকার মানুষ চেয়েছেন তাই তিনি পুজোর দায়িত্ব নিয়েছেন। এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা তথা পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য ডা. ভীষ্মদেব সাউ জানিয়েছেন, ১৯৬৫ সালে ঘোড়দৌড় চটি এলাকার কয়েকজন কোল্ড স্টোরেজের মালিক এবং স্থানীয় মানুষ এই পুজোর সূচনা করেন। সম্প্রতি এই পুজো উদ্যোক্তাদের প্রবীণ সদস্য শ্যামাপদ পাল প্রয়াত হয়েছেন। ভীষ্মদেববাবু জানিয়েছেন, বেশ কয়েকবছর ধরে পুজো চলার পর ১৯৭৭ সাল নাগাদ কোল্ড স্টোরেজের মালিকরা পুজোর দায়িত্ব ছেড়ে দেন। কিন্তু এলাকার মানুষ এগিয়ে আসেন, তাঁরা জারী রাখেন পুজো। এরপর ৯০-এর দশকে সর্বমিলন সংঘের নামে পুজো চলতে থাকে। সম্প্রতি জিটি রোডের সম্প্রসারণের জেরে পুজোর জায়গাও কমে যায়। 

ভীষ্মদেববাবু জানিয়েছেন, মাঝখানে ৩টে বছর ঘোড়দৌড়চটি মোড় থেকে পুজোকে সরিয়ে ওলাইচণ্ডিতলা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পুজোর সময় দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যুর পর ফের ফিরিয়ে আনা হয় ঘোড়দৌড়চটি এলাকায়। কিন্তু এবার সর্বমিলন সংঘ পুজোর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু এলাকার মানুষ চান দীর্ঘদিনের এই পুজো কোনোভাবেই যাতে বন্ধ না হয়। তাই এবারে তৈরী করা হয়েছে নতুন কমিটি। যার সভাপতি হয়েছেন বিজেপি নেতা শ্যামল রায়। সম্পাদক পদে রয়েছেন অসীমরঞ্জন হাটি এবং গৌতম বিশ্বাস। 

অসীমবাবু জানিয়েছেন, এই পুজো বন্ধ হলে এলাকার মানুষের আবেগে বড় ধাক্কা লাগবে। এলাকার মানুষজন চেয়েছেন, এই এলাকার পুজো বন্ধ হলে এলাকার মানুষকে অনেক দূরে পুজো দিতে যেতে হবে। তাই যে কোনো মূল্যেই তাঁরা পুজো চালু রাখতে চান। তাই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। অসীমবাবু জানিয়েছেন, শ্যামলবাবুকে তাঁরাই দায়িত্ব দিয়েছেন পুজো যাতে সুষ্ঠভাবে হয়। এজন্য কেউ রাজনীতির রং দেখতেই পারেন। কিন্তু পুজো পুজোই। তার মধ্যে কোনো রাজনীতি নেই। 

শ্যামলবাবু জানিয়েছেন, এই পুজোর বাজেট এবার প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। পুজোর থিম 'সেভ ট্রি, সেব আর্থ' – 'আর হব না অবুঝ, চলো বাঁচাই সবুজ'। তিনি জানিয়েছেন, মণ্ডপ গড়ছেন পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার যমুনা ডেকরেটর। আলোকসজ্জায় বর্ধমানের সেন ইলেকট্রনিক্স এবং মূর্তি গড়ছেন বর্ধমানের ওড়গ্রামের শিল্পী কানাইরঞ্জন পাল। তিনি জানিয়েছেন, গোটা মণ্ডপটাই তৈরী করা হচ্ছে পরিবেশবান্ধব জিনিসপত্র দিয়ে।
বর্ধমানে এবারের পুজোয় বিজেপি নেতৃত্ব, শহর জুড়ে চর্চা
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top