728x90 AdSpace

Latest News

Friday, 13 September 2019

নির্মল জেলা পূর্ব বর্ধমান, তবু শৌচাগারহীন ৬৭ হাজার পরিবার!


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: ২০১৮ সালে রীতিমত ঘটা করেই পূর্ব বর্ধমান জেলাকে নির্মল জেলা হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল।ঘোষণা করা হয়েছিলো, জেলার সমস্ত মানুষই শৌচাগার ব্যবহার করেন। কেউই আর মাঠেঘাটে মলমূত্র ত্যাগ করেন না - এমনটাই সেদিনের দাবী ছিল জেলা প্রশাসনের। জেলার প্রতিটি ব্লক, প্রতিটি গ্রামে গ্রামে আচমকা হানা দিয়ে নির্মল জেলার অভিযানকে সম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নিয়েছিল জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের সমস্ত আধিকারিক থেকে জনপ্রতিনিধিরাও রাতের অন্ধকারেই হানা দিয়েছিলেন গ্রামের মাঠে ঘাটে। কখনও গান্ধীগিরি করে মাঠে মলমূত্র ত‌্যাগ করতে যাওয়া ব্যক্তিদের হাতে গোলাপ ফুল তুলে দিয়ে ভদ্রভাবে অপমানিত করা হয়েছে। আবার মাঠে মলমূত্র ত্যাগ করলে তাদের রেশন বন্ধ করারও নিদান দেওয়া হয়েছিল। সবমিলিয়ে কিছুটা হলেও কাজ হয়েছিল প্রশাসনিক এই সব পদক্ষেপে। 

যদিও নিন্দুকেরা সমালোচনা করতে ছাড়েনি। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন আদপেই যে শৌচাগার তৈরী করা হয়েছে তা কি উপভোক্তারা ব্যবহার করছেন। দাবী উঠেছিল নিয়মিত মনিটরিং করারও। এদিকে, এই পরিস্থিতিতেই ২০১৮ সালে পূর্ব বর্ধমান জেলাকে নির্মল জেলা হিসাবে ঘোষণা করার পর ফের বেস সার্ভে শুরু হয়। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দেবু টুডু জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে শৌচাগার তৈরী করার পর তাঁরা হাল ছাড়েননি। নিয়মিত বিষয়টিতে নজরদারী চালানো হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের পর ফের যে বেস লাইন সার্ভে করা হয় তাতে দেখা গেছে প্রায় ৬৭ হাজার পরিবার শৌচাগারহীন হয়ে রয়েছে। 

আর এরপরই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সব বাড়িতে বাড়িতে তথা প্রতিটি পরিবারে শৌচাগার তৈরীর পর কিভাবে গোটা জেলায় ৬৭ হাজার পরিবারকে চিহ্নিত করা হল শৌচাগারহীন ভাবে? দেবু টুডু জানিয়েছেন, এব্যাপারে সার্ভের যে রিপোর্ট তাতে বলা হয়েছে - পরিবার ভেঙে যাওয়া এবং নতুন করে বাড়ি করার জন্যই এই পরিবারগুলিতে কোনো শৌচাগার দেখা যায়নি। তাই জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় চলতি ৩০ সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই এই ৬৭ হাজার পরিবারের জন্য শৌচাগার তৈরী করে দেওয়া হবে। 

দেবু টুডু জানিয়েছেন, মোট ১০ হাজার ৯০০ টাকার প্রতিটি শৌচাগার তৈরীর ক্ষেত্রে উপভোক্তা কে দিতে হয় ৯০০ টাকা এবং বাকি টাকা সরকার দিচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই এই ৬৭ হাজার শৌচাগার তৈরীর কাজ পুরোদমে চলছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই ১৬০০ শৌচাগার তৈরী করে পরিবারগুলির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, তাঁরা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যে লক্ষ্যমাত্র নিয়েছেন তা সম্পূর্ণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিডিও এবং জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এখন দেখার বিষয় চলতি মাসের বাকি আরও দু সপ্তাহ। তার মধ্যে শৌচাগার তৈরির লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে জেলা পরিষদ পারে কিনা।
নির্মল জেলা পূর্ব বর্ধমান, তবু শৌচাগারহীন ৬৭ হাজার পরিবার!
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top