728x90 AdSpace

Latest News

Friday, 2 August 2019

রাজ্যের মধ্যে প্রথম বেসরকারী উদ্যোগে দুর্ঘটনামুক্ত গ্রাম হতে চলেছে বর্ধমানের পাল্লারোড


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ গোটা রাজ্যের মধ্যে প্রথম পূর্ব বর্ধমান জেলায় সম্পূর্ণ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তথা ক্লাবের উদ্যোগে তৈরী হতে চলেছে সেফ ড্রাইভ,সেভ লাইফ গ্রাম। 'দুর্ঘটনা মুক্ত পাল্লারোড - মডেল ট্রাফিক ভিলেজ পাল্লারোড' এই লক্ষ্য কে সামনে রেখে আগামী বুধবার থেকেই শুরু হচ্ছে একেবারেই মোটর দুর্ঘটনা মুক্ত পাল্লারোড তৈরীর কাজ। উদ্যোক্তা পাল্লারোডের পল্লীমঙ্গল সমিতি।

ইতিমধ্যেই এই সমিতি একাধিক সামাজিক কাজ করে রীতিমত আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। নদীর ধারে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারী মাসে পিকনিকের জেরে প্ল্যাষ্টিকে ছেয়ে যাওয়া নদীকূলকে রক্ষা করতে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে এসেছেন এই সমিতি। শুধু এগিয়ে আসাই নয়, রীতিমত সঠিক ভাবে রাসায়নিক প্রয়োগ করে কিভাবে পরিবেশে দূষণ না ছড়িয়ে এই সব বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলা যায়, তারও অভিনব দিশা দেখিয়েছে এই সমিতি। এমনকি দেওয়া হয়েছে পিকনিক দলগুলির হাতে মাটির গ্লাস, শালপাতার থালা। আবেদন রাখা হয় প্ল্যাষ্টিক মুক্ত পরিবেশের।

 এরই পাশাপাশি সেফ ড্রাইভ সেভ লাইভ শ্লোগানকে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দিতে স্থানীয় হাসপাতালে একদিকে যেমন তাঁরা চালু করেছেন ওষুধ দেবার বিশেষ খাম, পাশাপাশি সেই খামের উপর সাধারন মানুষকে সচেতন করতে ছেপে দিয়েছেন পথ দুর্ঘটনা রোধে নানান বার্তা। আর এবার আরও বৃহত্তর চিন্তাভাবনায় সম্ভবত রাজ্যের মধ্যে প্রথম তাঁরা গোটা পাল্লারোড গ্রামকেই মোটর দুঘর্টনামুক্ত করতে উদ্যোগী হয়েছেন। 

ক্লাবের সম্পাদক সন্দীপন সরকার জানিয়েছেন, অনেকদিন ধরেই তাঁরা এরকম একটা ভাবনা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছিলেন। গোটা রাজ্যের মধ্যে মডেল হিসাবে তাঁরা তুলে ধরতে চাইছেন পাল্লারোড গ্রামকে। তিনি জানিয়েছেন, এই গ্রামের মধ্যে দিয়েই গেছে পাল্লারোড-বড়শুল রোড। যে রোডে প্রতি মূহূর্তে চলাচল করছে প্রচুর সংখ্যক বালির লরী। এই রাস্তাতেই রয়েছে খান ছয়েক স্কুল। রীতিমত যানবাহন বহুল রাস্তা হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে এই গ্রাম। প্রায়শই দুর্ঘটনাও ঘটছে। কিভাবে রোধ করা যায় এই দুর্ঘটনা - তানিয়ে তাঁরা ক্লাবের পক্ষ থেকে বিস্তর ভেবেছেন। আর তারপরেই সমস্ত পরিকল্পনা তৈরী করে আগামী বুধবার থেকে নামছেন কাজে।


ইতিমধ্যেই এই কাজে এগিয়ে এসেছে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত। তারা ৪ কাঠা জমি দিয়েছেন। সেই জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে ট্রাফিক পার্ক। ট্রাফিক কি? কি পালনীয়? যাবতীয় বিষয়কে তুলে ধরা হচ্ছে এই পার্কে। থাকছে গ্রামে ঢোকা ও বের হবার মুখে দুজন করে ভলেণ্টিয়ার। থাকছে রাস্তার গার্ড। গ্রামে ঢুকতে গেলেই হেলমেট পড়া, গাড়ির সিটবেল্ট পড়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। গ্রাম থেকে বার হতে গেলেও পড়তেই হবে হেলমেট। নাহলে স্বেচ্ছাসেবকরা শাস্তি স্বরূপ আপনাকে ২০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রেখে হেলমেট ধার দেবেন। অবশ্যই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই হেলমেট আপনাকে ফেরত দিতে হবে। না হলে স্বেচ্ছাসেবকরা সটান আপনার বাড়ি পৌঁছে যাবেন হেলমেট ফেরত আনতে।

.সন্দীপনবাবু জানিয়েছেন, শুধু তাইই নয়, গ্রামের কোনো অনুষ্ঠানেও উপহার হিসাবে সেফ ড্রাইভ সেভ ড্রাইভের প্রচারে কিছু দেওয়া যায় কিনা তাও তাঁরা ভাবছেন। শুধু এটাই নয়, গ্রামের প্রতিটি বাড়ির দেওয়ালেই তাঁরা আঁকছেন বিভিন্ন সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ সংক্রান্ত বিভিন্ন ছবি। সন্দীপনবাবু জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে গোটা পরিকল্পনা তৈরী করতে প্রায় ২ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। আর্থিক বিষয়টি ক্লাবের কর্মকর্তাদের ভাবালেও তাঁরা আশা করছেন সকলেই এগিয়ে আসবেন এই অভিনব ভাবনাকে বাস্তব রুপদান করতে।
রাজ্যের মধ্যে প্রথম বেসরকারী উদ্যোগে দুর্ঘটনামুক্ত গ্রাম হতে চলেছে বর্ধমানের পাল্লারোড
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top