728x90 AdSpace

Latest News

Friday, 26 July 2019

বর্ধমান হাসপাতালের ভেতরেই রমরমিয়ে চলছে আগুন জ্বালিয়ে ৪টি স্টল, বিতর্ক তুঙ্গে,উঠছে প্রশ্ন


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ কলকাতার আমরি হাসপাতালে দুর্ঘটনার স্মৃতি আজও মানুষ ভোলেনি। সেই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রির নির্দেশে রাজ্যের সমস্ত সরকারী হাসপাতালগুলিতে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর নির্দেশিকা জারী করা হয়েছিল। সেই নির্দেশিকা অনুসারে কিছুটা কাজ এগোলেও খোদ বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিতরেই সম্পূর্ণ অবৈধভাবে চলছে চার চারটি খাবারের স্টল। যার একটি যেমন রয়েছে খোদ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের গেটের পাশে, তেমনি রয়েছে গাইনি ওয়ার্ডের গেটের পাশে। একটি রয়েছে শিশু বিভাগের কাছে আর অন্যটি রয়েছে রাধারাণী ওয়ার্ডের উল্টোদিকে। উল্লেখ্য, প্রতিটি জায়গাই অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং দিনরাত সবসময় রোগী ও রোগীর পরিবারের লোকেদের ভিড় থাকে।


ইতিমধ্যেই খোদ হাসপাতালের মধ্যে সরকারী নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে চার চারটি স্টল করা এবং সেখানে রীতিমত উনান জ্বালিয়ে রান্না করার ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, কাদের মদতে এই স্টলগুলি রমরমিয়ে চলছে। যেখানে সরকারি হাসপাতালের ভিতর অনুমোদন ছাড়া কোন ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না, সেখানে এই স্টল গুলি কিভাবে দিনের পর দিন ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আর এবার এই ঘটনাকে নিয়েই সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ। 

পূর্ব বর্ধমান জেলা যুব কংগ্রেসের সভাপতি গৌরব সমাদ্দার জানিয়েছেন, এর আগেও তাঁরা হাসপাতালের চিকিত্সা পরিষেবা নিয়ে একাধিক স্মারকলিপি দিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সহ জেলা প্রশাসনের কাছে। হাসপাতালের ভেতর অবৈধ স্টল নিয়ে যা চলছে তা কখনই বরদাস্ত করা হবে না। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছেন। এব্যাপারে তাঁরা খুব শীঘ্রই ওই সমস্ত স্টল উচ্ছেদের জন্য আন্দোলনে নামতে চলেছেন। এরই পাশাপাশি বিজেপির দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক দেবাশীষ সরকারও জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি নিয়ে বিজেপি আন্দোলনে নামতে চলেছে।


উল্লেখ্য, বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বর্ধমান পুরসভার ২৯নং ওয়ার্ডের মধ্যে অবস্থিত। অভিযোগ উঠেছে, এই ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সুশান্ত প্রামাণিক যিনি বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্যও তিনিই এই স্টলগুলি বসানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। গোটা বিষয়টি সম্পর্কে খোদ সুশান্ত প্রামাণিক জানিয়েছেন, এই স্টলগুলি মোটেও অবৈধ নয়। রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকেই এই স্টল বসানোর ব্যাপারে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও রয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, ২০১৬ সাল থেকেই সেইসময়কার হাসপাতাল সুপার ডা. উৎপল দাঁ হাসপাতালের ভেতরে হকার উচ্ছেদ নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নেন। সুশান্ত প্রামাণিকের অভিযোগ, উৎপলবাবুর একটাই এজেণ্ডা ছিল হকার উচ্ছেদ। এমনকি গত মে মাসেও তাঁর যাবার আগে তিনি চিঠি করে যান ৩জুন থেকে কোনো হকারকেই হাসপাতালের ভেতর বসতে দেওয়া হবে না। সুশান্তবাবু জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালের ভেতর ৯৮ জন হকার কাজ করছিলেন। হকার উচ্ছেদ নিয়ে সরকার তথা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী হওয়ার পর তিনিই উদ্যোগ নিয়ে হকারদের পুনর্বাসনের দাবীতে সোচ্চার হন। দফায় দফায় তিনি রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের কাছেও হকারদের পরিবার সহ নিয়ে গিয়ে এই দাবী জানান। এরপরই রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে হকারদের পুর্নবাসনের জন্য পরিকল্পনা চাওয়া হয়। তখনই তিনি এই চারটি স্টল দেবার কথা বলেন।
সুশান্তবাবু জানিয়েছেন, তাঁর পরিকল্পনা অনুসারেই ৪টি স্টলে পর্যায়ক্রমে সকাল আটটা থেকে দুপুর ২টো এবং দুপুর ২টো থেকে রাত্রি ১০টা পর্যন্ত দুজন হকারকে সপ্তাহে ৫দিন করে বসার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর সেভাবেই চলছে। সুশান্তবাবুর দাবী, এই স্টল সম্পূর্ণ বৈধ। বিশেষত, যেখানে রাজ্য সরকার হকার উচ্ছেদের বিরোধী, সেখানে হকার উচ্ছেদ না করে তাঁদের পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে মানবিক কারণেই। যদিও হাসপাতালের ডেপুটি সুপার ডাঃ আমিতাভ সাহার কাছে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, এই বিষয়টি তাঁর এক্তিয়ারভুক্ত নয়। এব্যাপারে সুপার, রোগী কল্যান সমিতির চেয়ারম্যান অথবা জেলাশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য।
এদিকে, সুশান্তবাবু, এই স্টল সম্পর্কে বৈধতার কথা বললেও খোদ রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান স্বপন দেবনাথ জানিয়েছেন, এগুলির কোনো বৈধ বা অবৈধ কোনো অনুমতিই তাঁরা দিতে পারেন না। হকাররা তাঁর কাছে এসেছিলেন। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রেখে কোনো অসুবিধা সৃষ্টি না করে তাদের হকারি করার মৌখিক অনুমতি দেওয়া হলেও রীতিমত আগুন জ্বালিয়ে স্টল সাজিয়ে বসার কোনো অনুমতিই দেওয়া হয়নি। এই ধরণের অনুমতি তাঁরা দিতেও পারেন না। এদিন তিনি জানিয়েছেন, কোনোভাবেই আগুন জ্বালিয়ে স্টল সাজানো চলবে না। এব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
বর্ধমান হাসপাতালের ভেতরেই রমরমিয়ে চলছে আগুন জ্বালিয়ে ৪টি স্টল, বিতর্ক তুঙ্গে,উঠছে প্রশ্ন
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top