728x90 AdSpace

Latest News

Saturday, 6 July 2019

অবশেষে মহালয়ার দিনই উদ্বোধন হতে পারে বর্ধমানের রেলওয়ে ওভারব্রীজের


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ বহু প্রতীক্ষিত বর্ধমান শহরের রেলওয়ে ওভারব্রীজের কাজ শেষ করে আগামী পুজোর আগেই এবং সম্ভবত মহালয়ার দিনই উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হল। শনিবার জেলাশাসকের নেতৃত্বে রেলওয়ে ওভারব্রীজ নির্মাণকারী সংস্থার প্রতিনিধি, পূর্ব রেলের প্রতিনিধি সহ জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরা এই ব্রীজের কাজ এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক করলেন ওভারব্রীজ সংলগ্ন এলাকাতেই। জেলাশাসক বিজয় ভারতী জানিয়েছেন, রেলওয়ে ওভারব্রীজের এ্যাপ্রোচ রোডের জায়গা নিয়ে কিছু জটিলতা ছিল তা মিটে গেছে। ব্রীজ নির্মাণকারী সংস্থা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় টাকা না পাওয়ায় কাজ কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়েছিল। যাবতীয় এই সমস্ত জটিলতা কাটানো গেছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার তার শেয়ারের টাকার বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে। অতি দ্রুত যাতে এই ওভারব্রিজের কাজ শেষ করে সর্ব সাধারনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া যায় সে ব্যাপারে এদিন একটি ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে।


উল্লেখ্য, বর্ধমান ষ্টেশনের ওপর ব্রিটিশ আমলে তৈরী হওয়া বর্ধমান কাটোয়া ওভারব্রীজ ক্রমশই ধ্বংসের মুখে পড়ায় তা মেরামতের পাশাপাশি নতুন করে আরও চওড়া ব্রীজের দাবী ক্রমশই জোড়ালো হয়ে উঠতে শুরু করে। ১৯৯৬ সালে এই ব্রীজ তৈরীর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু তত্কালীন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস না মেলায় ব্রীজের পরিকল্পনা থমকে যায়। এরপর ২০০৭ সালে ফের ব্রীজ নিয়ে নড়েচড়ে ওঠে তত্কালীন বাম সরকার। ২০০৮ সালে রাজ্য সরকার এব্যাপারে ফের বৈঠক করে। এরই পাশাপাশি পুরনো যে ব্রীজটি ছিল তার পিলার বর্ধমান ষ্টেশনের ওপরে থাকায় ষ্টেশনের প্লাটফর্ম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সমস্যাও দেখা দিচ্ছিল। ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে বর্ধমান ষ্টেশনকেও আরও বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। এরপরই ২০১২ সালে ১৮৮.৪৩১ মিটার লম্বা এবং ২৭.৭ মিটার চওড়া , দুদিকে ১.৫ মিটার চওড়া ফুটপাত থাকা , ২৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বর্ধমান ষ্টেশনের ওপর দিয়ে এই ঝুলন্ত দীর্ঘতর ব্রীজ তৈরি কাজ শুরু হয়। মধ্যবর্তী স্তরের কাজ শেষ হয়ে যায় ২০১৫ সালেই। কাটোয়া রোড, কালনা রোড,দুর্গাপুর মুখী রোড ছাড়াও চতুর্মুখী এই ব্রীজের একটি রাস্তা শহরের মধ্যে ঢুকছে। কথা ছিল ২০১৬ সালেই এই কাজ শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু এরই মাঝে এ্যাপ্রোচ রোড নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে ব্রীজের কাজ চলতে থাকায় সাধারণ মানুষকেও যাতায়াতের সময় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়।

শনিবার বৈঠকের পর আরভিএনএলের প্রজেক্ট ডিরেক্টর প্রদ্যুৎ কুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, তাঁরা চেষ্টা করছেন পুজোর আগেই কাজ শেষ করতে। বর্ষা নেমে যাওয়ায় কাজে একটু সমস্যা হবে। তবে পুজোর আগে তাঁরা ব্রীজ হস্তান্তর করতে পারবেন বলে আশা করছেন। জেলাশাসক জানিয়েছেন, এদিনের বৈঠকে ঠিক হয়েছে উড়ালপুলের নিচে সরকারিভাবে বেশ কিছু ঘর তৈরী করা হবে। যেখানে বর্তমানে থাকা কিছু সবজি বাজার সহ ফুটপাতের দোকানদারদের ঘর দেওয়া হবে। লিজের মাধ্যমে এই ঘর দেওয়া হবে পুরসভা ও পূর্ত দপ্তর থেকে।

পাশাপাশি ব্রিজের পাশে তৈরী করা হবে একটি পার্কও। এছাড়াও মহিলা পুলিশ থানার আউটপোষ্ট, ট্রাফিক পুলিশের কন্ট্রোলরুমও থাকবে। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ব্রিজের উপরে থাকবে স্পিডো মিটার। নির্দিষ্ট গতির উপরে কেউ গাড়ি চালালে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। এছাড়াও গোটা এলাকায় সিসিটিভি বসানো হবে। বেশ কয়েকটি জায়গায় পার্কিং জোন করা হবে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে এখানে পার্কিং করার ব্যবস্থা থাকবে। তার সঙ্গে করা হচ্ছে টোটো স্ট্যান্ডও। শহরের মধ্যে গাড়ি ঢোকার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রন করা হবে প্রথম থেকেই। এই উড়ালপুলেই থাকবে বর্ধমান মহিলা থানার অধীনে একটি আলাদা মহিলা পুলিশের ইউনিট।
অবশেষে মহালয়ার দিনই উদ্বোধন হতে পারে বর্ধমানের রেলওয়ে ওভারব্রীজের
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top