728x90 AdSpace

Latest News

Sunday, 14 July 2019

জলস্তর নেমে যাওয়ায় এবার সাবমার্শিবল বসানোর ক্ষেত্রে কড়া হচ্ছে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদ


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়েই হু হু করে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর নেমে যাওয়া এবং মুড়ি মুড়কির মতই সাবমার্শিবল বসানোর বিরুদ্ধে এবার বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদ। জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া জানিয়েছেন, যেভাবে জলস্তর ক্রমশ নেমে যাচ্ছে তাতে অবিলম্বে একটা নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরী হয়ে পড়েছে। তাই এব্যাপারে জেলার সমস্ত পঞ্চায়েতকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নিজের নিজের এলাকায় সাবমার্শিবল বসানোর ক্ষেত্রে আরও কড়া এবং সতর্ক হতে হবে। ইচ্ছামত আর সাবমার্শিবল বসানো যাবে না। এব্যাপারে পঞ্চায়েত প্রধানদের নজরদারী আরও বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাঠানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ভূগর্ভস্থ জলের অপচয় রোধে ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কলকাতার রাজপথে পদযাত্রা করে জনসচেতনতা গড়ে তোলার ডাক দিয়েছেন। একইদিনে রাজ্যের সমস্ত ব্লকে ব্লকেও একই কর্মসূচী পালিত হয়েছে। খোদ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই জেলার কালনা ও কাটোয়ার বেশ কিছু অংশকে ক্রিটিক্যাল এবং সেমি ক্রিটিক্যাল হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই সমস্ত জায়গায় পানীয় জলের ক্ষেত্রেই হোক অথবা চাষের প্রয়োজনে সাবমার্শিবল বসানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এবার জেলার অন্যান্য প্রান্তেও জলকষ্টের জন্য সতর্ক থাকার এবং এব্যাপারে অনুমোদন দেবার আগে বিস্তারিত ভাবনা চিন্তা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভাধিপতি জানিয়েছেন,সাবমার্শিবল বসানোর ক্ষেত্রে উপযুক্ত কারণ দর্শানো এবং সে ব্যাপারে নিশ্চিত হবার পরই অনুমোদন দেবার ব্যাপারে তাঁরা সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন। উল্লেখ্য, গোটা জেলা জুড়েই জলের স্তর কমবেশী নেমে যাওয়ায় অধিকাংশ গ্রামের পঞ্চায়েত থেকে দেওয়া টিউবওয়েল অকেজো হয়ে যাচ্ছে। বহু জায়গাতেই পানীয় জল নিয়ে রীতিমত হাহাকার শুরু হয়েছে। শনিবারই বর্ধমান ১ ব্লকের বাঘার ১ পঞ্চায়েতের গোপালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানীয় জলের অভাবে মিড ডে মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা।

অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলের ২ মাস ধরে টিউবওয়েলটি অকেজো হয়ে রয়েছে। কিন্তু তাতে কোনো হেলদোল নেই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের। অন্যদিকে, স্কুলের প্রধান শিক্ষক মানস হাজরা জানিয়েছেন, স্কুলের টিউবওয়েল খারাপের বিষয়টি পঞ্চায়েতকে এবং স্কুলের পরিচালন সমিতিকে জানানো হয়েছে। কিন্তু স্কুলের নিজস্ব তহবিলে টাকা না থাকায় তাঁরা মেরামত করতে পারেননি। বস্তুত, শুধু গোপালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ই নয়, সম্প্রতি বর্ধমান ২নং ব্লকের গাংপুর এলাকায়, আউশগ্রামেও পানীয় জল নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভ দেখিয়েছেন গ্রামবাসীরা।

জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া জানিয়েছেন, সমস্ত পঞ্চায়েতকে নিজের নিজের এলাকায় টিউবওয়েলগুলি মেরামত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে,জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ বাগবুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই তাঁরা গ্রাম পঞ্চায়েত ভিত্তিক বেশ কিছু পানীয় জল প্রকল্প চালু করেছেন। আরও কিছু চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। নতুন করে আরও কিছু পানীয় জল প্রকল্পের অনুমোদনের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, কোথাও কোনো পানীয় জলের সমস্যা দেখা দিলেই দ্রুত সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জলস্তর নেমে যাওয়ায় এবার সাবমার্শিবল বসানোর ক্ষেত্রে কড়া হচ্ছে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদ
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top