728x90 AdSpace

Latest News

Friday, 12 July 2019

বর্ধমানে ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৩ যুবকের রহস্য মৃত্যুর তদন্তে নামল সিবিআই


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ অবশেষে শুক্রবার থেকে ৩ যুবকের রহস্যমৃত্যুর তদন্তে নামল সিবিআই। শুক্রবার সিবিআইয়ের ডিজি অভয় কুমার সিংহের নেতৃত্ব ৭জনের সিবিআইয়ের প্রতিনিধি দল বর্ধমান শহরের আলমগঞ্জে চিলড্রেন্স কালচারাল সেন্টারের সুইমিং পুলে ছাত্রের রহস্য মৃত্যুতে তদন্তে আসেন। ২০১২ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে সুইমিং পুলের জল থেকে বর্ধমান শহরের আনন্দপল্লির যুবক রমেন সামন্তর (২১) দেহ উদ্ধার হয়। শহরের বিবেকানন্দ কলেজের ইংরাজি অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল রমেন। এই ঘটনায় মৃতের বাবা দেবকুমার সামন্ত বর্ধমান থানায় তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ দায়ের করেন। খুনে ছেলের বন্ধু-বান্ধব ও সুইমিং পুল কর্তৃপক্ষ জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেন। খুন করে তাঁর ছেলের দেহ সুইমিং পুলে ফেলে দেওয়া হয় বলে পুলিসে জানান তিনি।
রমেন সামন্তের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নেমে পুলিশ সুইমিং পুলের কেয়ার টেকার গোপীমোহন চট্টোপাধ্যায় ও প্রশিক্ষক প্রসেনজিৎ সোমকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তদন্তভার সিআইডি গ্রহণ করে। সিআইডি তদন্তে জানায়, মৃতের পাকস্থলীতে ইথাইল এ্যালকোহলের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। কিন্তু সিআইডি তদন্তের এই রিপোর্ট মানতে চাননি দেবকুমার সামন্ত। তিনি আদালতে জানান, তাঁর ছেলে মদ খেত না। তাঁকে পরিকল্পিতভাবেই খুন করা হয়েছে। কারণ মৃতদেহের কানের পিছনে এবং শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। বস্তুত, শুক্রবারও সিবিআই প্রতিনিধিদের তিনি একই কথা জানান।


উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর পুজোর দিন বাইকে চেপে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে রহস্যজনকভাবে মারা যায় তেজগঞ্জের বাসিন্দা যুবক কৌশিক রায়। একই দিনে বর্ধমান শহরের আলমগঞ্জের বাসিন্দা অনুজ ভকতের মৃতদেহ উদ্ধার হয় হুগলির সিঙ্গুরে। দুর্ঘটনায় তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় সিআইডি। যদিও মৃতের পরিবার তা মানতে চায়নি। তাঁদের একই জায়গায় খুন করে দেহ দু’টি শক্তিগড় ও সিঙ্গুরে ফেলে দেওয়া হয় বলে পরিবারের লোকজনের আশঙ্কা। অনুজ ও কৌশিকের মৃত্যুর বিষয়ে জেনে ফেলায় রমেনকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে বলে তাঁর পরিবারের দাবি। কৌশিক ও অনুজের মৃত্যুর ঘটনাতেও সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

স্বাভাবিকভাবেই এই ৩ যুবকের মৃত্যুর সঙ্গে কি যোগ রয়েছে এখন তাই ভাবাচ্ছে সিবিআইকে। শুক্রবার আলমগঞ্জের কল্পতরু সুইমিং পুলে তদন্তে এসে সিবিআই অফিসাররা খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন সুইমিং পুলের বিভিন্ন দিক। খোঁজখবর নেন বিভিন্ন বিষয়ের। সুইমিং পুল সংস্থার কর্তা ও কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন সিবিআইয়ের অফিসাররা। তদন্তের বিষয়ে অবশ্য মুখ খুলতে চায়নি সিবিআই। যদিও এতগুলো বছর পর সিবিআই এই তিনটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্ত শুরু করায় সঠিক বিচারের আশা দেখছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা।
বর্ধমানে ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৩ যুবকের রহস্য মৃত্যুর তদন্তে নামল সিবিআই
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top