728x90 AdSpace

Latest News

Wednesday, 12 June 2019

বর্ধমানে জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতির জেরে চরম ভোগান্তির মুখে রোগীরা


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ অনেক আশা নিয়ে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছিলেন চিকিৎসা করাতে। কিন্তু মঙ্গলবার থেকে জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতির জেরে চরম আতংক গ্রাস করল রোগীদের। মঙ্গলবার সকাল থেকেই চলছিল বিক্ষোভ। মঙ্গলবার সন্ধ্যে থেকেই বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের গেট বন্ধ করে দেন জুনিয়র ডাক্তাররা। বন্ধ হয়ে যায় রোগী ভর্তি। অন্যদিকে, ভেতরে আটকে পড়েন রোগী সহ রোগীপক্ষের লোকজন। তাঁদের বাইরে আসতেও দেওয়া হয়নি। ফলে অনেকেই খাবার না পেয়ে, জল না পেয়ে অসুস্থ হতে শুরু করেন।

এদিকে, মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়ে বুধবার। বুধবার সকাল থেকে শুরু জরুরী বিভাগের গেট বন্ধই নয়, হাসপাতাল ঢোকার সব গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর তার জেরেই ভয়াবহ ভোগান্তির মুখে পড়লেন রোগীরা। পথ দুর্ঘটনায় জখম সেখ সাহাদাতকে নিয়ে খণ্ডঘোষ থেকে এসেছিলেন তাঁর দিদি নয়নতারা বিবি। কিন্তু হাসপাতালেই ঢুকতে পারেননি। দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পাওয়া রোগী দেওয়ানদিঘীর বাসিন্দা লক্ষ্মণ হেমব্রমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে এলেও তাঁকেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বুকের সমস্যা নিয়ে বর্ধমান হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন বাপন সমাদ্দার। পাল্লা রোডের বাসিন্দা। গেট বন্ধ করে দেওয়ায় তিনিও ঢুকতে পারেননি।

প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে কাতরাতে কাতরাতে মুর্শিদাবাদের কাঁদি থেকে বর্ধমান হাসপাতালে এসেছিলেন আদুরি বিবি। দ্রুত প্রসবের প্রয়োজন ছিল তাঁর। কিন্তু তাঁকেও ঢুকতেই দেওয়া হয়নি হাসপাতালে। পা ভেঙ্গে যাওয়ায় ১৬দিন আগে পায়ের অপারেশন করিয়ে বাড়ি গিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের সালারের বাসিন্দা বৃদ্ধ শুকতার সেখ। বুধবার তাঁকে হাসপাতালে আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনিও ঢুকতে পারলেন না। পায়ে ট্রাকশান নিয়েই তাঁকে ফিরে যেতে হল বাড়ি। মাত্র ৪ বছরের শিশু রুমি খাতুন পায়খানা জ্বর উপসর্গ নিয়ে প্রথমে বোলপুরের সিয়ান হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। কিন্তু উপসম না হওয়ায় তাকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। শিশুকে কোলে নিয়ে বাবার আকুতিও মন গলাতে পারেনি জুনিয়র ডাক্তারদের। ফিরে যেতে হল তাকেও। একইভাবে বুধবার পেটে যন্ত্রণা নিয়ে নারায়ণগড় থেকে এসেও ফিরে যান মনু টুডু। কিডনির সমস্যা নিয়ে এসেও ফিরে যান মন্তেশ্বরের ইজাবুল মণ্ডল। কার্যত বুধবার বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দিনভরই চলল এই চিত্র। শুধু এটাই নয়, এরই পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি থাকা একাধিক রোগীকেও এদিন ভয় দেখিয়ে ছুটি দেওয়া হয়। রোগীপক্ষের লোকজন জানিয়েছেন, যেভাবে হাসপাতাল জুড়ে তাণ্ডব হয়েছে তাতে আর ভরসা করতে পারেননি তাঁরা। বাধ্য হয়েই ডাক্তারদের হুমকির পর তাঁরা রোগীকে নিয়ে বাড়ি চলে যান।
বর্ধমানে জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতির জেরে চরম ভোগান্তির মুখে রোগীরা
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top