728x90 AdSpace

Latest News

Monday, 10 June 2019

বর্ধমান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় আকেজ হয়ে পড়ে আছে সেবা ও ঘুমের দেশে


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ সরকারী হাসপাতালগুলিতে যেখানে পরিষেবাকে উন্নত করার জন্য একাধিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, গ্রহণ করা হয়েছে বেশ কিছু উদ্যোগও। কিন্তু সেই উদ্যোগই যদি মাঠে মারা যায় – তাহলে কি ঘটে তারই জ্বলন্ত ছবি এখন বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রত্যক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নিয়ে যাওয়া হত খোলা সাইকেল ভ্যানে। মৃতদেহগুলিকে গাদা করে এই ভ্যানে চাপিয়ে নিয়ে যাবার ঘটনাকে ঘিরে বারে বারেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে বর্ধমান হাসপাতালে। দৃশ্য দূষণের পাশাপাশি অমানবিক এই কাজের বিষয়ে একাধিক স্মারকলিপিও জমা পড়েছে দফায় দফায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু তেমন কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ আজও নিতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দফায় দফায় এই অমানবিক কাণ্ডের কথা জানতে পেরেই বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় তাঁর বিধায়ক কোটায় দুটি আধুনিক গ্যাসচালিত ভ্যান প্রদান করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। যার একটির নাম দিয়েছিলেন সেবা এবং অন্যটির নাম দিয়েছিলেন ঘুমের দেশে।

সেবা ভ্যানটি মূলতই একটি ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে মূমূর্ষ রোগীদের দ্রুত এবং ভালভাবে স্থানান্তর করার জন্য দেওয়া হয়েছিল প্রায় ৩ বছর আগে। অন্য ঘুমের দেশে ভ্যানটি দেওয়া হয়েছিল হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ ঢাকা অবস্থায় মর্গে নিয়ে যাবার জন্য। কিন্তু জানা গেছে,ভ্যান দুটিকে ঘটা করে উদ্বোধন করার পর কিছুদিনের মধ্যেই তা খারাপ হয়ে যায়। আর তারপর থেকেই উদ্দেশ্য জলে তলিয়ে যেতে শুরু করে।


খোদ রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন,মানুষের সেবার জন্য তিনি ওই দুটি ভ্যান তুলে দিয়েছিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতে। সেগুলি তাঁদেরই পরিচালনার কথা। কিন্তু আজ পর্যন্ত এব্যাপারে তাঁর কাছে কোনো রিপোর্টই নেই। ভ্যানগুলি যে খারাপ সে ব্যাপারেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে কিছু জানান নি। স্বাভাবিকভাবেই যাঁদের উদ্দেশ্যে ওই ভ্যান দেওয়া হয়েছিল তাঁদের কল্যাণে তা ব্যবহৃত না হলে তার দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। এখন তাঁরাই যদি এব্যাপারে উদাসীন হন তাহলে তাঁর কিছু করণীয় নেই।

অপরদিকে, এব্যাপারে হাসপাতালের ডেপুটি সুপার ডা. অমিতাভ সাহা জানিয়েছেন, ওই ভ্যানগুলির যান্ত্রিক ত্রুটি বারবারই ধরা পড়েছে। অনেকবার ঠিক করার চেষ্টাও করা হয়েছে। কিন্তু লাভ হয়নি। তিনি স্বীকার করেছেন, ওই দুটি ভ্যান খুবই উপযোগী। তা চালু থাকলে ভালই। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য তাকে চালু করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি ডা. সাহা জানিয়েছেন,খুব শীঘ্রই রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠক রয়েছে। সেই বৈঠকেই এব্যাপারে আলোচনা করার প্রস্তাব রয়েছে। এই ধরণের আরও দুটি ভ্যান নতুন করে চালু করা যায় কিনা তা নিয়ে আলোচনা হবে।
বর্ধমান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় আকেজ হয়ে পড়ে আছে সেবা ও ঘুমের দেশে
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top