728x90 AdSpace

Latest News

Sunday, 9 June 2019

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে ডিগ্রী প্রাপকদের সম্মান জ্ঞাপন ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে, রেগুলারে এম ফিলের ছাত্র কলেজের অতিথি অধ্যাপক


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ প্রাথমিক স্কুলে স্থায়ী শিক্ষক হিসাবে চাকরি করার পাশাপাশি বর্ধমান বিশ্ববিদ‌্যায়ের কলা বিভাগের অধীন রেগুলার এম এড কোর্স পড়ে স্বর্ণপদক পাওয়ায় সর্বজিত ঘোষ নামে এক ছাত্রকে নিয়ে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। আর এই খবর প্রকাশের পরই একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করলো। এবার ফের বিতর্ক দেখা দিল এম ফিলের দুই ছাত্রকে ঘিরে।

উল্লেখ্য, আগামী ২০ জুন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন রাজ্যপাল। তাঁর হাত দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ডিগ্রী প্রাপকদের সম্মান জ্ঞাপন করা হবে। কিন্তু এই বিতর্কের জল কতদূর গড়ায় তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে জোর চর্চা। অভিযোগ উঠেছে এম ফিল কোর্সের দুই ছাত্র সত্য গোপন করে বর্ধমান বিশ্ববিদ‌্যালয়ে রেগুলার কোর্স করেছেন। অভিযোগ উঠেছে এই দুই ছাত্র সুপ্রিয় ঘোষ এবং উৎপল পাঁজা উভয়েই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৮ বর্ষে রেগুলার এম ফিলের ছাত্র হিসাবে নথীভুক্ত হলেও তাঁরা ওই সময়ে কলেজে গেষ্ট লেকচারার হিসাবে কাজ করেছেন। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশ রয়েছে এম ফিল করতে গেলে তাঁদের আংশিক বা পূর্ণ সময়ের অন্য কোনো কাজে নিযুক্ত থাকতে পারবেন না - সেখানে এই দুই ছাত্র সুপ্রিয় ঘোষ বর্ধমান হাটগোবিন্দপুর কলেজে প্রায় ৩ বছর এবং উৎপল পাঁজা বোলপুরের পিডিসি গার্লস কলেজে কিভাবে প্রায় ৫ বছর ধরে গেষ্ট লেকচারার হিসাবে কাজ করেছেন তাই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। 

এই সমস্ত ছাত্রদের ডিগ্রী বাতিল করা এবং তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ এই কাজ করার জন্য শাস্তিরও দাবী তুলছেন অন্যান্য ছাত্রছাত্রীরা। এব্যাপারে সুপ্রিয় ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অন্য ছাত্র উৎপল পাঁজা জানিয়েছেন, তিনি যখন এম ফিলে ভর্তি হন তখন এই অতিথি অধ্যাপকের কাজটি পাননি। তাই তিনি কিছু জানাননি। তিনি জানিয়েছেন,অতিথি অধ্যাপনার কাজটি নো ওয়ার্ক নো পে হিসাবে হয়। তিনি জানিয়েছেন, শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি থাকায় শনিবারে কলেজে পড়াতে যেতেন। অবশ্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস না থাকলে বা আগে ছুটি হয়ে গেলেও তিনি কলেজে পড়াতে যেতেন। উৎপলবাবুর দাবী, এম এ, বি এড করার পর এম ফিলের খরচ জোগানোর জন্যই তিনি এই কাজ করেছেন। 

যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স ফ্যাকালটি কাউন্সিল অফ সায়েন্সের পিজি স্টাডিজ বিভাগের সিনিয়র সেক্রেটারী শুভপ্রসাদ নন্দী মজুমদার জানিয়েছেন, নিয়মানুযায়ী এম ফিলের ছাত্রকে সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজির থাকতেই হয়। পাশাপাশি তাঁকে জানাতেই হয় তিনি অন্য কাজে নিযুক্ত নেই। তিনি জানিয়েছেন, এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় উভয়ক্ষেত্রেই ছাত্রদের তা জানানো আবশ্যিক। কিন্তু এক্ষেত্রে এই দুই ছাত্র সত্যকে গোপন করেছেন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই – যা অপরাধ। তিনি জানিয়েছেন,অভিযোগ পেলেই এঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে, ভূগোল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. বিপ্লব বিশ্বাস জানিয়েছেন, এই বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তিনি গোটা বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। অপরদিকে, এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিমাই সাহা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টার তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। এখন প্রশ্ন উঠেছে, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ডিগ্রী প্রাপকদের তাঁদের প্রাপ্য সন্মান দেওয়ার ক্ষেত্রে কি কোন গাফিলতি থেকে যাচ্ছে? নাকি সরষের মধ্যেই ভুত লুকিয়ে আছে, তাই নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে ডিগ্রী প্রাপকদের সম্মান জ্ঞাপন ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে, রেগুলারে এম ফিলের ছাত্র কলেজের অতিথি অধ্যাপক
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top