728x90 AdSpace

Latest News

Wednesday, 5 June 2019

সিরিয়াল কিলার কামরুজ্জামানের পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, পুলিশের অতি সক্রিয়তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ সিরিয়াল কিলার কামরুজ্জামান সরকারকে গ্রেপ্তার করার পর খোদ পুলিশের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করল। সাধারণত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করার পরে তাকে তার অপরাধ সম্পর্কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় – এটাই দস্তুর। তার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অপরাধীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কোর্টে হাজির করে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধীর বক্তব্যকে হাতিয়ার করে পুলিশ কেস সাজিয়ে তা আদালতে পেশ করে। কিন্তু বিতর্ক চরমে উঠেছে বর্ধমান জেলা পুলিশের অতি সক্রিয়তা নিয়ে। কামরুজ্জামান সরকারকে গ্রেপ্তার করার পর তাকে পুলিশ যে জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব চালিয়েছে সেই পুলিশের গোপনীয় ভিডিও ফুটেজ পুলিশেরই সহযোগিতায় কৌশলে সংবাদ মাধ্যম তথা অন্যান্য মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশ্ন উঠেছে কিভাবে পুলিশ এই ফুটেজ বাইরে প্রকাশ করল? একইসঙ্গে কেন পুলিশ এটা করল তা নিয়েও বিস্তর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। 

খোদ বর্ধমান আদালতের আইনজীবীরা জানিয়েছেন,এটা সম্পূর্ণ বেআইনী। এর ফলে অপরাধী বাড়তি সুবিধা পেয়ে যেতে পারে। বর্ধমান আদালতের ফৌজদারী আইনজীবী হরদীপ সিং আলুওয়ালিয়া জানিয়েছেন, কেউ ধরা পড়ার পর পুলিশের কাছে ধৃতের বয়ানকে এক্সট্রা জুডিশিয়াল স্টেটমেন্ট হিসাবে গণ্য করা হয়। যদিও তিনি জানিয়েছেন, পুলিশের কাছে ধৃতের বয়ানের কোনও আইনি বৈধতা নেই। তিনি জানিয়েছেন, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব করার বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া থেকেই বোঝা যাচ্ছে, পুলিশ জোর করে বয়ান আদায় করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব তদন্তের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেস ডায়েরিতেই তা উল্লেখিত থাকে। সরকারি আইনজীবী, তদন্তকারী অফিসার ও বিচারক কেস ডায়েরির বিষয়বস্তু দেখতে পান। 

আইনজীবী হরদীপ সিং আলুওয়ালিয়া জানান, পুলিশ অ্যাক্টে তদন্তের পদ্ধতির বিষয়ে উল্লেখ আছে। জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব কিভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হল তা তদন্ত করে দেখা উচিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব ভাইরাল হওয়ায় বিচারে অভিযুক্ত সুবিধা পাবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন। এদিকে, প্রশ্ন উঠেছে পুলিশ কেন এই ভিডিও ভাইরাল করল। কারণ এর আগেও জেলার বুকে বহু উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটলেও, পুলিশ থানার ভেতর কোনো সংবাদ মাধ্যমকেই যেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া বা ছবি তুলতে দিতে রীতিমত বাধা দিয়েছে, সেখানে সিরিয়াল কিলার বলে ধৃত কামরুজ্জামান সরকারকে জেরা করার ছবি পোষ্ট করে পুলিশ নিজেদের দুর্বলতা ঢাকার চেষ্টা করছে কিনা তাও তদন্ত করে দেখা উচিত বলে মত প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা। 

উল্লেখ্য, কালনার নাদনঘাট এলাকায় বসবাসকারী কামরুজ্জামান সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয় কাঁকুড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে। এক সিভিক ভলেণ্টিয়ারের তত্পরতায় তাকে পাকড়াও করা হয়। ইতিমধ্যেই সেই সিভিক ভলেণ্টিয়ারকে পুরষ্কৃত করা হয়েছে। ধৃত কামরুজ্জামানকে ধরার পর তাকে একটানা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জেরায় সে কালনা, মন্তেশ্বর, মেমারি, হুগলির পাণ্ডুয়া ও বলাগড়ে সিরিয়াল কিলিং ও মহিলাদের উপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। আর পুলিশের এই জেরা এবং কামরুজ্জামানের স্বীকারোক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, কামরুজ্জামানকে তার পরিচয়ের বিষয়ে জানতে চাওয়া হচ্ছে। কিভাবে সে খুন করত তাও সে বলছে। পাশাপাশি কি কারণে সে খুন ও হামলা চালিয়েছে তাও বলেছে কামরুজ্জামান। 

অপরদিকে, কামরুজ্জামানের এই মহিলাদের প্রতি আক্রোশ এবং ধারাবাহিকভাবে মহিলাদের খুন করার ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছে। ধৃত কামরুজ্জামান পুলিশকে জানিয়েছে, কোনো এক মহিলার কাছ থেকে আঘাত প্রাপ্ত হবার পর থেকেই তার এই খুনের নেশা চেপে বসে। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তাই যদি হবে তাহলে তাঁর স্ত্রীর প্রতি সে কখনও অত্যাচার করেনি। এমনকি বিতর্ক দেখা দিয়েছে, বিশেষ এক শ্রেণীর মহিলাদেরই সে টার্গেট করেছে। এর পিছনেই বা কারণ কি থাকতে পারে - এই প্রশ্নও ভাবাচ্ছে সমাজবিদদের। অপরদিকে, পুলিশের একাংশের দাবী, সিরিয়াল কিলার কামরুজ্জামান সরকার খুন করার পর মৃতদেহের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ত। কিন্তু এখনও পর্যন্ত যে কটি খুনের ঘটনা নথীভুক্ত হয়েছে সেখানে কোথাও পুলিশ ৩৭৬ ধারায় কোনো কেসই করেনি কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। তাহলে কিভাবে এটা দাবী করা হচ্ছে - প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও। 

সম্প্রতি সিঙ্গারকোণের দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে খুনের চেষ্টা করা হয়। একমাত্র তার ওপরই যৌন অত্যাচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। যদিও ওই ছাত্রী বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোমায় রয়েছেন। পরপর এই ঘটনায় পুলিশের তদন্ত এবং পুলিশী জেরার ভিডিও ফুটেজ সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়া নিয়ে চুড়ান্ত বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। শুধু এটাই নয়, মেমারীর বড়া ও সেগুনবাগান এলাকায় যে দুজন মহিলাকে একই দিনে খুন করা হয় সেই খুনের ঘটনাতেও সেই সময় খোদ পুলিশ সুপার অস্বীকার করে যান সিরিয়াল কিলিং-এর ঘটনা। বরং উল্টে তিনিই জানান, যেহেতু ওই দুটি পরিবারে বিদ্যুত সংযোগই নেই তাই বিদ্যুতের মিটার রিডিং দেখতে আসার কোনো বিষয়ই নেই। ওই দুই মহিলাকে খুনের ঘটনায় আত্মীয়দেরই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

আরও মজার বিষয় মেমারি থানার জাবুইডাঙার গৃহবধূ সোনিয়া যাদবকে খুনের ঘটনাতেও কামরুজ্জামান জড়িত বলে পুলিশের দাবি। অথচ সেই ঘটনাতেও সিরিয়াল কিলিং-এর অভিযোগ পুলিশ অস্বীকার করে পুলিশ মৃতার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করে। স্ত্রীকে খুনের কথা সোনিয়ার স্বামী কবুলও করে বলে দাবী করেছিল পুলিশ। তাকে ৩ দিন হেফাজতেও নেওয়া হয়। স্বাভাবিকভাবেই যে ঘটনায় মৃতার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন জড়িত বলে পুলিশ আগেই আদালতে রিপোর্ট পেশ করেছে, সেই ঘটনায় কামরুজ্জামান জড়িত বলে পুলিশ কিভাবে দাবি করছে তা নিয়ে আইনজীবী মহলে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এব্যাপারে জেলা পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিরিয়াল কিলার কামরুজ্জামানের পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, পুলিশের অতি সক্রিয়তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
  • Title : সিরিয়াল কিলার কামরুজ্জামানের পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, পুলিশের অতি সক্রিয়তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
  • Posted by :
  • Date : June 05, 2019
  • Labels :
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top