728x90 AdSpace

Latest News

Thursday, 6 June 2019

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের এম এড কোর্সের রেগুলার ছাত্র প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক, তীব্র বিতর্ক


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ আগামী ২০ জুন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠান হতে চলেছে। সেই সমাবর্তনে স্বর্ণপদক প্রাপ্তদের তালিকায় নাম থাকা সর্বজিত ঘোষ নামে এক শিক্ষার্থীকে নিয়েই এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে জলঘোলা শুরু হল। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বজিত ঘোষ পূর্ব বর্ধমানের রায়নার বনতীর কাসেম অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতার পাশাপাশি একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এম এড কোর্সের রেগুলার ছাত্র হিসাবে পড়াশোনা করেন। এছাড়াও তিনি এই দুটি কাজের পাশাপাশি এই সময়কালের মধ্যেই ন্যাশনাল ইনষ্টিটিউট অফ ওপেন স্কুলের অধীনে এলিমেণ্টারি এডুকেশনে ডিপ্লোমাও করেছেন। কিভাবে একই ব্যক্তি একইসঙ্গে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকতা করলেন এবং একইসঙ্গে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে রেগুলার কোর্সে এম এড করলেন তা নিয়েই শুরু হয়েছে জলঘোলা। জানা গেছে, এই কোর্স করার জন্য তিনি স্কুল থেকে কোনো ছুটিও নেননি। তাহলে একই সময়ে একই ব্যক্তি কিভাবে দুটি জায়গায় দুটি কাজ করলেন – তানিয়েই বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশিকায় রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া এম এড কোর্সের জন্য কোনো প্রার্থীই অন্য কোথাও পুর্ণ সময় বা আংশিক সময়ের জন্য নিযুক্ত থাকতে পারবেন না। এমনকি তিনি একইসময় একইসঙ্গে অন্য কোনো কোর্সও করতে পারবেন না। (The candidates are not allowed to pursue any other course of study or engage in any full time or part time work without university’s prior permission.”)। জানা গেছে,২০১৬-২০১৮ এই বছরে সর্বজিত ঘোষ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে এম এড কোর্সে ভর্তি হন। আর তিনি ২০১৭ সালে প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতায় যোগ দেন। এমনকি তিনি ২০১৮ সালে এম এডের চতুর্থ সেমিষ্টারের পরীক্ষাও দেন। জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নিয়মের গেড়োতেই বেশ কয়েকজন এমএড কোর্স ছেড়ে শিক্ষকতায় যোগ দিতে বাধ্য হন। তাহলে সর্বজিতবাবুর ক্ষেত্রে নিয়মের শীথিলতা হল কিভাবে - উত্তর হাঁতড়াচ্ছেন ছাত্রছাত্রীরা।

আগামী ২০ জুন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যে পুরষ্কার প্রাপকদের তালিকা তৈরী হয়েছে সেই তালিকায় ৮.১৮ পেয়ে স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত হিসাবে নাম রয়েছে সর্বজিত ঘোষের। আর তা দেখেই রীতিমত বিস্মিত ওই কোর্সের অপরাপর ছাত্রছাত্রীদের। তাঁরা রীতিমত হতবাক - কিভাবে এটা সম্ভব হল। এম এডের একাধিক ছাত্রছাত্রীই জানেন যে সর্বজিত ঘোষ প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতা করেন। তাহলে কিভাবে তিনি এম এডের রেগুলার কোর্স করলেন? আবার স্বর্ণপদক প্রাপ্তের তালিকাতেও তাঁর নাম স্থান পেল? এদিকে, এব্যাপারে ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছে। এব্যাপারে গত ১৬ ও ২৯ মে উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিমাই সাহা গোটা বিষয়টি পরীক্ষাসমূহের নিয়ামক বলতে পারবেন বলে দায় এড়িয়েছেন। আবার পরীক্ষা সমূহের নিয়ামক অনিন্দ্যজ্যোতি পাল জানিয়েছেন, এটা দেখার কথা তাঁর নয়। তাঁরা দেখেন একজন ভর্তি হয়েছেন, তিনি পরীক্ষা দিয়েছেন এবং তিনি কত মার্কস পেয়েছেন। এই বিষয়টি বিভাগীয় প্রধান বলতে পারবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, এব্যাপারে বিভাগীয় প্রধান খগেন্দ্রনাথ চ্যাটার্জ্জী জানিয়েছেন, তিনি এব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছেন। কিভাবে এটা সম্ভব হল তিনি বলতে পারবেন না। যদিও তিনি জানিয়েছেন,ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু করেছে। অন্যদিকে, বারবার সর্বজিত ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাঁর বাড়ি থেকে জানানো হয়, তিনি পারিবারিক কাজে বর্ধমানের বাইরে আছেন।
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের এম এড কোর্সের রেগুলার ছাত্র প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক, তীব্র বিতর্ক
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top