728x90 AdSpace

Latest News

Monday, 6 May 2019

ষষ্ঠ দফা ভোটের আগেই গোষ্ঠী সংঘর্ষে খণ্ডঘোষে খুন তৃণমূল নেতা,উত্তেজনা

ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ রবিবার রাত্রে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে খুন হলেন খন্ডঘোষের আলিপুরের বাসিন্দা কামরুল সেখ ওরফে পচা (৫৪)। ষষ্ঠ দফা ভোটের আগে এই শাসক দলের নেতা খুনের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে তৃণমূলের গোষ্ঠীবাজির জেরেই এই খুন বলে জানা গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার রাত থেকেই ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে গোটা এলাকায়। গ্রামবাসী সুত্রে জানা গেছে, আগামী রবিবার বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর আসনে ভোট। খন্ডঘোষ বিধানসভা বিষ্ণুপুর লোকসভার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এখানেও ভোট রয়েছে। ইতিমধ্যেই ভোট প্রচার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে অভিযোগ পালটা অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। আগামী ৯ মে খণ্ডঘোষের উখরিদে নির্বাচনী প্রচার সভায় আসছেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। তার আগে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে তৃণমূল নেতা কামরুল সেখকে খুন করার ঘটনায় ভোট কেন্দ্রিক উত্তেজনা চরম মাত্রা নিয়েছে।

জানা গেছে রবিবার তৃণমুলের একটি গোষ্ঠী আমিরুল সেখের নেতৃত্বে বাড়ি বাড়ি ভোট প্রচারে বার হয়। আর তা নিয়েই অন্য গোষ্ঠীর সংগে বিবাদ বাধে। অভিযোগ, সেই বিবাদের জেরেই রবিবার রাতে যখন আমিরুল সেখ সহ আরও কয়েকজন স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন সেই সময় অতর্কিতে স্থানীয় তৃণমূল নেতা টুটুলের নেতৃত্বে একদল তৃণমূল কর্মী আক্রমণ চালায় কামরুল সেখদের ওপর। কামরুল সেখের সঙ্গে থাকা অন্যান্য কর্মীদের মারধর করা হলে তা আটকাতে যান কামরুল সেখ। সেই সময় তাঁর মাথায় জোড়ালো আঘাত করা হলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে প্রথমে তাঁকে খণ্ডঘোষ স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং পরে রাতেই তাঁকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যান্য আরও ৪জনকে প্রাথমিক চিকিত্সার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, এই ঘটনার পরই গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে কামরুল সেখের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েই। কামরুল সেখের মৃত্যুর পরই সিপিএমের পক্ষ থেকে দাবী করা হয় মৃত কামরুল সেখ সিপিএমের কর্মী। তাঁর দাদা সিপিএমের ব্রাঞ্চ কমিটির সম্পাদকও। সিপিএম এই দাবী নিয়ে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও ভিড় জমায়। পাল্টা মৃতের পরিবার থেকে সাফ জানানো হয়েছে কামরুল সেখের দাদা সিপিএমের নেতা হলেও তিনি আলাদা থাকেন। কামরুল সেখ ১৯৯৮ সাল থেকেই তৃণমূল করছেন। সিপিএমের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্কও নেই। এদিকে, সকাল থেকে সিপিএম তৃণমূল দড়ি টানাটানি চললেও বেলার দিকে সিপিএম কার্যত হাল ছেড়ে দেয়। আর তারপরেই তৃণমূলের খণ্ডঘোষ ব্লক সভাপতি অপার্থিব ইসলাম এবং বিধায়ক নবীন বাগের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসতে থাকেন তৃণমূলের কর্মীরা। মৃতদেহ নিয়ে বর্ধমান বাঁকুড়া রোডে নিশ্চিন্তপুরের কাছে প্রায় ৪০ মিনিট রাস্তা অবরোধ করেন তাঁরা। ব্লক সভাপতি এবং বিধায়ককে গ্রেপ্তারের দাবী জানান।

এব্যাপারে ব্লক সভাপতি অপার্থিব ইসলাম জানিয়েছেন, কামরুল সেখ সিপিএম করতেন। রবিবার রাতে তাঁর নেতৃত্বে সিপিএম সমর্থকরা তৃণমূল সমর্থকদের ৩টি বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। হুমকি দেওয়া হয় যাতে কেউ ভোট দিতে না যায়। আর এরপরই গ্রামবাসীরা তাঁদের ধাওয়া করে। এরপর দুপক্ষের মধ্যে ঝামেলার মধ্যে পড়ে গিয়ে জখম হন কামরুল সেখ। পরে তিনি মারা যান। খণ্ডঘোষ ব্লকের নির্বাচিত সদস্য তথা জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া জানিয়েছেন, কামরুল সেখের পরিচয় সম্পর্কে ব্লক নেতৃত্বের কাছ থেকে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে
ষষ্ঠ দফা ভোটের আগেই গোষ্ঠী সংঘর্ষে খণ্ডঘোষে খুন তৃণমূল নেতা,উত্তেজনা
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top