728x90 AdSpace

Latest News

Tuesday, 19 March 2019

আধা সামরিক বাহিনীর দেখা নেই, বর্ধমানে জেলা পুলিশের রিজার্ভ ফোর্স দিয়েই শুরু হল রুট মার্চ


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমানঃ সোমবার পর্যন্ত আধা সামরিক বাহিনীর বর্ধমানে আসার কোনো খবর নেই। পরিবর্তে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকেই শুরু হল রুট মার্চ। ভোটার দের অভয় দিতে এবং এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথ ভাবে রুট মার্চ শুরু করে দিল। ২০০৯ সালে বর্ধমানের নতুনগ্রামে সিপিএমের হাতে খুন হয়েছিলেন এলাকার দাপুটে তৃণমূল সংগঠক শিক্ষক মন্টু মাষ্টার। কিন্তু সেই ঘটনার ১০ বছর পরও আতংক কাটেনি মন্টু মাষ্টারের পরিবারের। এখনও তারা ভয়েই দিন কাটাচ্ছেন। মংগলবার এই নতুনগ্রাম থেকেই জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুরু হল পুলিশের রিজার্ভ ফোর্স দিয়ে রুট মার্চ। নেতৃত্ব দিলেন জেলা শাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব এবং জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়। কথা বললেন মন্টু মাষ্টারের স্ত্রী এবং মেয়ের সংগেও।

 
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৯ জুলাই স্থানীয় দুই তৃণমূল নেতা, মোল্লা সামসুর রহমান ও শেখ জাফর আলি খুন হন। নামাজ পড়ে ফেরার পথে পেশায় প্রাথমিক শিক্ষক সামসুর ওরফে মন্টু মাস্টার এবং জাফর ওরফে জফাই শেখকে খুন করা হয়েছিল। সিপিএমের ২৭ জনের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। ১০ বছর আগে সেই ঘটনার পরেও মণ্টু মাষ্টারের পরিবারের মধ্যে থেকে ভীতি দূর হয়নি। তাই মঙ্গলবার বিকালে যখন খোদ জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব, জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের রিজার্ভ ফোর্সকে নিয়ে নতুনগ্রাম থেকে রুট মার্চ শুরু হল তখনও প্রশাসনের কর্তাদের কাছে সেই আতংকের কথাই জানিয়েছেন নিহত মণ্টু মাষ্টারের স্ত্রী রিজিয়া বেগমএবং মেয়ে শ্যামলী খাতুন।

 
ওই খুনের ঘটনায় অশান্ত হয়ে উঠেছিল গোটা এলাকা। তৃণমূলের দু’জন খুন হওয়ার পরে পাল্টা হামলায় গণপ্রহারে মারা যান সিপিএমের শেখ কুতুবুদ্দিন। যদিও গ্রামবাসীর একাংশের দাবি, তিনি পালাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছিলেন। কিন্তু সিপিএম পুলিশকে দিয়ে জোর করে খুনের মামলা রুজু করায়। তার জেরে বেশ কয়েক জনকে গ্রামছাড়াও হতে হয়েছিল। তৃণমূলের দুই নেতা খুনের ঘটনায় নতুনগ্রামে আসেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে মন্টু মাস্টারের ছেলে শেখ শাহনওয়াজ এবং জফাই শেখের ছেলে শেখ আনিসুর রহমানকে রেলে চতুর্থ শ্রেণির চাকরি দেওয়া হয়। 

এদিন জেলাশাসক এবং জেলা পুলিশ সুপার উভয়েই মণ্টু মাষ্টারের পরিবারকে নির্ভয়ে থাকার এবং আসন্ন লোকসভা ভোটে নিজেদের নির্ভয়ে ভোট দেবার আবেদন জানান। যদি কোনো সমস্যায় পড়েন তাহলে ১৯৫০ এই নাম্বারে ফোন করারও আবেদন জানিয়ে যান প্রশাসনের কর্তারা। জেলাশাসক এবং জেলা পুলিশ সুপারের পাশাপাশি এদিন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রিয়ব্রত রায়ের নেতৃত্বে গ্রামের অন্যান্য অংশেও টহল দেয় বাহিনী। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কথাও বলেন কয়েকজন গ্রামবাসীদের সঙ্গে।
আধা সামরিক বাহিনীর দেখা নেই, বর্ধমানে জেলা পুলিশের রিজার্ভ ফোর্স দিয়েই শুরু হল রুট মার্চ
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top