728x90 AdSpace

Latest News

Monday, 12 November 2018

তোলাবাজি সহ একাধিক অভিযোগে তিন দিন ধরে লাগাতার ট্রাক্টর ধর্মঘট পুরুলিয়ার ঝালদায়



ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পুরুলিয়াঃ তিন দিন ধরে লাগাতার ট্রাক্টর ধর্মঘটের জেরে নাজেহাল ঝালদাবাসী। বন্ধ হয়ে গিয়েছে গৃহ নির্মাণ, রাস্তা তৈরী সহ বহু কাজ। পুলিশ প্রশাসন ও ভূমি দপ্তরের হয়রানির শিকার, রয়্যালটিতে অধিক টাকা ব্যয়, তোলাবাজি সহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে পুরুলিয়া জেলার ঝালদা শহরের হাটবাগানে শুক্রবার থেকে তিন দিন ধরে লাগাতার ধর্মঘটে সামিল হয়েছেন ২০০ জন ট্রাক্টর মালিক,চালক সহ খালাসীরা। 

উল্লেখ্য, রাজ্য সরকার ও আদালতের নির্দেশ মতো অক্টবর মাস পর্যন্ত নদীঘাট গুলিতে বালি তোলার কাজ নিষিদ্ধ। সেই মতো নিয়মিত পুলিশ প্রশাসন ও ভূমি দপ্তরের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হচ্ছে । এই অভিযানে আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকটি ট্রাক্টর। ওই ট্রাক্টর মালিকদের ফাইনও ধার্য করা হয়েছে বলে খবর। এই অভিযান চালানোর ফলে কোনো ট্রাক্টর মালিকই আর ট্রাক্টর বাইরে বার করতে চাইছে না। যার ফলে গোটা ঝালদা এলাকায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে বাড়ি তৈরী, রাস্তাঘাট তৈরীর কাজ। ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন ঝালদাবাসী। 

ঝালদা শহরে নতুন বাড়ি নির্মাণ করছেন জালালুদ্দিন আনসারী, বিবেক ব্যানার্জীরা জানান, "ট্রাক্টর ধর্মঘটের জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে গৃহ নির্মাণের কাজ। তিন দিন পার হয়ে গেলেও ধর্মঘট জারি রয়েছে তাদের। বালি, ইট, সিমেন্ট নিয়ে গাড়ি চালাতে চাইছেন না কোনো ট্রাক্টর মালিক। তাই অর্ধেক বাড়ি তৈরী করার পর বন্ধ হয়ে গিয়েছে কাজ। একদিকে তো শ্রমিক পাওয়া মুশকিল, তার উপর ধর্মঘটের জেরে বাড়ি তৈরীর কাজে সামগ্রীর অভাব। ট্রাক্টর মালিকদের বিষয়ে ভাবনা চিন্তা করা দরকার প্রশাসনের বলে জানিয়েছেন ঝালদা বাসির একাংশ। 

ঝালদা ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তথা ট্রাক্টর মালিক বুলু মুড়া, ধীরেন মাহাতো, ভোলানাথ মিশ্রের অভিযোগ, "ট্রাক্টর চালাতে গিয়ে নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ভূমি দপ্তর ট্রলির রেজিস্ট্রেশন দিচ্ছে না, রয়্যালটিতে অধিকটাকা খরচের জেরে ট্রাক্টর পরিষেবা দিতে ব্যর্থ মালিকরা এবং চালকরা। এছাড়াও একটি মাত্র নদীঘাটে বালি তোলার অনুমতি রয়েছে। তাই একটি মাত্র ঘাটেই ভিড় জমাচ্ছে শয়ে শয়ে ট্রাক্টর। ফলে ওই ঘাটে বালি তোলা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এমনকি তাদের আরও অভিযোগ, যে সমস্ত রাস্তা দিয়ে ট্রাক্টর যাতায়াত হচ্ছে সেখানে তোলাবাজি করছে সাধারণ মানুষেরাও। ফলে ব্যাপক সমস্যায় পড়ছেন তারা।" তাদের অভিযোগ, "এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন এবং ভূমি দপ্তরের কাছে বার বার আবেদন জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাই বাধ্য হয়েই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।" আবার তারা জানান, ট্রাক্টরে সামান্য কিছু আয় হয়। বহু ট্রাক্টর মালিক জমি বন্ধক রেখে, লোন নিয়ে ট্রাক্টর কিনেছেন। তাই লোন শোধ করতে মাথায় হাত পড়েছে সকলের। তার উপর ট্রাক্টর চালক এবং লেবারদের পারিশ্রমিক দেওয়।l এতসব হয়ে গেলেও রয়্যালটি, লিজ নেওয়া, ট্রলি প্রতি খরচ, রেজিস্ট্রেশন ফি সব মিলিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে সকলকে।

ট্রাক্টর মালিকদের দাবি, সঠিক ভাবে রয়্যালটি ধার্য করতে হবে রাজ্য সরকারকে, ট্রলি প্রতি রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। যতদিন না প্রশাসন ও ভূমি দপ্তরের পক্ষ থেকে নদীঘাটের বিষয়ে কোনো সুরাহা হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত তাদের ধর্মঘট চলবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাক্টর মালিক, চালক ও শ্রমিকরা। 

এ বিষয়ে ঝালদাবাসী তথা বাঘমুন্ডি বিধানসভার কংগ্রেসের বিধায়ক নেপাল মাহাতো জানান, "পুলিশ প্রশাসন এবং সরকারের উচিত সামঞ্জস্য ভাবে ট্রাক্টর মালিকদের কাছে থেকে টাকা নেওয়া। সত্যিই তাদের বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। ট্রাক্টর মালিকদের লাভ রেখে সরকারকে উচিত টাকা নেওয়া। এদিকে লাগাতার তিনদিন ধরে ধর্মঘটের জেরে ঝালদা এলাকায় মানুষের বাড়ি তৈরী এবং অন্যান্য রাস্তাঘাট তৈরী কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছস। তিন দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ প্রশাসন বা ভূমি দপ্তরের আধিকারিকরা কেন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে না, প্রশ্ন তুলেছেন খোদ বিধায়ক।
তোলাবাজি সহ একাধিক অভিযোগে তিন দিন ধরে লাগাতার ট্রাক্টর ধর্মঘট পুরুলিয়ার ঝালদায়
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top