728x90 AdSpace

Latest News

Friday, 30 November 2018

বাংলাকে দিল্লি সামলায় না,বরং দিল্লিকে বাংলা সামলায় - মমতা



ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,কালনাঃ ফের একবার রাজ্যের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে বাংলার প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনার প্রতিবাদে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা শহরের অঘোরনাথ স্টেডিয়ামে একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন, শিলান্যাস এবং সরকারি সাহায্য প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কেন্দ্র সরকার বলছে ২০২২ সালের মধ্যে সমস্ত উন্নয়ন ডবল করে দেবেন, কিন্তু তার আগেই আমরা তিন ডবল উন্নয়ন করে ফেলেছি রাজ্য জুড়ে। এটা দিল্লির সরকার নয়, যারা শুধু মিথ্যা কথা বলবে, কুৎসা করবে, দাঙ্গা বাঁধাবে, অপপ্রচার করবে, চক্রান্ত করবে আর ষড়যন্ত্রের জাল বুনবে। মনে রাখতে হবে বাংলাকে দিল্লি সামলায় না, বরং দিল্লিকে বাংলা সামলায়। কারন বাংলা মাথা উঁচু করে চলে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাম সরকারের আমলে ৪৮ হাজার কোটি টাকা ঋণের বোঝা এখনো এই সরকারকে বহন করে যেতে হচ্ছে। তার পরেও কেন্দ্রকে ঋণের সুদ দিয়ে যেতে হচ্ছে। তবু উন্নয়নের স্বার্থে এই সরকার কোন আপোষ করেনি। জনসেবা, পরিষেবা খাতে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মানুষের পাশে দাড়িয়ে সাহায্য করা, উন্নয়ন করা। তিনি বলেন, ৭ বছরে এই মিটিং নিয়ে প্রায় ৪৩০ টি মিটিং করেছি। জেলাকে কলকাতায় জেতে হয়নি, বরং কলকাতাই চলে এসেছে আপনাদের জেলায় জেলায়। কোথায় কি প্রয়োজন আছে শোনার পর দ্রুত তা রপায়নের ব্যাবস্থা করেছি। এদিনও ৩৯ টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ১৯৭ কোটি ৭৮লক্ষ টাকা। এদিন কালনার মঞ্চ থেকে ২৬ হাজার মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা তুলে দেওয়া হয়। 

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, কেন্দ্র সরকারের নোটবন্দি, জি এস টি চালুর মতো সিদ্ধান্তের ফলে সাধারন মানুষ আজ ঘোর বিপদে। এই সরকার তবু কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহন করেছে। কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্ধমানের পাশের জেলা বিরভুম। আর এই জেলার পাচামিতে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম খনি থেকে কয়লা উৎপাদন হবে। প্রচুর ছেলে ও মেয়ের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে চাকরি হবে। আমাদের অফিস তৈরি করা আছে। দিল্লির ছাড়পত্র পেলে চালু করতে পারি। কিন্তু দিল্লি আটকে রেখেছে। তিনি বলেন, দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের জন্য বিকল্প রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। এজন্য ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা খরচ হবে। পাশাপাশি ডানকুনি থেকে বর্ধমান ফ্রেড করিডোর হচ্ছে। ডানকুনি, বর্ধমান-পানাগড় থেকে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর পর্যন্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর তৈরি হবে। এরফলে কৃষি এবং শিল্পে প্রচুর কর্মসংস্থান এর সুযোগ তৈরি হবে।

এদিন ভেজাল মদ বিক্রি বন্ধে, বালি এবং কয়লার অবৈধ কারবার বন্ধে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনকে কঠোর হাতে মকাবিলা করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, সব সরকারি কর্মচারী খারাপ নয়, কয়েকজন আছেন যারা সিপিএম এর লোক, এই সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য তারা এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু এসব আর বেশিদিন চলবে না। চাষিদের উন্নয়নের কথা ভেবে মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, বর্তমানে ৬৫ হাজার কৃষক পেনশন পায়। এখন সেটাকে বাড়িয়ে এক লক্ষ করে দেওয়া হয়েছে। ভূমিহীন কৃষকদের জন্য পাট্টা প্রদান করা হয়েছে ২৮ হাজার ৮৪১ জন কে।


এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অন্যতম মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, স্বপন দেবনাথ, মলয় ঘটক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, সুভাষ মন্ডল, বিশ্বজিৎ কুণ্ডু,জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া, সহ সভাধিপতি দেবু টুডু, জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব, জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখারজি, সাংসদ মমতাজ সংঘমিতা, সুনীল মণ্ডল, কালনা পৌরসভার চেয়ারম্যান দেবপ্রসাদ বাগ, বিডিও মিলন দেবঘড়িয়া সহ একাধিক আধিকারিক এবং জেলা পুলিশ দফতরের আধিকারিকরা। 
বাংলাকে দিল্লি সামলায় না,বরং দিল্লিকে বাংলা সামলায় - মমতা
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top