728x90 AdSpace

Latest News

Wednesday, 1 August 2018

আমলাশোলের ছায়া শালবনীতে, শালবনীর প্রশাসন পাশে দাঁড়ালো আদিবাসী পরিবারের



ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,শালবনীঃ আর একটা আমলাশোলের পুনরাবৃত্তি হতে দিলনা পশ্চিম মেদনিপুরের শালবনী ব্লক প্রশাসন এবং শাসকদলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। জঙ্গলমহলের দীন ভূমিজদের গ্রাম শালবনী। আর সেখানেই রয়েছে ১০ নং কর্নগড় অঞ্চলের বুড়িশোল গ্রাম ৷ হয়তো আবার খবরের শিরোনামে আসতে পারত এই গ্রাম। কারন সেই আনাহার। কিন্তু তা হলো না স্থানীয় মানুষজনকে সঙ্গে নিয়ে শালবনি ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে। 

এই বাংলার প্রত্যন্ত এই গ্রামের একটি অসহায় পরিবারের ঘটনা সত্যিই হৃদয়স্পর্শী। তাবু আজও মানুষ যে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা রাখে তার উদাহরণ এই ঘটনা। স্থানীয় সমাজসেবী সন্দীপ সিংহ জানিয়েছেন, গতকাল রাত্রে বিশেষ সুত্র মারফত তারা জানতে পারেন যে, বুড়ীশোলের ভূমিজ আদিবাসী যামিনী ভূঁইয়ার পরিবার বিগত কয়েকদিজে,ধরে নাকি অনাহারে রয়েছে। খবরটি শোনা মাত্রই স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব হারাধন দুয়ারীকে বিষয়টি সরজমিনে দেখতে বলা হয়।এরপর তিনি ওই আদিবাসী পরিবারের সকলের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানতে পারেন। রাতেই ওই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সকলের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে রাতেই প্রশাসনের কর্তা ব্যাক্তিদেরও সব কিছু জানানো হয়। সকাল হতেই মৃনাল কোয়াড়ী, ভোম্বল ঘোষ এবং হারাধন দুয়ারিকে সঙ্গে নিয়ে সন্দীপ সিংহ পৌঁছে যান যামিনী ভূঁইয়ার বাড়ি। 

তারপরের ঘটনা এই পরিবারের জন্য সদর্থক হলেও এই পরিবারের অবস্থা হৃদয়স্পর্শী। স্বামী পরিত্যক্তা যামিনী ভূঁইয়ার দুই মেয়ে এবং এক ছেলে। ছোটো ছেলে পিন্টু ভূঁইয়া টিউবারকিলোসিসে আক্রান্ত। দুই মেয়ে প্রতিমা ভূঁইয়া ও কৃষ্ণা ভূঁইয়া মূক ও বধির মানসিক প্রতিবন্ধী। সমাজের ক্রুরতা এই মূক ও বধির প্রতিমাকে দুবার দুই পুত্র সন্তানের জননী করেছে। কিন্তু পিতৃপরিচয় দেয়নি। অদৃষ্টের আশীর্বাদে অনাহারক্লিষ্ট এই ৩-৪ বছরের দুটি ছেলেই সুস্থ।


মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর প্রকল্পে ২ টাকা করে সপ্তাহান্তে মোট ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা এই পরিবারের। কিন্তু মদ্যপ যামিনী ভূঁইয়া রেশন কার্ড বন্ধক দিয়ে মদের খরচা জোগাড় করেছেন ৷ সচেতনতার অভাবে ও এলাকার কিছু মানুষের জন্য পরিবারটি প্রায় অনাহারে দিনযাপন করছিল। স্থানীয় প্রাথমিক স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অভিজিত ঘোষ নিজের বিদ্যালয়ের মিড ডে মিল থেকে দীর্ঘদিন যাবত এই পরিবারটির মুখে নিজে গিয়ে খাবার পৌঁছে দিয়ে আসেন। বিদ্যালয় বন্ধ থাকলে পরিবারটির আর খাবার জোটে না সেদিন। 

এদিন সব দিক থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো হল। নষ্ট হয়ে যাওয়ার ত্রিপল দিয়ে আপাতত ঘরের ছাউনি দেওয়ার ব্যাবস্থা করা হয়েছে।ব্লক থেকে এসেছে ত্রানসামগ্রী। পরিবারের মদ খাওয়ার প্রবনতার জন্য খাদ্য সামগ্রী বেশি দেওয়া হয়েছে, নগদ অর্থের তুলনায়। এলাকায় যারা রেশন কার্ড বন্ধক রাখে তাদের বাড়ি গিয়ে নিষেধ করা হয়েছে এই অনৈতিক কাজ করতে। পাশাপাশি রেশন ডিলারকে জানানো হয়েছে যামিনী ভূঁইয়ার রেশন যেন অন্য কেউ আর না তোলে। 

শালবনী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নেপাল সিংহ এবং বিডিও পুষ্পল সরকারকে পুরো ব্যাপারটি অবহিত করা হয়। বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর থেকে এদিনই ওই পরিবারটির কাছে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।যে কোনো ফান্ড থেকে একমাসের মধ্যে নতুন বাড়ি দেওয়ার বা পুরানো বাড়িটি সম্পূর্ণ মেরামত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এই ঘটনার পর শালবনী থানার আই সি বিশ্বজীত বাবু এলাকায় বেআইনি মদের দোকানগুলি বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন। 

সন্দীপ সিংহ জানিয়েছেন, যামিনী ভূঁইয়া র দুই মেয়ের যাতে প্রতিবন্ধী কার্ড করানো যায় এবং মমতা ব্যানার্জীর মানবিক প্রকল্পে তাদের সাহায্য করা যায় তার জন্য তিনি বিশেষ উদ্যোগ নেবেন।তিনি অভিযোগ করেছেন, ২০১৪ সাল থেকে দুঃস্থ মানুষদের দুবেলা খাওয়ার দিতে কেন্দ্র সরকারের প্রকল্প "সহায়" বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শালবনীর আনুমানিক ৩০০ জন বঞ্চিত হচ্ছে। শালবনীতে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নেপাল সিংহ ও বিডিও পুষ্পল সরকারের সদর্থক প্রয়াস এই এলাকার মানুষকে নতুন করে সুস্থ ভাবে বাঁচার প্রেরণা যোগাচ্ছে।

আমলাশোলের ছায়া শালবনীতে, শালবনীর প্রশাসন পাশে দাঁড়ালো আদিবাসী পরিবারের
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top