728x90 AdSpace

Latest News

Thursday, 24 May 2018

কাটোয়ার জগদানন্দপুরে ৮২ ফুট উচ্চতার পাথরের মন্দির প্রাচীন স্থাপত্যকলার এক আশ্চর্য নিদর্শন


গৌরনাথ চক্রবর্ত্তী, কাটোয়াঃ পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার কাটোয়া-কালনা এসটিকেকে রোড থেকে ৭ কিমি দূরে জগদানন্দপুর গ্রামে ৮২ ফুট উচ্চতার পাথরের মন্দির  আজও পৌরাণিক স্থাপত্য কলার নিদর্শন বহন করে চলেছে। জানা যায়,মন্দিরটি ১৮৩৯ খ্রীষ্টাব্দে জগদানন্দপুরের বাসিন্দা তথা বর্তমানে বাংলাদেশের যশোহর জেলা সংলগ্ন এলাকার জমিদার রাধামোহন ঘোষ চৌধুরী নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর পিতার নাম কৃষ্ণদুলাল ঘোষ চৌধুরী। চৌধুরী পরিবারের কুল দেবতা রুপে পুজিত হতেন ভগবান দামোদর ও লক্ষ্মী-নারায়ণ। সেবার সুবিধার্থে লক্ষ্মী -নারায়ণকে আলাদা করে স্থানান্তরিত করা হয় বিষ্টু মহলে। বর্তমানে পাথরের মন্দিরটিতে দামোদর শিলা,আড়াইফুট উচ্চতার  রাধা-কৃষ্ণ মূর্তি ও নিমকাঠের নির্মিত শ্রীচৈতন্য দেবের মূর্তি পূজিত হচ্ছে।


উল্লেখ্য, মন্দিরটির সেবাভার বর্তমানে নবদ্বীপের গৌড়ীয় মঠের অধীনে রয়েছে। মন্দিরটি দেখাশোনার দায়িত্বে আছে রাজ্যের পুরাতত্ত্ব বিভাগ। পুরাতত্ত্ব বিভাগ ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকবার লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করে মন্দিরটি সংস্কার করেছেন। ২০০৬ সালে প্রায় ৩০লক্ষ টাকা এবং ২০১৭ সালে প্রায় ১২লক্ষ টাকা ব্যয় করে মন্দিরটি সংস্কার করা হয়। ফলে মন্দিরটি দর্শনার্থীদের জন্য  যেমন একটি দর্শনীয়  স্থানের স্বীকৃতি পেয়েছে তেমনই এটি একটি মনোরম জায়গা হিসাবেও পরিচিতি লাভ করেছে।

দর্শনার্থীরা সকাল ৮থেকে ১০টার মধ্যে মন্দির কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারলে দিপ্রাহরিক ভোগের ব্যবস্থাও রয়েছে। মন্দিরটিকে ঘিরে ফল ও ফুলের গাছের বিরাট বাগান মন্দির চত্বরকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

  


ইতিহাস গবেষক অশেষ কয়াল জানালেন যে,মথুরা-বৃন্দাবন-মির্জাপুর থেকে বেলেপাথর যমুনা ও গঙ্গা নদী পথে নৌকাযোগে আনা হয়েছিল এই মন্দির তৈরির উদ্দেশ্যে। উত্তরপ্রদেশ থেকে ১৫-২০টি পরিবা্রের পাথর শিল্পীরা এখানে এসে এই বিশাল মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন।পাথরগুলি জোড়া দেওয়ার জন্য কোনো ্ধাতু বা অন্য কিছু ব্যবহার করা হয় নি।পাথরের উপর পাথর চাপিয়ে খাঁজ কেটে খিলান পদ্ধতিতে এই বিশাল পাথরের মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছিল।পঞ্চরত্ন এই মন্দিরটিতে সূক্ষ্ম পাথরের কাজগুলি শ্লেট পাথরের উপরে খোদাই করে মন্দির গাত্রে বসানো আছে।

প্রতিবছর দোলপূর্ণিমায় মন্দিরের সামনের মাঠে মেলা বসে ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।রাধা অষ্টমী তিথিতে বিশেষ অনুষ্ঠান পালন করা হয় এবং ৫২ রকম ব্যঞ্জন দিয়ে পূজা ও ভোগপ্রসাদ দেওয়া হয়। দোতলা মন্দিরের উপর তলায় প্রধান পুরোহিতের বসার আসন ও শ্রোতাদের  বসে ধর্মকথা শোনার  বিশাল বারান্দা রয়েছে। 


আশ্চর্যের বিষয় এটা যে,আজ থেকে প্রায় ১৫০ বছর আগে যখন বিজ্ঞানের এত উন্নতি হয়নি, তখনকার দিনে কি করে অত ভারী পাথরগুলি অত উচ্চতায় তোলা সম্ভব হয়েছিল এই ভেবে আজও দর্শনার্থীদের অবাক হতে হয়। বর্ধমান জেলায় এরকম দ্বিতীয় কোনো পাথরের এত বড় মন্দির নেই।কলকাতায় বিড়লাদের পাথরের মন্দিরটি বাদ দিলে পশ্চিমবঙ্গেও এর বিকল্প পাথরের মন্দির খুঁজে পাওয়া কঠিন।দেশ-বিদেশে থেকে দর্শনার্থীরা মন্দিরটি দেখতে আসেন এবং প্রাচীন এই স্থাপত্যের দিকে তাকিয়ে হতবাক হয়ে যান।
কাটোয়ার জগদানন্দপুরে ৮২ ফুট উচ্চতার পাথরের মন্দির প্রাচীন স্থাপত্যকলার এক আশ্চর্য নিদর্শন
  • Title : কাটোয়ার জগদানন্দপুরে ৮২ ফুট উচ্চতার পাথরের মন্দির প্রাচীন স্থাপত্যকলার এক আশ্চর্য নিদর্শন
  • Posted by :
  • Date : May 24, 2018
  • Labels :
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top