728x90 AdSpace

Latest News

Monday, 14 May 2018

পূর্ব বর্ধমান জেলায় বহু জায়গায় ব্যালট লুঠ, আগুন লাগিয়ে ফেলা হল পুকুরে


ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,পূর্ব বর্ধমানঃ রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন জেলায় পঞ্চায়েত ভোটের বলির সংখ্যা যখন ১৪ তখন পূর্ব বর্ধমান জেলায় বিক্ষিপ্ত কয়েকটি হিংসার খবর ছাড়া মোটের উপর শান্তিপূর্ণই ছিল ভোট পর্ব। যদিও বহু জায়গায় ব্যালট বক্স লুঠ, বিরোধীদের হাতে শাসক দলের কর্মীদের আক্রান্ত হওয়া আবার শাসক দলের হাতেও বিরোধীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে।

এদিন দুপুর প্রায় সাড়ে এগারোটা নাগাদ মেমারি ২ এর ছোট মশাগড়িয়ার ১০৩ নং বুথে ঢুকে পড়ে একদল দুষ্কৃতি। আচমকাই তাঁরা ব্যালট পেপার লুঠ করে পালিয়ে যান। এই ঘটনায় এই বুথে ভোট বন্ধ করে দেওয়া হয়। ব্যালট লুঠে বাধা দেওয়ায় বুথের ভোটকর্মীদের মারধোর করা হয়। এই বুথে মোট ভোটার রয়েছেন ৪১৫। বুথের ভোটকর্মীরা জানিয়েছেন, সকাল থেকে প্রায় শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট প্রক্রিয়া চলছিল। প্রায় ৬০ টি ভোট হওয়ার পর আচমকাই তাদের মারধোর করে দুষ্কৃতিরা ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। এই ঘটনায় তাঁরা রীতিমত আতংকিত হয়ে পড়েন। এরই পাশাপাশি এদিন মেমারীর গন্তার-২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের কবীরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯৬ নং বুথে দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে প্রথম ছাপ্পা ভোট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তা নিয়ে বিরোধী সিপিএম, বিজেপিই শুধু নয় রীতিমত গ্রামবাসীরাও ক্ষীপ্ত হয়ে ওঠেন। এরই মাঝে কয়েকজন দুষ্কৃতি বুথের ভেতর থেকে ব্যালট পেপার লুঠ করে তা বুথের বাইরে ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। কয়েকজন দুষ্কৃতি ব্যালট বক্সগুলিকে তুলে নিয়ে পাশের একটি পুকুরের জলে ফেলে দেন। গ্রামবাসীদের সামনেই এই ঘটনা ঘটার পরেই রীতিমত ক্ষীপ্ত হয়ে ওঠেন গ্রামবাসীরা। তাঁরা কয়েকজন দুষ্কৃতিকে ধরে ফেলেন। বাকিরা পালিয়ে যায়। গ্রামবাসীরা ধৃত কয়েকজন দুষ্কৃতিকে রীতিমত ফেলে পেটান। পরে তাদের গ্রামছাড়া করে দেন গ্রামবাসীরা।

 
এদিকে, মেমারীর গন্তার ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কবীরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর মেমারীর বাহারপুর মন্ডলজোনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৯/১ নং বুথে ব্যালট লুঠ করে দুষ্কৃতিরা। মেমারীর কবিরপুরের পাশাপাশি ভোট বন্ধ হয়ে যায় মণ্ডলজোনা গ্রামে। প্রিসাইডিং অফিসার জানান, সকাল থেকে ভোট শান্তিপূর্ণ হচ্ছিল। কিন্তু ১১ টার পর একদল দুস্কৃতি মুখে কালো কাপড় বেঁধে বুথে ঢুকে বুথের দখল নেয়। কিছুক্ষণ পর গ্রামবাসীদের একাংশ বুথ থেকে ব্যালট বাক্স নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ব্যালট বাক্স উদ্ধার করে। তবে আর নতুন করে ভোট নেওয়া হয় নি। কার্যত দুপুর ৩ টে বাজতে না বাজতেই ভোটকর্মীরা পাততাড়ি গুটিয়ে চলে যান। 

এরই পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমানের ভাতাড়ের সাহেবগঞ্জ ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ওড়গ্রাম আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪১ নং বুথের বাইরে বোমাবাজি ও বুথে ভাঙচুরের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। ব্যালট পেপার ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। তৃণমূল ও নির্দলের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষও ঘটে। ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়। অপরদিকে, রায়না ১নং ব্লকের রাজীনগরে ভোটকর্মীদের বুথের বাইরে বার করে দিয়ে ব্যালট বাক্স খুলে বিজেপি ও সিপিএমের পক্ষে পড়া ব‌্যালট বার করে সেগুলি পুড়িয়ে দেবার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন দুষ্কৃতির দিকে। এমনকি ব্যালট পুড়িয়ে দেবার পর বাকি ব্যালট পেপার গণনার কাজও শুরু করে দেয় কয়েকজন। এব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তারাই উল্টে জানান, নির্বাচন কমিশনের কাজ এগিয়ে রাখছেন তাঁরা। 

অন্যদিকে, এদিনের সামগ্রিক ভোট সম্পর্কে জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, বেশ কিছু অভিযোগ তাঁরা পেয়েছেন। সেগুলি খতিয়ে দেখা হবে। এরপরই পুননির্বাচন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পূর্ব বর্ধমান জেলায় বহু জায়গায় ব্যালট লুঠ, আগুন লাগিয়ে ফেলা হল পুকুরে
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top