728x90 AdSpace

Latest News

Saturday, 7 April 2018

মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সিপিএম-তৃণমূল সংঘর্ষে রণক্ষেত্র বর্ধমান



ফোকাস বেঙ্গল ডেস্ক,বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রথম দিন থেকেই বিরোধীরা শাসকদলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে সরব হয়েছিল। মনোনয়ন কেন্দ্র থেকে মারধর করে মনোনয়নপত্র কেড়ে নিয়ে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বিরোধীদের বের করে দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছিল। শনিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সিপিএম - তৃণমূল সংঘর্ষে জেলাশাসকের দপ্তরের সামনেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। ইট বৃষ্টি, ইলেক্ট্রিক টিউব লাইট বর্ষণ,লাঠি নিয়ে একে ওপরের দিকে তেড়ে যাওয়া,মারধর সব মিলিয়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এলাকায়। ইটের আঘাতে মাথা ফেটেছে সিপিএম এর এক নেতার। ওপর দিকে সিপিএম এর লাঠির আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে তৃণমূলের এক কর্মী। দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের ১২ জন এবং সিপিএমের ১০জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করেছে।

শনিবার মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে অশান্তি হতে পারে জেনে এদিন সকাল থেকেই জেলাশাসকের ক্যাম্পাসে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। যদিও মনোনয়ন কেন্দ্রের ২০০মিটারের মধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় অবাঞ্ছিত জমায়েত ছিল চোখে পরার  মত। এদিনও বিজেপি,সিপিএম এবং এস ইউ সি এই এর পক্ষ থেকে শাসকদলের বিরুদ্ধে প্রার্থীদের মারধর,মনোনয়ন পত্র ছিঁড়ে দেওয়া সহ মনোনয়ন কেন্দ্র থেকে জোর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

 এদিন দুপুর প্রায় সাড়ে বারোটা নাগাদ বর্ধমানের সিপিএম পার্টি অফিস থেকে বিশাল মিছিল সহযোগে সিপিএমের প্রার্থীদের নিয়ে হাজির হন জেলা নেতারা। মিছিল নিয়ে তাদের ঢুকতে বাধা দেয় পুলিশ। তা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তিও হয়। পরে পুলিশ প্রার্থীদের ঢোকার ব্যবস্থা করে দেয়। এদিকে, প্রার্থীদের মনোনয়ন কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেবার পরই উত্তেজনা চরমে ওঠে। উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে সরব হয় সিপিএম নেতৃত্বরা। পাল্টা প্রতিবাদ করে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা। এরপরই দুপক্ষের মধ্যে শুরু হয় ব্যাপক সংঘর্ষ। মূহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এই ঘটনার পরই দুই মহকুমা শাসকের উপস্থিতিতে মনোনয়ন কেন্দ্রের মধ্যে ঢুকে পড়ে একদল দুষ্কৃতি। মনোনয়ন কেন্দ্রের মধ্যেই এবং খোদ দুই মহকুমা শাসক ও পুলিশ কর্মীদের উপস্থিতিতেই ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে। মারধোর করে, মনোনয়নপত্র ছিঁড়ে দিয়ে মনোনয়ন কেন্দ্র থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বিরোধী প্রার্থীদের।

মারের হাত থেকে বাদ যায়নি মহিলা ও শিশুও। মনোনয়ন কেন্দ্রের মধ্যেই মাথা ফেটে যায় এক প্রার্থীর। এই সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গেলে পাল্টা মহকুমা শাসকরা চড়াও হন সাংবাদিকদের ওপর। কর্তব্যরত সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করে দেবার চেষ্টা করা হয়।

এদিনের ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সাধারণ সম্পাদক তথা রায়না কেন্দ্রের জেলা পরিষদ প্রার্থী উত্তম সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, পরিকল্পিতভাবেই এদিন সিপিএম হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন নেতা ও কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। সিপিএমের বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। 

অপরদিকে, সিপিএমের জেলা সম্পাদক অচিন্ত্য মল্লিক পাল্টা অভিযোগ করে জানিয়েছেন, গোটা জেলা জুড়েই তৃণমূল সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছে। এদিন পুলিশের সামনেই তাঁদের প্রার্থীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। মনোনয়ন কেন্দ্রের মধ্যে ঢুকে প্রার্থীদের মেরে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। 
                                                                                                             ছবি - সুরজ প্রসাদ 

মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সিপিএম-তৃণমূল সংঘর্ষে রণক্ষেত্র বর্ধমান
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Top